নোয়াখালী

ওবায়দুল কাদেরের ভাইয়ের বক্তব্যে স্পষ্ট হলো দলীয় কোন্দল

আনোয়ারুল হায়দার ও মো. তবিবুর রহমান টিপু

নোয়াখালী, ৬ জানুয়ারি- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুল কাদের মির্জার কিছু বক্তব্যে তোলপাড় চলছে স্থানীয় রাজনীতিতে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের বিষয়টি। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এখন দুই ভাগে বিভক্ত।

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই দলীয় কোন্দল প্রকাশ পায়। দলের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, জেলা আওয়ামী লীগে সক্রিয় দুটি পক্ষের মধ্যে একটির নেতৃত্বে রয়েছেন সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী। অপর পক্ষের নেতৃত্বে আছেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। এ দুটি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোলাটে হচ্ছে। সদ্য মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা এ দ্বন্দ্ব নিরসনে দ্রুত কেন্দ্রের ভূমিকা চান তারা। না হলে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে যেতে পারে।
আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা। তার বিজয় ঠেকাতে নানা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন তিনি।

গত কয়েকদিন বিভিন্ন সভায় তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, বৃহত্তর নোয়াখালীর কিছু নেতার ইন্ধনে নিজ দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচনে তার বিজয় ঠেকাতে মাঠে নেমেছেন। যাদের বিরুদ্ধে তিনি এমন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন নোয়াখালী ও ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের দু’জন সংসদ সদস্য, ফেনী পৌরসভা মেয়র প্রার্থী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও একজন ব্যাংকার। তিনবারের নির্বাচিত বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা তার বক্তব্যে আরও বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দুই-তিনটি আসন ছাড়া বাকি আসনে আওয়ামী লীগের এমপিরা পালানোর জন্য দরজা খুঁজে পাবেন না। এছাড়া তিনি জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন, ফেনীর একরাম হত্যার পুনর্তদন্ত ও বিচার দাবি এবং নোয়াখালীতে টেন্ডারবাজি বন্ধের দাবি জানান। তার এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তোলপাড় শুরু হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা বেড়েছে, কিন্তু দলের নেতাদের জনপ্রিয়তা বাড়েনি। টাকার বিনিময়ে মানুষকে চাকরি দেওয়া, টেন্ডারবাজি করাই স্থানীয় নেতাদের কাজ। তিনি বলেন, ১/১১-এর সময় নোয়াখালীর এক নেতা সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহম্মেদের ছোট ভাই মিনহাজ আহম্মেদ জাবেদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজের চামড়া বাঁচিয়েছেন। এখন সেই জাবেদই জেলা আওয়ামী লীগের বড় নেতা। অথচ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিনের মতো ত্যাগী ব্যক্তিকে উপদেষ্টা পদে রাখা হয়েছে। বৃহত্তর নোয়াখালীর আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা প্রয়াত আবদুল মালেক উকিল, শহীদ ইসকান্দার ও জননেতা নুরুল হকদের নোয়াখালীতে অপরাজনীতি চলছে। তাই তিনি অপরাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন :  ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার বক্তব্য ভাইরাল (ভিডিও)

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর মোবাইলে একাধিবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। বারবার খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম বলেন, আবদুল কাদের মির্জার উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিয়ে শিগগিরই দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করা হবে।

সূত্র: সমকাল

আর/০৮:১৪/৫ জানুয়ারি

 


Back to top button
🌐 Read in Your Language