সিলেটে কেটেছে অজানা শঙ্কা, ভ্যাকসিন গ্রহণে দেখা গিয়েছে ব্যাপক আগ্রহ

সিলেট, ০৮ ফেব্রুয়ারি – সিলেটে কেটেছে অজানা শঙ্কা, বেড়েছে আগ্রহ। তরুণ থেকে বৃদ্ধ, কেউ ইতোমধ্যে নিয়ে নিয়েছেন- কেউবা নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। প্রথমদিনই সিলেটে করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণে দেখা গিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানকে টিকাদানের মধ্য দিয়ে সিলেটে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন, সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আল আজাদসহ বিভিন্ন ব্যক্তি টিকা নেন। টিকা নেওয়ার পর ঘণ্টাখানেক তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এখন পর্যন্ত তাদের শরীরে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তাঁরাসহ যারাই করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছেন, সকলেই সুস্থ এবং ভালো আছেন।
টিকাদান কার্যক্রমের প্রথম দিন সিলেট মহানগরী ও জেলায় মোট করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন ১৫৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১১০ ও ৪৪৭ জন।
সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, সিলেট নগরীতে দুটি কেন্দ্র ও ১৩টি বুথে চলছে টিকাদান কার্যক্রম। কেন্দ্র দুটি হচ্ছে- সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিলেট বিভাগীয় পুলিশ (পুলিশ লাইন্স) হাসপাতাল। এর মধ্যে ওসমানী হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছে ১২টি বুথ এবং পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে ১টি বুথ।
আরও পড়ুন : সিলেটে প্রথম দিন ৯৪৮ জন টিকা নিয়েছেন
প্রথম দিন (রোববার) এ দুটি কেন্দ্রে মোট ৫ শ ২৯ জন নারী ও পুরুষ করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ৪৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩১৯ ও নারী ১৭০ জন। আর সিলেট বিভাগীয় পুলিশ (পুলিশ লাইন্স) হাসপাতাল করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে ৪০ জন নারী-পুরুষ। এর মধ্যে পুরুষ ৩৬ ও নারী ৪ জন।
অপরদিকে, টিকাদান কার্যক্রমের প্রথম দিন পুরো সিলেট জেলায় মোট ৯৪৮ জন গ্রহণ করেছেন ভ্যাকসিন। এর মধ্যে ৬৭৭ জন পুরুষ ও ২৭১ জন নারী।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র, উপজেলাগুলোর মধ্যে সিলেট সদরে ৮০, দক্ষিণ সুরমায় ৩৩, বিশ্বনাথে ২৮, গোলাপগঞ্জে ১০, বিয়ানীবাজারে ১২০, জকিগঞ্জে ৩৫, কানাইঘাটে ১১, জৈন্তাপুরে ১৩, ওসমানীনগরে ৪, বালাগঞ্জে ২৫, গোয়াইনঘাটে ৪০, ফেঞ্চুগঞ্জে ১০ ও কোম্পানীগঞ্জে ১০ জন করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন।
এছাড়াও সিলেট সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) রোববার ৮০ জনের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে ভ্যাকসিন। এর মধ্যে ৭৮ জন পুরুষ ও নারী দুইজন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল।
টিকা গ্রহণের পর সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনো টিকা পৌঁছেনি। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়ানোর ১১ মাসের মাথায় টিকা এল। এটি আমাদের জন্য গর্বের। আমি টিকা নিয়েছি, কোনো সমস্যাই হচ্ছে না। তাই কোনো অপপ্রচারে কান দেওয়া যাবে না। টিকা নেওয়াটাই হচ্ছে একজন সচেতন ব্যক্তির কর্তব্য।’
ফুটবলার রণজিত দাস অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘টিকা নিয়েছি। ভালো অনুভূতি। শরীরেও কোনো সমস্যা নেই।’
নগরীর খাসদবির এলাকার বাসিন্দা মোছা. ছায়া বেগম (৭৭) বলেন, ‘টিকা নিয়েছি। কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’
চিকিৎসক নওশিন তাসনিম বলেন, ‘প্রত্যেক সচেতন মানুষের টিকা নেওয়া উচিত।’
ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের সম্পর্কে সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, যারা টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্য থেকে অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। টিকা নিয়ে তারা ভালো আছেন এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বোধ করছেন না।
সবাইকে নির্ভয়ে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সূত্র : সিলেটভিউ২৪ডটকম
এন এইচ, ০৮ ফেব্রুয়ারি









