আফ্রিকা

২৭ বছর পর ‘সন্ত্রাসবাদের’ কালো তালিকামুক্ত সুদান

খার্তুম, ২০ অক্টোবর- দীর্ঘ ২৭ বছর পর ‘সন্ত্রাসবাদে’র কালো তালিকা থেকে মুক্তি মিলছে সুদানের। সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে ১৯৯৩ সালে দেশটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে দেশটির সন্ত্রাসবাদের দ্বারা আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার বদলে দেশটিকে ‘সন্ত্রাসবাদে’র কালো তালিকা থেকে অব্যাহতি দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবারে এক টুইট বার্তায় এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সুদানের নতুন সরকারের প্রশংসা করে টুইটে ট্রাম্প লিখিছেন, ‘সন্ত্রাসবাদের দ্বারা আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোকে সুদান সরকার ৩৩৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে বলে জানিয়েছে।’

তিনি টুইটে আরও লিখেন, ‘সুদানের এই উদ্যোগের ফলে ন্যায়বিচার পেল সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত আমেরিকানরা। আমি সুদানকে সন্ত্রাসবাদের কালো তালিকা থেকে অব্যাহতি দেব।’

আল জাজিরার প্রতিনিধি হিবা মরগ্যান দেশটির রাজধানী খার্তুম থেকে এক বিশ্লেষণে বলেছেন, ‘এই উদ্যোগ দেশটির জনগণ ও সরকারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সুদান সরকার বিশ্বাস করে যে, কালো তালিকামুক্ত হলে সুদানে আন্তর্জাতিক সাহায্যে বাড়াবে। সঙ্গে চাঙা হবে দেশটির অর্থনীতি।’

দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট উমর আল বশিরকে সেনাবাহিনীর উৎখাতের পর গেল বছরের আগস্টে সুদানে নতুন সরকার গঠিত হয়। সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকা থেকে দেশকে বের করাই ছিল সরকারের মূল এজেন্ডা।

সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা হিসেবে ১৯৯৩ সালে দেশটিতে কালো তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। সেসময় অভিযোগ উঠেছিল আল বশিরের সরকার দেশে ও দেশের বাইরে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এর ফলে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ঋণ ও সাহায্যের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয় দেশটিকে।

আরও পড়ুন: নামিবিয়ায় ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভ, সংঘর্ষ-আটক

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতামতের পর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে অনুমোদনের জন্য তোলা হবে বিলটি। সেখানে পাস হলেই কার্যকর হবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত।

এক টুইট বার্তায় সুদানের প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ হামদক এই সিদ্ধান্তের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই খুব দ্রুতই আপনি এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন করবেন। এই অপবাদের জন্য আমাদের অনকে কিছু খোয়াতে হয়েছে।’

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, ‘আরব দেশগুলোর মতোই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকরণে যাচ্ছে সুদান। তারই অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ।’

সূত্র : ঢাকাটাইমস
এম এন / ২০ অক্টোবর


Back to top button
🌐 Read in Your Language