Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৯-১৩-২০১৭

প্রতিরোধে প্রস্তুতি নিচ্ছে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা যুবক!


প্রতিরোধে প্রস্তুতি নিচ্ছে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা যুবক!

মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে দেড় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা যুবক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কয়েকটি সূত্রও রোহিঙ্গা যুবকদের প্রস্তুতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। মা, বোন, স্ত্রীর সম্ভ্রম কেড়ে নেওয়া হয়েছে, বোনকে তুলে নেওয়া হয়েছে। বাবা ও ভাইকে হত্যা করেছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সন্ত্রাসীরা। এমন পরিস্থিতিতে অনেক রোহিঙ্গা যুবকই এখন প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সূত্র। তারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের হারানোর আর কিছু নেই। তাই এখন থেকে প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে রোহিঙ্গা যুবকরা। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টম্বর) দেশের একটি স্বনামধন্য গণমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেন।

সূত্রগুলো জানিয়ে, মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর দমনপীড়নের পর থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ঢল নামে। যাদের বেশির ভাগই নারী, শিশু, মধ্য বয়সী ও বৃদ্ধ। যুবকদের সংখ্যা খুবই কম। যে সব যুবক এসেছে তারা অধিকাংশই সবল নয়। এর মানে হলে-রোহিঙ্গা যুবকরা সেখানেই রয়ে গেছেন এবং সেখানে তারা কিছু একটা করছেন। কিন্তু কয়েকজন রোহিঙ্গা শরণার্থী জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গা যুবকদের হত্যা করেছে। সহিংসতার শুরু হওয়ার পূর্বেই মিয়ানমার বাহিনীর পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে টার্গেট করা হয় রোহিঙ্গা যুবকদের। এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করা হয়।

তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, রোহিঙ্গা যুবকরা বেশ কয়েক বছর ধরেই মিয়ানমার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা মাঝে-মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশেও অবস্থান করেছে। হয়তো সামরিক অভিযানের সময় কিছু নিরীহ যুবককে হত্যা করা হয়েছে। তবে বেশি সংখ্যক যুবকই জঙ্গলে অবস্থান করে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সূত্রগুলো জানায়, রোহিঙ্গা যুবকরা মিয়ানমার বাহিনীকে উচিত জবাব দিতে সব ধরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে তারা সব কিছু ভেবে-চিন্তে সিধান্ত নিচ্ছে। সময়-সুযোগ বুঝে তারা প্রতিরোধ সৃষ্টি করবে এবং বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে শরনার্থী হয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিবে।

পালিয়ে আসা কয়েকজন রোহিঙ্গাদের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলাম, যুবকদের কি হয়েছে? উত্তরে তারা জানান, লড়াই করার জন্য যুবকরা রয়ে গেছে। তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে মিয়ানমার বাহিনীকে উচিত জবাব দেওয়ার জন্য। ঘুমধুম সীমান্ত কথা রোহিঙ্গা নেতা ইয়াকুব আলির সঙ্গে। তিনি আমাদের জানান, সীমান্তবর্তী ১০টি গ্রামের অন্তত দুই শতাধিক যুবক ‘স্বাধীনতার যুদ্ধে’ যোগ দিয়েছে আরাকান রোহিঙ্গা স্যানভেশন আর্মিতে ( এআরএসএ) যোগ দিয়েছে।

ইয়াকুব আলি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তাদের কী-ইবা করার ছিল! মা-বোন ও স্ত্রী সম্ভম কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বাবা-ভাইকে পশুর মতো খুন করা হচ্ছে। এর চেয়ে লড়াই করে মারা যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন তারা। এআরএসএ বিদ্রোহীদের ভারি অস্ত্র বলতে কিছুই নেই। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে ছুরি, ঘরে তৈরি বোমা এবং আগ্নেয়াস্ত্র। ফলে মিয়ানমারের সুসজ্জিত সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে কতটুকু টিকতে পারবে বিদ্রোহীরা, সে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। কিন্তু তাতে দমছেন না রোহিঙ্গারা।

মুহাম্মাদ হুসাইন নামের এক রোহিঙ্গা জানান, আমাদের শত শত যোদ্ধা পাহাড়ে অবস্থান নিয়েছে। আমরা আরাকানকে রক্ষায় শপথ নিয়েছি, সেটা চাকু এবং লাঠি দিয়ে হলেও আমরা করব। কুতুপালং ক্যাম্পে এক রোহিঙ্গা যুবকের মন্তব্য ছিল এমন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের তরুণরাও চিন্তা করছেন যুদ্ধে যোগ দেওয়ার। আমরা প্রতিজ্ঞা করেছি, প্রথম সুযোগেই আমরা সীমান্ত অতিক্রম করব।

আরএস/০৯:১৪/১৩ সেপ্টেম্বর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে