জাতির শান্তি ও অগ্রগতির কাজে তরুণদের প্রতি পোপের আহ্বান

ঢাকা, ২৫ মার্চ – দেশের জন্য কাজ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে আমি আপনাদেরকে, বিশেষ করে তরুণদের আহ্বান জানাই, আসুন মহান জাতির শান্তি ও অগ্রগতির জন্য কাজ করি। একইসঙ্গে শরণার্থী, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত ও অবলাদের জন্য সহমর্মিতা ও মানবিকতা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাই।’
বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনের ৮ম দিনে তিনি এ ভিডিও বার্তা দেন।
পোপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘বাংলাদেশে ভিন্ন ঐতিহ্য ও সম্প্রদায়ের মানুষ একতাবদ্ধ হয়ে মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করছে। এমন বহুত্ববাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রজ্ঞার ফসল।’
আরও পড়ুন : ভুটানের সঙ্গে ৪ খাতে সহযোগিতায় গুরুত্ব রাষ্ট্রপতির
ভ্যাটিক্যানের আর্চবিশপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও আধুনিক দেশ বাংলাদেশ, সোনার বাংলা, যেখানে ভিন্ন ঐতিহ্য ও সম্প্রদায়ের মানুষ ভাষা ও সংস্কৃতির ঐকতানে এগিয়ে যাচ্ছে। এটা বাংলাদেশিদের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরাধিকারের একটি। আলোচনা ও সংলাপের সংস্কৃতির প্রসার তিনি করেছিলেন, যেটা তার প্রজ্ঞা, জ্ঞানের গভীরতা ও বিস্তৃত লক্ষ্যে থেকে উৎসারিত।’
ভ্যাটিকানের শাসক পোপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি নবীন দেশ, যার জন্য বিশেষ স্থান পোপদের হৃদয়ে সবসময় রয়েছে। পোপরা শুরু থেকেই বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সংহতি জানানোর পাশাপাশি প্রাথমিক সংকট মোকাবেলা এবং জাতি গঠন ও উন্নয়ন সঙ্গী হয়েছিলেন। আমি আশা করি, ভ্যাটিকান সিটি ও বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক আরও বিকশিত হবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশে আন্তঃধর্মীয় যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
তিনি বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক জীবন দেশটির প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্যের সঙ্গে সংযুক্ত। পাশাপাশি এটা বিগত সময়ের সংলাপ ও বৈচিত্র্যের চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এতে সম্মানিত অতিথি ছিলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং। আলোচনায় অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন, সাবেক মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. রওনক জাহান। এছাড়া ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে বন্ধু রাষ্ট্র ভূটানের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনা, ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যের ওপর টাইটেল অ্যানিমেশন ভিডিও, ‘ঐ মহামানব আসে’ শীর্ষক রবীন্দ্র সংগীত, ‘অজয়, অমর, অক্ষয়’ শীর্ষক নজরুল সংগীত, ‘লোকনায়ক’ শীর্ষক লোকসংগীত, স্পন্দন পরিবেশিত ‘মহাকালের গণনায়ক : তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, বিশেষ নৃত্যানুষ্ঠান ‘শতবর্ষ পরেও’, কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-১৯৭১ এর ১ আগস্টের অনুষ্ঠানের চুম্বক অংশ, ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক দেশি শিল্পীদের পরিবেশনা এবং সকল শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে ‘জর্জ হ্যারিসনের বাংলাদেশ’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ২৫ মার্চ







