Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৬-০৩-২০১৭

ভিক্ষা ছাড়া গেল না, তাই টাকা ফেরত

ভিক্ষা ছাড়া গেল না, তাই টাকা ফেরত

রাজবাড়ী, ০৩ জুন- এক লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছিল এক ভিক্ষুককে। শর্ত ছিল তাঁকে ভিক্ষা ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু ভিক্ষা থেকে তাঁর মন সরানো যায়নি। অবশেষে তিনি টাকা ফেরত দিয়েছেন।

ওই ভিক্ষুকের নাম রতন শেখ। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার উত্তর দৌলতদিয়া কিয়ামউদ্দিনপাড়ার বাসিন্দা।

রাজবাড়ীর সংগঠন (এনজিও) কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থার (কেকেএস) উদ্যোগে জেলা ভিক্ষুকমুক্ত করার অংশ হিসেবে এই টাকা দেওয়া হয়েছিল।
এনজিও কেকেএস সূত্রে জানা যায়, রতনের দুটি পা পঙ্গু। চারজনের সংসার। তিনি ২৮ বছর ধরে দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটে ভিক্ষা করেন। তিনি কয়েকবার ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিতে চেয়েছেন। বিষয়টি জানতে পারেন কেকেএসের নির্বাহী পরিচালক ফকীর আবদুল জব্বার। 

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক সহযোগিতায় রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নে সমৃদ্ধি কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি রতন শেখকে এক লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে এই এক লাখ টাকা দিয়ে মুদি দোকান করে সংসার চালানোর কথা অঙ্গীকার করেন।

তাঁকে সংস্থার পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। টাকা নিয়ে দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটে মুদি দোকান শুরু করেন রতন। এতে তাঁর সংসার চলে যাচ্ছিল। কিন্তু পাঁচ-ছয় মাস পর তিনি আবার ভিক্ষা শুরু করেন। বিষয়টি ধরা পড়ায় সংস্থার লোকজন হাজির হন তাঁর বাড়িতে। এ সময় তিনি মাফ চেয়ে নেন। 

এরপর তিনি আবারও ভিক্ষার জন্য ঢাকা যাওয়ার উদ্যোগ নেন। তাঁকে ফের বোঝানো হয়। সম্প্রতি রোজার মাঝে তিনি চূড়ান্তভাবে ঢাকায় ভিক্ষা করার জন্য প্রস্তুতি নেন। বিষয়টি জানার পর কেকেএসের কর্মকর্তারা রতনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রতন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ২৮ মে এক লাখ টাকা ফেরত দিয়ে দেন।

রতন শেখ মুঠোফোনে বলেন, বড় ছেলে বিয়ে করে আলাদা থাকে। এক ছেলে স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। তিনি এখন ঢাকাতে অবস্থান করছেন। টাকা নিয়ে তিনি একটি দোকানে মালামাল তোলেন। কিন্তু দোকানে যা আয় হয়, তা দিয়ে ঠিকমতো সংসার চলে না। এ কারণে তিনি তাঁর আগের পেশা বেছে নিয়েছেন।

কেকেএসের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘রতনসহ চারজনকে এক লাখ করে টাকা দেওয়া হয়েছিল। অন্যদের মতো রতনও ব্যবসা করছিল। কিন্তু হঠাৎ ওর যেন কী হয়। সে আবারও ভিক্ষায় নেমে পড়ে। এতে আমরা টাকা ফেরত নিয়েছি।’

আর/১০:১৪/০৩ জুন

রাজবাড়ী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে