Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৯-১৩-২০১৭

বুকের দুধ না খাওয়ালে বাড়ে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি

বুকের দুধ না খাওয়ালে বাড়ে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি

বর্তমানে স্তন ক্যান্সার নারীদের কাছে একটি আতংকের নাম। পুরুষের চেয়ে নারীদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে ১০০ ভাগ বেশি। আর নারীরা তাদের নিজেদের এই গোপন অঙ্গের রোগগুলো সহজে কারো কাছে বলতে চান না। ফলে তারা স্তন ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

এছাড়া বেশিরভাগ নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন না। স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তবে যেসব মায়েরা সন্তানদের বুকের দুধ খাওয়ান না, তাদের স্তন ক্যান্সারে ঝুঁকি বেশি।

স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা যুগান্তরকে জানিয়েছেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন (ক্যান্সার ইপিডেমিওলজি বিভাগ)।

হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন যুগান্তরকে বলেন, নারীরা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন সবচেয়ে বেশি। এজন্য এক্ষেত্রে নারীদের সচেতন হতে হবে। কারণ একজন সুস্থ মা একজন সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশের বেশিরভাগ নারীরা তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন না।

এছাড়া তারা ডাক্তারের কাছে যেতে চান না।তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৫ হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। আর মারা যান আট হাজারের মতো। সচেতনতা আর না জানার জন্য এই রোগ প্রতিনিয়ত বিস্তারলাভ করছে। আমাদের দেশে ৪০ বছরের পর নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে থাকে।  তবে যেকোনো  সমস্যায় অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

বিভিন্ন কারণে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। তবে এই কারণগুলো কিছু হচ্ছে নিয়ন্ত্রণযোগ্য আর কিছু হচ্ছে অনিয়ন্ত্রণযোগ্য। নিচে হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের আলোচনা থেকে স্তন ক্যান্সারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।

নিয়ন্ত্রণযোগ্য কারণ:
সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো : অনেক নারী আছেন যারা সন্তানদের বুকের দুধ খাওয়ান না। এতে করে একদিকে সন্তান অপুষ্টিতে ভোগে আরেকদিকে মায়ের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই অবশ্যই সন্তানকে দেড় থেকে দুই বছন বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।

মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রক্তক্ষরণ : বেশিরভাগ নারীদের ৫০ বছরের পর মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। ৫০ বছর বয়সের পর নারীদের যদি মাসিক বন্ধ হয়ে রক্তক্ষরণ হয়, তবে তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে।

লাল ও চর্বিযুক্ত মাংস না খাওয়া : লাল ও চর্বিযুক্ত মাংস স্তন ক্যান্সারে ঝুঁকি বাড়ায়। তাই লাল ও চর্বিযুক্ত পরিত্যাগ করতে হবে। এছাড়া প্রোটিনজাতীয় খাবার যেমন-মাছ, গুরুর ও খাসির মাংস, দুধ, ডিম স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

অতিরিক্ত স্বাস্থ্য : আপনার স্বাস্থ্য যদি বেশি বেড়ে যায় অথবা আপনি যদি অতিরিক্ত মোটা হয়ে যান। এসব নারীর স্তন ক্যান্সারের  ঝুঁকি বেশি থাকে।

দেরিতে বিয়ে : যেসব নারী ৩০ বছরের অধিক পরে বিয়ে করেন তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে। আর ৩০ বছরের মধ্যে যারা বিয়ে করেন তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কম।

অনিয়ন্ত্রণযোগ্য কারণ :

অনিয়মিত মাসিক : অনিয়মিত, দীর্ঘস্থায়ী বা নির্দিষ্ট সময়ের আগে মাসিক হলে তা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া অনেক কিশোরী আছেন যাদের ১৩-১৪ বছরের মধ্যে মাসিক হওয়ার কথা থাকলেও দেখা যায় ১০ বছরেই মাসিক হয়ে যায়, তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি।

অবিবাহিত ও নিঃসন্তান : অবিবাহিত ও নিঃসন্তান নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। কারণ তারা সন্তানকে কখনো স্তন পান করাননি তাই ঝুঁকি বেশি থাকে।

বংশগত : বংশগত কারণে নারীদের স্তন ক্যান্সার হয়। যেমন কারো মায়ের যদি স্তন ক্যান্সার হয়, তবে মেয়েরও হতে পারে।

আর/১২:১৪/১৩ সেপ্টেম্বর

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে