নোয়াখালী

ঘরখেকো সেই চেয়ারম্যানদের নৌকার টিকিট দিতে সুপারিশ

নোয়াখালী, ১১ মার্চ – জমি আছে ঘর নেই- এমন দরিদ্রদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রকল্পের আওতায় নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১২৯টি এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫৫৩টি ঘর তৈরির লক্ষ্যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটির মূল্যমান ছিল এক লাখ টাকা। কিন্তু বেশিরভাগ ঘর নির্মাণ না করেই অর্থ আত্মসাৎ করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় তিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। অথচ আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ওই তিন চেয়ারম্যানকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় জাহাজমারা ইউনিয়নের জন্য ১৩৬টি, বুড়িরচর ইউনিয়নে ৬৬টি ও তমরুদ্দি ইউনিয়নের জন্য ৭৭টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ছাড়া হরণি, নলেরচর, চরঈশ্বর, হাতিয়া পৌরসভা ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের জন্যও ঘর বরাদ্দ রাখা হয়। এর মধ্যে তমরুদ্দিন, বুড়িরচর ও জাহাজমারা ইউনিয়নের বরাদ্দপ্রাপ্ত বেশিরভাগ মানুষই ঘর পাননি। এ নিয়ে গত ১৫ নভেম্বর দৈনিক আমাদের সময়ে ‘হতদরিদ্রের ঘরখেকো ইউএনও-চেয়ারম্যান’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। নিজেদের বাঁচাতে ওই দিনই হাতিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা দৃশ্যমাণ কিছু স্থানে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। গোটা ঘটনা জেলা প্রশাসক ও প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তে ৭নং তমরুদ্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফররুক আহমেদ, ৯নং বুড়িরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়া আলী মোবারক কল্লোক এবং ১০নং জাহাজমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলে। পরে গত ২২ ফেব্রুয়ারি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. মাহবুব হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। কিন্তু সেই নির্দেশনার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন : ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সমাবেশ ঘিরে ধুনটে ১৪৪ ধারা

ওই চিঠির অনুলিপিতে উল্লেখ করা হয়, হাতিয়া উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১২৯টি এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫৫৩টি ঘর নির্মাণের লক্ষ্যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্রমিক ৯-এর নয়টি ঘর ঠিকানা অনুযায়ী খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ক্রমিক ১০-এর সাতটি বরাদ্দকৃত ঘর নির্মাণ করা হয়নি। তা ছাড়া বরাদ্দকৃত ঘরের সংখ্যার সঙ্গেও নির্মিত ঘরের সংখ্যার মিল নেই।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতিগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অর্থ তছরুপ করার পরও চেয়ারম্যান ফররুক আহমেদ, জিয়া আলী মোবারক কল্লোক ও মাসুম বিল্লাহকে ‘পুরস্কার’ দিল স্থানীয় আওয়ামী লীগ। স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদে তাদেরকেই নৌকার টিকিটে চেয়ারম্যান প্রার্থী করতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে সুপারিশ করা হয়েছে। যদিও এদের মধ্যে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করে বিদ্রোহী হিসেবে ফররুক আহমেদ ও জিয়া আলী মোবারক কল্লোক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, আগামী ১১ এপ্রিল প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৬ মার্চ উপজেলা সভাপতির বাড়িতে দলের এক বর্ধিতসভা হয়। সেখানে ওই তিন ইউপি চেয়ারম্যানকেও মনোনয়ন দিতে সুপারিশের সিদ্ধান্ত হয়। জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহাম্মেদ আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমরা এই তিনজনকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করেছি। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাস্তির সুপারিশের বিষয়টি আমাদের জানা নেই।’

সূত্র : আমাদের সময়
এন এ/ ১১ মার্চ


Back to top button
🌐 Read in Your Language