‘ভুল দল নির্বাচনই এমন ভরাডুবি ঘটিয়েছে’ : খালেদ মাহমুদ সুজন

ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি – টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে টাইগারদের বেহাল দশায় রাজ্যের হতাশা ব্যক্ত করেছেন বোর্ড পরিচালক ও গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন। টেস্ট সিরিজে টাইগারদের হোয়াইটওয়াশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অনেক কথার ভিড়ে জাতীয় দলের এ সাবেক অধিনায়ক মূলতঃ পরিকল্পনা, কৌশল এবং একাদশ সাজানোয় বড় ধরনের ত্রুটিকে এই চরম ব্যর্থতার অন্যতম প্রধান কারণ বলে চিহ্নিত করেন।
খালেদ মাহমুদ সুজনের প্রথম কথা, ‘আসলে টিম ম্যানেজমেন্ট কি প্ল্যান করেছেন, কোন লক্ষ্য ও পরিকল্পনা আঁটা হয়েছিল, তা বলতে পারবো না। তাই দুর থেকে হয়ত তীর্যক ও নেতিবাচক কথা-বার্তা বলা ঠিক না। তবে দেখে মনে হয়েছে আমরা লক্ষ্যহীন ক্রিকেট খেলেছি। মনে হয় ট্যাকটিসও ভাল ছিল না।’
তার ধারণা ব্যাটসম্যানরা টেস্ট ম্যাচের মত ব্যাটিং করতে পারেনি। বল ও শটস সিলেকশন ভাল হয়নি। কয়েকজনের শটস খেলা এবং আউট হওয়ার ধরন খুবই দৃষ্টিকটু ঠেকেছে। সীমিত ওভারের খেলার মত টেস্টেও বেশ কিছু ‘সফট ডিসমিসাল’ হয়েছে। যা দেখতে মোটেই ভাল ঠেকেনি।
খালেদ মাহমুদ সুজনও মানছেন, এক বছর টেস্ট, জাতীয় লিগ এবং বিসিএলের মত দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট না খেলারও একটা নেতিবাচক প্রভাব ছিল। কিন্তু তার প্রশ্ন, ‘এক বছর টেস্ট খেলিনি। এতদিন টেস্ট খেলা থেকে দুরে থাকা একটা বড় ব্যাপার। আবার সেটাও বা বলি কী করে যে, মিরাজ তো আট নম্বরে নেমে সেঞ্চুরি করেছে! আসলে এ ব্যর্থতার কোন অজুহাত নেই। অমার্জনীয়।’
আরও পড়ুন : আম্পায়ারের সঙ্গে তুমুল তর্কে জড়ালেন কোহলি
সুজনের চোখে দুই টেস্টেই দল সাজানোয় ত্রুটি ছিল। তার মনে হয় চট্টগ্রাম এবং ঢাকায় অন্তত দুজন করে পেস বোলার খেলানো উচিৎ ছিল। তার অনুভব, ‘মোস্তাফিজ আর আবু জায়েদ রাহী দু’জনই সুইং বোলারের সাথে অন্তত একজন এক্সপ্রেস বোলার বিশেষ করে তাসকিন কিংবা হাসান মাহমুদকে খেলানো যেত। তাতে পেসবোলিংটা ধারালো হত। একইভাবে নাঈম হাসান ও মেহেদি হাসান মিরাজ- দুই অফস্পিনার খেলানোরও ঘোরতর বিপক্ষে সুজন। তার ভাষায় একই ক্যাটাগরি দু’জন স্পিনার খেলানোয় বোলিং বৈচিত্র্য কমে গেছে।’
শেষ টেস্টে সাদমানের বদলে স্পেশালিস্ট ওপেনার সাইফ হাসানকে না খেলানোর কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না সুজন। তার ব্যাখ্যা, ‘টেস্ট ম্যাচ হচ্ছে স্পেশালিস্টদের জায়গা। অবশ্যই সাদমানের বদলে একজন স্পেশালিস্ট ওপেনার খেলানো উচিৎ ছিল। আমরা সৌম্যকে যদিও বা নিলাম, তারপরও তাকে ৫ থেকে ৭ নম্বরে খেলানো উচিৎ ছিল। দুই টেস্টেই একজন করে বাড়তি পেসার খেলানো উচিৎ ছিল।’
এছাড়া প্রথম ম্যাচের ইনিংস ঘোষণাটি পছন্দ হয়নি এ সাবেক অধিনায়কের। ‘আমার মতে আরও একটু বেশি সময় ব্যাট করে তাররপর ইনিংস ঘোষণা করা উচিৎ ছিল। তাতে করে ওদের সামনে হিসেবটা আরও কঠিন হতো। হয়ত ক্যারিবীয়দের সামনে ৩৯৫ রানের নয়, লক্ষ্য দাঁড়াতো, ১১০ ওভারে ৪৩০-৪৪০। সেটা আরও একটু কঠিন হতো।’
তবুও জয় সম্ভব ছিল। কেন জিততে পারেনি, সে কারণ বিশ্লেষণ করেছেন সুজন। তিনি বলেন, ‘তারপরও হয়ত আমরা জিততাম। কিছু জায়গায় কৌশল বদল করা যেত। আমরা একইভাবে বোলিং করেছি। টেস্টে কখনো কখনো নেগেটিভ বোলিং করতে হয়। বিশেষ করে জুটি জমে গেলে তা ভাঙ্গতে নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে হয়। আমরা যখন দেখলাম যে জুটি তৈরি হয়ে গেছে। তখন ১০-১২ ওভার লেগসাইডে ফিল্ডার বেশি নিয়ে লেগে বল করতে পারতাম। তাতে করে যখন ক্যারিবীয়দের রান তোলার গতি কমে যেত, তখন তারা মরিয়া হয়ে রান করতে গিয়ে উইকেট দিয়ে আসতো।’
সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ১৬ ফেব্রুয়ারি







