মধ্যপ্রাচ্য

দ্রুত সৌদি যুবরাজের শাস্তি চান খাশোগির বাগদত্তা

রিয়াদ, ০১ মার্চ – সৌদি আরবের যুবরাজ মোহম্মদ বিন সালমানকে দ্রুত শাস্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন খুন হওয়া সাংবাদিক জামাল খাশোগির বাগদত্তা হাতিজে চেঙ্গিস। সোমবার এক টুইট বার্তায় এই দাবি জানান তিনি।

টুইটে চেঙ্গিস লেখেন, দেরি না করে যুবরাজের শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। যদি যুবরাজকে শাস্তি দেওয়া না হয়, তবে আমাদের সবার সামনে আজীবনের জন্য এটা একটি দৃষ্টান্ত হয়ে যাবে যে, হত্যার পর মুলহোতা শাস্তি এড়িয়ে যেতে পারেন। যা আমাদের সবার জন্য বিপদজনক হবে এবং এটা আমাদের মানবতার উপর কলঙ্ক।

চেঙ্গিস তার টুইটে লেখেন, বাইডেন প্রশাসনকে দিয়েই শুরু করছি, সব বিশ্বনেতাদের নিজেদেরকে একটি প্রশ্ন করা জরুরি। সেটা হলো, তারা কী এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলাতে প্রস্তুত আছেন কিনা যিনি খুনি হিসেবে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন?

যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা সৌদি আরবের নির্বাসিত সাংবাদিক খাশোগিকে ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর হত্যা করা হয়। হাতিজেকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিলেন খাশোগি। এজন্য প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করতেই তিনি ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়েছিলেন। যেদিন খাশুগজি সৌদি কনস্যুলেটে যান, সঙ্গে হাতিজেও ছিলেন। তবে তিনি ভেতরে প্রবেশ না করে গাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন।

আরও পড়ুন : বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ টি আসনেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত তৃণমূলের

ওয়াশিংটন পোস্টের কলামনিস্ট খাশোগি সৌদ রাজপরিবার, বিশেষ করে যুবরাজ মোহাম্মদের কিছু কাজ নিয়ে সমালোচনা করে কলাম লিখেছিলেন। সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর সেখান থেকে আর বের হননি খাশোগি। শুরুতে অস্বীকার করলেও পরে সৌদি আরব তাকে হত্যার কথা স্বীকার করে।

শুরু থেকেই খাশোগি হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে যুবরাজ মোহাম্মদের নাম আসে। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ বরাবর তা অস্বীকার করেন। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে খাশোগি হত্যায় যুবরাজ মোহাম্মদ অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানানো হয়। যদিও সৌদি আরব ওই তদন্ত প্রতিবেদন অস্বীকার করেছে।

দুনিয়াজুড়ে আলোচিত খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের সংশ্লিষ্টতার কথা এবারই প্রথম প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই গত শুক্রবার সৌদি আরবের সাবেক এক কর্মকর্তা ও রাজকীয় একটি বাহিনীর ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি দেশটির ৭৬ নাগরিকের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে যুবরাজ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। যে কারণে জো বাইডেন প্রশাসনের সমালোচনা হচ্ছে। অবশ্য গত শনিবার এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, সৌদি আরবের বিষয়ে সোমবার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এন এ/ ০১ মার্চ


Back to top button
🌐 Read in Your Language