জাতীয়

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা লজ্জার: ডা. জাফরুল্লাহ

সুনামগঞ্জ, ২৩ মার্চ – বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা লজ্জার বলে মনে করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, শাল্লায় হিন্দুদের ঘরবাড়ি, মন্দিরে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনাটি শেখ মুজিবের লজ্জা, এটা তার কন্যা শেখ হাসিনার লজ্জা। কারণ যেদিন হামলা হয়েছে সেদিন বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ছিল, যিনি ছিলেন সবচেয়ে অসাম্প্রদায়িক একজন মানুষ। প্রধানমন্ত্রী এটাকে কিভাবে নিচ্ছেন আমার জানি না। কিন্তু সেইদিন তার দলের লোকজন মসজিদের মাইক ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ হয়ে হিন্দুদের ঘরবাড়িতে যে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা কোনও সভ্য সমাজে ঘটতে পারে না।

মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) সুনামগঞ্জে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন : গ্রিন জোনে অনুমতি ছাড়াই ড্রোন ওড়ানো যাবে

তিনি বলেন, বিশেষ এই দিনে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, এর দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী এড়াতে পারেন না। এই ঘটনায় উনি দায়ী না হলেও উনার লোকজন দায়ী। তাঁকেই এর স্থায়ী প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ আমরা রামু দেখেছি, নাসিরনগর দেখেছি; এটা আমাদের লজ্জা। এ জন্য কী আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। খেতে পাই বা না পাই নিরাপদে থাকতে চাই আমরা।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, নোয়াগাঁও গ্রামে এসে ভাঙচুর হওয়া কিছু বাড়িঘর দেখেছি, মন্দিরও দেখেছি। যে কোনও ধর্মের উপাসনালয়ে হামলা, ভাঙচুর অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। আমরা এই ঘটনার তদন্ত চাই, তবে অনন্তকালের তদন্ত চাই না। নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেখতে চাই।

তিনি বলেন, দেশে আইন করতে হবে যেন মসজিদের মাইকে আজান ছাড়া অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করা না হয়। আমরা স্থানীয় মানুষের বক্তব্য শুনে জেনেছি, এই হামলায় কেবল হেফাজত নয় ক্ষমতাসীন দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীও অংশ নিয়েছিল। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল প্রশাসনের। তারা এখনও হেসে-খেয়ে বেড়াচ্ছে। তাদেরকে এখান থেকে সরিয়ে দিন।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সাতদিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে এক মাসের মধ্যে জড়িতদের বিচার করুন। আর এই ব্যর্থতার জন্য এই অঞ্চলের লোকজনের কাছে এসে ক্ষমা চান।

এ সময় উপস্তিত ছিলেন, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক মহাসচিব ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য নঈম জাহাঙ্গীর, সিলেট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমদাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, চেতনা’৭১ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী সোহেল আহমদ খান টুনু প্রমুখ।

সূত্র : বার্তা২৪
এন এইচ, ২৩ মার্চ


Back to top button
🌐 Read in Your Language