
ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর – ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও দুই হাজার ২০৪ জন সুপারিশপ্রাপ্তকে নিয়োগ দিতে পারেনি সরকার। কবে তারা চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন তা-ও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের পর এসব প্রার্থীর বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়ায় নিয়োগ বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। নিয়োগ বিলম্বের কারণে চাকরিপ্রত্যাশীরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
গত ৩০ জুন দুই হাজার ২০৪ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। সাধারণ ক্যাডারে ৬১৩, সহকারী সার্জন ২২০, ডেন্টাল সার্জন ৭১, বিভিন্ন টেকনিক্যাল ক্যাডারে ৫৩২ এবং শিক্ষায় ৭৬৮ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। কিন্তু ফল প্রকাশের ছয় মাস পার হলেও এসব পদে নিয়োগ দিতে এখনো গেজেট প্রকাশ করতে পারেনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ফলে অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে না সুপারিশপ্রাপ্তদের।
চাকরিপ্রার্থীদের কয়েকজন জানান, ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশও হয়েছে অনেক দেরিতে। এখন নিয়োগেও দেরি হচ্ছে। বিসিএসে হওয়াতে তাদের অনেকে অন্য চাকরিতেও যোগ দেননি। দ্রুত তাদের চাকরিতে যোগদানের সুযোগ দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন : গাজীপুরে উদ্বোধন হলো ‘চেতনায় স্বাধীনতা’ ভাস্কর্য
২০১৭ সালের ২০ জুন ৩৮তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। আবেদন করেছিলেন তিন লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৮ জন। ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়। এর প্রায় দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৬ হাজার ২৮৬ জন উত্তীর্ণ হন। পরে লিখিত পরীক্ষায় ১৪ হাজার ৫৪৬ জন অংশ নেন। এ পরীক্ষা শেষ হয় ২০১৮ সালের ১৩ আগস্ট। পাস করেন ৯ হাজার ৮৬২ জন। গত ফেব্রুয়ারিতে তাদের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়।এর পর ২ হাজার ২০৪ জনকে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করে পিএসসি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ৩৮তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্তদের গেজেট প্রকাশ করতে আরও মাসখানেক সময় লাগতে পারে। সুপারিশপ্রাপ্তদের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া প্রতিবেদন যাচাাই-বাছাই চলছে। এই কাজ করতে তাদের একটু সময় লাগছে। এ ছাড়া করোনার কারণেও এবার ‘একটু’ বিলম্ব হচ্ছে।
গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় লাগছে ৩৮তম বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে। প্রায় সাড়ে তিন বছর শেষ হলেও এখনো নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। অথচ এর আগে ৩৫তম বিসিএসে প্রিলিমিনারি থেকে যোগদান পর্যন্ত সময় লেগেছে দুই বছর এক মাস আট দিন। ৩৬তম বিসিএসে প্রিলিমিনারি থেকে যোগদান পর্যন্ত সময় লেগেছে দুই বছর সাত মাস ২৫ দিন। ৩৭তমতে লেগেছে দুই বছর ছয় মাস সাত দিন।
আরও পড়ুন : বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পৌর মেয়র হলেন পাটমন্ত্রীর স্ত্রী
পিএসসি সূত্র জানায়, ফল প্রকাশের পর চূড়ান্ত নিয়োগ দিতে দেরি হলে অন্য নিয়োগগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অর্থাৎ অন্য নিয়োগগুলোতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে।
এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ- এপিডি) মো. মোকাম্মেল হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগের বিষয়ে কাজ চলছে। আশা করছি দ্রুত গেজেট প্রকাশ হবে। অবশ্য আর কতদিন লাগতে পারে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুনকে ফোন করা হলে তিনি কথা বলতে পারেননি। সংশ্লিষ্ট শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করার পরামর্শ দেন তিনি। তবে ৩৮তম বিসিএস নিয়ে তথ্য দিতে পারেননি মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখার উপসচিব মোস্তাফিজার রহমানও।
সুত্র : আমাদের সময়
এন এ/৩০ ডিসেম্বর









