Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৯-১৪-২০১৭

আইনস্টাইনের টুকিটাকি

আইনস্টাইনের টুকিটাকি

আলবার্ট আইনস্টাইন আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অবিস্মরণীয় এক নাম। তার আবিষ্কৃত আপেক্ষিকতার সূত্র, আলোক তড়িৎ ক্রিয়া প্রভৃতি পদার্থবিজ্ঞানকে দিয়েছে নতুন প্রাণ। পদার্থবিজ্ঞানে অবদান, সহজ-সরল জীবন যাপন ও মানবতার কণ্ঠস্বর হিসেবে তিনি মানুষের মনে অমর হয়ে আছেন। জনপ্রিয় এ বিজ্ঞানী প্রেসিডেন্ট হওয়ার মতো লোভনীয় প্রস্তাবকেও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তার জীবনের আরো কিছু টুকিটাকি ঘটনা জেনে নেয়া যাক।

দেরিতে কথা বলতে শিখেছেন
স্বাভাবিক শিশুর তুলনায় আলবার্ট আইনস্টাইন দেরিতে কথা বলা শিখেছেন। এজন্য তার বাবা-মা খুব চিন্তায় থাকতেন, এমনকি আইনস্টাইনকে তারা চিকিৎসকের কাছেও নিয়ে গেছেন। নয় বছর বয়স পর্যন্ত তিনি ছিলেন বাকরুদ্ধ। তার প্রথম গল্প বলা নিয়ে একটি গল্পও প্রচলিত রয়েছে। একদিন আইনস্টাইনকে গরম স্যুপ দেওয়া হলে তিনি বলে উঠলেন, স্যুপ এত গরম কেন? এটাই নাকি তার প্রথম কথা ছিল। তখন আইনস্টাইনের বাবা-মা জিজ্ঞাসা করলেন এতদিন কেন কথা বলনি? এর উত্তরে নাকি তিনি বলেছিলেন, এতদিন সব ঠিক-ঠাক ছিল তাই বলার প্রয়োজন হয়নি।

ভাল ছাত্র ছিলেন না
আইনস্টাইন স্কুলে যেতে পছন্দ করতেন না, স্বভাবতই তিনি ভাল ছাত্র ছিলেন না। অংক ও বিজ্ঞানে খুবই ভাল থাকলেও অন্যান্য বিষয়ে ভাল ছিলেন না। আইনস্টাইনের বাবা যখন জার্মানি ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে চলে গেলেন তখন তিনি সুইস ফেডারেল পলিটেকনিক স্কুলে ভর্তি হতে চাইলেন। ভর্তি পরীক্ষায় অংক ও বিজ্ঞান ছাড়া বাকি সব বিষয়েই ফেল করেন। এরপর এক বছর পর তিনি এখানে ভর্তি হতে সক্ষম হন।


সঙ্গীত অনুরাগী
আইনস্টাইনের জীবনে সবচেয়ে প্রিয় ছিল লিনা। লিনা কোন নারীর নাম নয়, বেহালার নাম। পদার্থবিজ্ঞানের মতো একটি নিরস বিষয়ে গবেষণায় মেতে থাকা বিজ্ঞানীর সঙ্গীত-প্রেম রীতিমত মুগ্ধ করার মতো।

আইনস্টাইন বেহালায় মোজার্টের সুরই বেশি তুলতেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী এলসা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, বেহালায় তোলা মোজার্টের সুর শুনেই আমি আইনস্টাইনের প্রেমে পড়েছিলাম। সঙ্গীত আইনস্টাইনের জীবনে শখের চেয়েও বেশি কিছু ছিল। এলসা বলেন, যখন তিনি(আইনস্টাইন) তত্ত্ব নিয়ে চিন্তা করেন, সঙ্গীত তাকে সাহায্য করে। আইনস্টাইন নিজেও এ ব্যাপারে মুখ খুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমি আমার দিবা স্বপ্নগুলো সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে দেখি।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখান
১৮৭৯ সালের ১৪ মার্চ জার্মানির এক ইহুদী পরিবারে জন্ম নেওয়া আলবার্ট আইনস্টাইন পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আইনস্টাইনকে ইসরাইলের ইহুদীরা নিজেদের লোক হিসেবে মনে করতো। তারা আইনস্টাইনকে বিশ্বের সেরা ইহুদী হিসেবে অভিহিত করতো। আইনস্টাইনকে নিয়ে তাদের এক তরফা গর্বের শেষ ছিল না। ১৯৫২ সালে ইসরাইলের প্রথম প্রেসিডেন্ট শেয়েম ওয়েজম্যানের পর ইসরাইলিরা আইনস্টাইনকে তাদের প্রেসিডেন্ট হওয়ার অনুরোধ করে। আইনস্টাইন লোভনীয় প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। অনেকেই বলে থাকেন সেসময়ে এটা আইনস্টাইনের জন্য খুবই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। এ প্রস্তাব প্রত্যাখানের তিন বছর মাথায় ১৯৫৫ সালের ১৮ এপ্রিল তিনি মারা যান।

যে কারণে নোবেল পেয়েছিলেন
আপেক্ষিকতার সূত্র আবিষ্কার করার জন্য তিনি সকলের কাছে পরিচিত। সবাই মনে করে এ তত্ত্ব আবিষ্কারের জন্যই তিনি হয়তো নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু না, আইনস্টাইন ১৯২১ সালে নোবেল পেয়েছিলেন ‘আলোক তড়িৎ ক্রিয়া’ তত্ত্ব আবিষ্কার করার জন্য।

এজেন্ট
আইনস্টাইন যখন মার্কিন নাগরিকত্ব নিলেন এবং নিউ জার্সিতে বসবাস শুরু করলেন তখনো এফবিআই কর্মকর্তারা তাকে সন্দেহের চোখে রাখতেন। এফবিআই তাকে বিদেশী স্পাই মনে করতো। তারা আইস্টাইনের উপর ১৭৭ পৃষ্ঠার একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন তৈরী করে। এ প্রতিবেদনে আইনস্টাইনকে প্রচুর সমালোচনা করা হয়, তাকে একজন নৈরাজ্যবাদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যদিও শান্তি-প্রিয় আইনস্টাইন এর ধারে কাছেও ছিলেন না।


পারমানবিক বোমার বিস্ফোরণ চাননি
অ্যাটম বোমা তৈরিতে আলবার্ট আইনস্টাইন বিজ্ঞানীদের অনেক সূত্রের মাধ্যমে সাহায্যে করেছেন। তিনিই সর্বপ্রথম অ্যাটম বোমা তৈরি সম্ভব এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেছিলেন এবং তার এই উপলিব্ধই তাকে শঙ্কাগ্রস্থ করে তোলে। তার শঙ্কাটা ছিল হিটলার তথা জার্মানির এই শক্তি লাভের উপর। তাই তিনি তৎকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট কে তার শঙ্কার কথাগুলো জানান। মূলত আইনস্টাইন চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র যদি পারমানবিক শক্তিধর দেশ হতে পারে তাইলে জার্মানি পারমানবিক অস্ত্র প্রয়োগে বিরত থাকবে। প্রেসিডেন্ট তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ‘ম্যানহাটন’ প্রজেক্ট শুরু করেন। এই প্রজেক্টের তৈরি বোমা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমায়(৬ আগস্ট,১৯৪৫) এবং নাগাসাকিতে(৯আগস্ট,১৯৪৫) নিক্ষেপ করা হয়। নিক্ষিপ্ত বোমা দুইটির নাম ছিল যথাক্রমে ‘লিটলবয়’ এবং ‘ফ্যাটম্যান’। এই দুই বিস্ফোরনে প্রায় দুই লক্ষের উপর মানুষ মারা যায়। শান্তিপ্রিয় আইনস্টাইন হতে খুব হতাশ হন। তিনি বলেন, পারমানবিক বোমা আবিষ্কারের সাথে যেন তার নাম জড়ানো না হয়। এরপর আইনস্টাইন ব্রিটিশ লেখক, বিজ্ঞানী ও দার্শনিক বারট্রান্ড রাসেলের সাথে পারমানবিক অস্ত্র বিরোধী প্রচারণা শুরু করেন।  

আইনস্টাইনের ব্রেন
আইনস্টাইন ছিলেন এক বিস্ময়। ১৯৫৫ সালে তিনি মারা যাওয়ার পরেও তাকে নিয়ে মানুষের ঘোর কাটেনি। প্রাইসটন হাসপাতালে আইনস্টাইন মারা যান। এ হাসপাতালের প্যাথলজিস্ট থমাস হার্ভি আইনস্টাইনের মগজ খুলে রাখেন। তিনি এ মগজ কয়েকটি জারে সংরক্ষণ করেন। আইনস্টাইনের পরিবারের অনুমতি না নিয়ে মগজ রেখে দেওয়ায় হার্ভিকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

অবশেষে হার্ভি আইনস্টাইরে পুত্র হান্স আলবার্ট আইনস্টাইনকে বোঝাতে সক্ষম হন যে এই ব্রেন গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হবে। এতে করে বিজ্ঞানের অনেক উন্নতি হবে। হার্ভি আইনস্টাইনের ব্রেন বিভিন্ন গবেষকের কাছে দেন। তারা একেক জন একেক রকম ফলাফল দেন। কেউ বলেন তার মগজ স্বাভাবিকের চেয়ে বড় ছিল, কেউ বলেন তার মগজের ঘনত্ব বেশি ছিল আবার কেউ বলেন তার মগজের কার্যক্ষমতা বেশি ছিল। ১৯৯৮ সালে হার্ভি আইনস্টাইনের নাতনির সাথে দেখা করেন এবং অবশিষ্ট মগজ প্রাইসটন হাসপাতালে হস্তান্তর করেন।

আর/১২:১৪/১৪ সেপ্টেম্বর

জানা-অজানা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে