জামালপুরে ভোটকেন্দ্রে গোলাগুলি, গাড়িতে আগুন, পুলিশসহ আহত ৯
জামালপুর, ০৫ জানু্য়ারি – জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের মেরুরচর হাছেন আলী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহত হয়েছে পুলিশসহ ৯ জন।
এ ঘটনায় স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্রটি। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে। তবে তার নাম-ঠিকানা এখনো পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া কর্মী সমর্থকদের দেয়া আগুনে পুলিশের একটি পিকআপ ও তিনটি মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে। এছাড়াও আনসারদের বহন করা একটি গাড়ি ভাঙচুর করে উত্তেজিত লোকজন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশি অ্যাকশনের সময় আহত হয়েছে চারজন সাধারণ লোক। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর কর্মীদের আঘাতে আহত হয়েছেন পাঁচ পুলিশ সদস্য। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ। প্রার্থীর কর্মীদের ছোড়া পাল্টা গুলিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় ভোটকেন্দ্রসহ আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ভোটারসহ আহত সাধারণ মানুষ দৌড়ে পালিয়ে যায়।
আহতরা হলেন, বকশীগঞ্জ থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম সম্রাট, ওসি (তদন্ত) আব্দুর রহিম, কনস্টেবল আব্দুল আলিম (৪০), মো. শাহজাহান (৫৫), আ. মজিদ (৫৭) ও আনসার সদস্য আব্দুল আলিম (২৫)। আহত সাধারণ লোকদের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসকরা অ্যাম্বুলেন্সযোগে এসে ঘটনাস্থলেই আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। খবর পেয়ে র্যাব, ফায়ার সার্ভিসের দল, জামালপুর সদর উপজেলার এসিল্যান্ড তাহমিনা আক্তার, বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন জাহান লিজা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাল ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে দুপুর ১২টার দিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. সিদ্দিকুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস) মনোয়ার হোসেন হকের এজেন্টদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ খবর বাইরে ছড়িয়ে পড়লে লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয়পক্ষের কর্মীরা। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপে আগুন দেয়া হয়। সেইসঙ্গে নির্বাচনে ব্যবহৃত ৩টি মোটরসাইকেলেও আগুন দেয় উভয়পক্ষের উত্তেজিত লোকজন। পুলিশ গুলি ছুড়লে প্রার্থীদের কর্মীরাও পাল্টা গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষ চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এ সময় একজন গুলিবিদ্ধ হয়। আহত হয় আরও ৩ জন। উত্তেজিত কর্মীদের দেওয়া আগুনে গাড়িগুলো পুড়ে ভস্ম হবার সময় ফায়ার সার্ভিসের দল এসে আগুন নেভায়।
ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার বকশীগঞ্জ উলফাতুন্নেছা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
ওসি মো. শফিকুল ইসলাম সম্রাট বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ সময় লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া লোকজনের আঘাতে ৫ পুলিশ ও এক আনসার সদস্য আহত হন। উত্তেজিত কর্মীরা গুলি ছুড়লে পুলিশও ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তবে অজ্ঞাত গুলিবিদ্ধ ওই কর্মী পুলিশের গুলিতে আহত হননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন জাহান লিজা বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/০৫ জানুয়ারি ২০২২