বরিশাল

বরিশাল মহানগর আ.লীগের কমিটিতে মেয়র সাদিকের পরিবারেরই ৪ জন

বরিশাল, ৪ জানুয়ারি- অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীরকে সভাপতি ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদিক আবদুল্লাকে সাধারণ সম্পাদক করে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ কমিটি গঠিত হয় ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মহানগর কমিটির মেয়াদ তিন বছর। তবে ৭৫ সদস্যবিশিষ্ট এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন মিলেছে ১ বছর ২২ দিন পর গত শুক্রবার।

রোববার (৩ জানুয়ারি) রাত ৯টায় বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিক আবদুল্লাহ পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়।

কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ ছাড়াও তার পরিবারের অন্তত চারজন স্থান পেয়েছেন। তারা হলেন- সাদিক আবদুল্লাহর স্ত্রী লিপি আব্দুল্লাহ, মামা কাজী নজরুল ইসলাম মনু, চাচা (চাচাতো) আমান সেরনিয়াবাত ও ফুফাতো ভাই মোস্তফা কামাল।

আরও পড়ুন:  বিয়ের ২ মাসে সন্তানের জন্ম, পরদিনই স্ত্রীকে তালাক

এছাড়া, ১৯৯৬ সালে যাদের কারণে বরিশাল আওয়ামী লীগ বিতর্কিত হয়েছিল, তাদের কয়েকজনও রয়েছেন কমিটিতে। এর মধ্যে সর্বাধিক সমালোচিত ব্যক্তি হচ্ছেন রফিকুল ইসলাম খোকন। সবাই তাকে চেনেন ‘মামা খোকন’ নামে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ীসহ যাকে-তাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ছিল খোকনের বিরুদ্ধে। তার কর্মকাণ্ডে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছিল বরিশালের শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতাদের। পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগ থেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়। তাকেও এবারের কমিটিতে সদস্য পদে রাখা হয়েছে।

কমিটিতে এবারও শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছেন নিরব হোসেন টুটুল। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। নগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা টুটুলের বিরুদ্ধে ওই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বিএনপি নেতা সৈয়দ আকবর ওরফে আকবর শেঠের সঙ্গে মিলে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ সালে ফেনসিডিলের চালানসহ যৌথ বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে টেন্ডার, বদলি-ভর্তি-নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে টুটুলের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে, মাদকের দুই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি জাহিদুর রহমান মনিরকে এবারও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রাখা হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৮ এপ্রিল মাদক মামলায় আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন আদালত। এছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকলেও গত কমিটির দফতর সম্পাদক হুমায়ুন কবিরকে এবার কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে। একইভাবে গত কমিটির কোষাধ্যক্ষের পদে থাকা মেহেদি হাসান চৌধুরী বাদলকে এবারও সদস্য পদে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, কখনোই রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি এমন কয়েকজন ব্যক্তিকে কমিটিতে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দলের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে একেএম জাহাঙ্গীরকে সভাপতি ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদিক আবদুল্লাকে সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক নির্বাচিত হন। কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় এতদিন দুই নেতা চালাচ্ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগ। গত ১ জানুয়ারি বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই কমিটি অনুমোদন দেন। যা রোববার রাতে প্রকাশিত হয়।

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ কমিটিতে থাকা একাধিক নেতার দাবি, নতুন কমিটিতে মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি করা হয়েছে । এতে দল আগের তুলনায় আরও বেশি শক্তিশালী এবং গতিশীল হবে।

তবে পদ ও কমিটিতে ঠাঁই না পাওয়া নেতারা মনে করেন, মহানগর আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটিতে প্রাধান্য পেয়েছেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারীরা। কমিটিতে ত্যাগী ও দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন করা অনেক নেতারই ঠাঁই হয়নি।

এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘দলের জন্য যোগ্য ব্যক্তিদেরই যথাস্থানে মূল্যায়ন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর হলেও কমিটি প্রকাশের পর কর্মীদের মধ্যে চাঙ্গাভাব দেখা গেছে।’

সাদিক আবদুল্লাহর পরিবারের চার সদস্যের নাম থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যোগ্যতার ভিত্তিতেই তারা দলে আছেন বা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাদের কারণে দল আরও বেশি শক্তিশালী ও গতিশীল হবে।’

মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রয়েছেন-
সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর এবং সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। কমিটির ১১জন সহ-সভাপতি হলেন, অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম, অ্যাডভোকেট কেবিএস আহম্মেদ কবির, গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, আনোয়ার হোসাইন, আমীর হোসেন তালুকদার, সাইদুর রহমান রিন্টু, ইঞ্জিনিয়ার হেমায়েত উদ্দিন খান, নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট নাসির আহম্মেদ বাবুল, আবুল ফারুক হুমায়ুন ও বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেসা আফরোজ।

কমিটিতে হাসান মাহমুদ বাবু, কাজী মুনির উদ্দিন তারিক এবং অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার রাজিবকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। আইন বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ গোলাম মাসুদ বাবলু, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রাশেদ শাহনেওয়াজ খান রানা, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন ফিরোজ, দফতর সম্পাদক হেমায়েত উদ্দিন সেরনিয়াবাত সুমন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা সাইদুর রহমান কাশেমী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. চান মিয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম ঝন্টু, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর শাহনাজ পারভীন মিতা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এ এম জি কবির ভুলু, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মো. মাসুদ খন্দকার, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল, শ্রম সম্পাদক কায়সার হোসেন শিপন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান এবং স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক জহুরুল হক। ৩জন সাংগঠনিক সম্পাদক যথাক্রমে সৈয়দ নুর উদ্দিন শাহিন, এম. জাহিদুর রহমান মনির ও শেখ সাইদ আহম্মেদ মান্না। উপ-দফতর সম্পাদক পাপ্পা দাস, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জনি এবং কোষাধ্যক্ষ তৌহিদুল ইসলাম।

কমিটির ৩৬ জন সদস্য হলেন- মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম তোতা, আমান সেরনিয়াবাত, কাজী নজরুল ইসলাম মনু, অ্যাডভোকেট আনিচ উদ্দিন শহিদ. অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন, নিজামুল ইসলাম নিজাম, অ্যাডভোকেট গোলাম কবির বাদল, এসএম জাকির হোসেন, ফরহাদ-বিন আলম জাকির, মেহেদী হাসান চৌধুরী বাদল, ফজুলল করিম শাহিন, মেজবাহ উদ্দিন জুয়েল, পরিমল চন্দ্র দাস, কামরুজ্জামান কারুন, মোস্তাফিজুর রহমান টুটু, কামরুল আহসান, আজিম সরোয়ার দিদার, আখতারুজ্জামান গাজী হিরু, অ্যাডভোকেট সামছুন্নহার মুক্তি, মেয়র সহধর্মীনি লিপি আবদুল্লাহ, মাহাবুব মোর্শেদ শামিম, মীর মিজানুর রহমান সোহেল, এটিএম শাহিদুল্লাহ কবির, হারুন-অর রশিদ, নজরুল ইসলাম নিলু, শরীফ মো. আনিছুর রহমান, শেখ মিজানুর রহমান দিপু, মজিবুর রহমান মৃধা, মজিবুর রহমান পনু, মোস্তফা কামাল, একেএম মোস্তফা সেলিম, কবির হোসেন, আফতাব হোসেন, মো. মেহেদী পারভেজ খান আবির এবং শেখ আরাফাত হোসেন বাবু।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/৪ জানুয়ারি


Back to top button
🌐 Read in Your Language