Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ৪ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.9/5 (48 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-০৬-২০১২

ক্ষমা করো হে বুদ্ধ!

আনিস আলমগীর



	ক্ষমা করো হে বুদ্ধ!

১৯৯১ সালের ডিসেম্বর থেকে ‘৯২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসার সংবাদ সংগ্রহ করতে কক্সবাজার গিয়ে বুঝেছিলাম রোহিঙ্গা কী জিনিস। স্থানীয় সংবাদদাতারা যখন বার্মার সামরিক জান্তার ‘মুসলমান’ নির্যাতনের দূঃখের কাহিনী লিখছিলেন, তখন ঢাকা থেকে যাওয়া প্রথম সাংবাদিক হিসেবে আমি লিখেছিলাম নতুন অতিথিদের নিয়ে বাংলাদশের দক্ষিণাঞ্চলের সুদূরপ্রসারী সামাজিক-রাজনৈতিক সমস্যার কথা। দৈনিক আজকের কাগজে প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে তা গুরুত্বসহকারে ছাপা হয়। ঢাকায় আসার পর আমাদের তৎকালীন কূটনৈতিক প্রতিবেদক মতিউর রহমান (বর্তমানে প্রথম আলো’র সম্পাদক) জানালেন আমাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন।

 
আমি প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেলাম। এখনকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি। বুকে জড়িয়ে ধরে প্রশংসা করলেন আমার রিপোর্টের। বললেন, ‘কোনও সাংবাদিক-কলামিস্ট এর আগে এ সব কথা লিখেনি। আমরা যে ওদের মুসলমান-মুসলমান করে আশ্রয় দিয়ে, চাকরি দিয়ে, স্থানীয়ভাবে পারিবারিক সম্পর্ক করে, আমাদের নিজের পায়ে কুড়াল মারছি- চট্টগ্রামের জন্য যে ভয়াবহ এক সামাজিক সমস্যা তৈরি করছি- এ দিকটা আপনিই প্রথম তুলে ধরলেন।
 
আমাদের পত্রিকাগুলোর উচিত বার্মার জান্তার নির্যাতনের ঘটনার পাশাপাশি এ দিকটাও তুলে ধরা।’ মাহমুদ আলী আরও বললেন, ‘আপনার রিপোর্ট আমরা অনুবাদ করছি- কয়েকটি বিদেশি রাষ্ট্র ও সংস্থার জন্য। ইউএনএইচসিআর-কেও পাঠাচ্ছি যাতে ওরা সহসা সাহায্য নিয়ে আসে।’
 
সে সময় রোহিঙ্গা জঙ্গিদের যে জামাতিরা সহযোগিতা করছে, সৌদি অর্থে পরিচালিত জামাত-নিয়ন্ত্রিত এনজিও রাবেতার উখিয়ার কার্যালয় জঙ্গিদের একটা আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে- সেটা তুলে ধরায় আজকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জেলবন্দী জামাত নেতা মীর কাশেম আলী আমার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন। রোহিঙ্গা নেতাদের বাড়ি-গাড়ি-ব্যবসা নিয়ে লেখার জন্য মহা ক্ষেপেছিল এক সশস্ত্র রোহিঙ্গা বিদ্রোহী নেতা, যার সঙ্গে আমার কক্সবাজার ও ঢাকায় দু’বার আকস্মিক দেখা হয়েছে স্বল্প সময়ের জন্য।
 
এখন মূল কথায় আসি। রোহিঙ্গাদের চিনি বলে নয়, ভালো করে চিনি বলেই অতি সম্প্রতি নতুন করে দলে-দলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিরোধিতা করেছি। এখনও করি। তাদের আশ্রয় না দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছি। এই ইস্যুতে আমার কিছু ফেসবুক বন্ধুর স্ট্যাটাসের, বাংলাদেশের তথাকথিত সুশীলদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আমাকে তারা প্রগতি আর সুশীলের তালিকা থেকে হয়তো মনে-মনে বাদ দিয়েছেন। অবশ্য আমার শরণার্থীদের আশ্রয় না দেওয়ার পক্ষের এই ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তারও বেশিসংখ্যক ফেসবুক বন্ধু, সেটাও ভুলে যাইনি।
 
আমার সে সময়কার রিপোটিং-এর আজ প্রায় ২২ বছর পর দক্ষিণাঞ্চলের নিরীহ বৌদ্ধদের বাড়িঘর পোড়ানো, বৌদ্ধমন্দিরগুলো ধ্বংসের পর আবারও প্রমাণ পেলাম রোহিঙ্গারা কী-না করতে পারে তারা! সেদিন যারা আক্রমনে অংশ নিয়েছে তারা ছিল স্থানীয়, ট্রাকে করে এসেছিল স্থানীয় দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশপাশের এলাকা থেকে। ওরা কে রোহিঙ্গা আর কে স্থানীয়- সে প্রশ্ন আজ হারিয়ে গেছে বছরের পর বছর ওই অঞ্চলের সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মাধ্যমে। রোহিঙ্গা-বাঙালি মিশ্রণের মাধ্যমে।
 
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে, মানবিকতা দেখিয়ে আমরা বহু বছর আগে আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের সমাজের শরীরে যে ক্যান্সারের বীজ বুনেছি, সে ক্যান্সার আমাদের হাজার বছরের সম্প্রীতির একটা বন্ধনকে তছনছ করে দিয়েছে- নিঃশেষ করে দিয়েছে শত-শত বছরের ঐতিহ্য। আমরা চিন্তা করিনি, একই চেহারার, একই ভাষাভাষী রোহিঙ্গারা আমাদের মধ্যে মিশে যেতে সময় নিবে না। দেশপ্রেমহীন রোহিঙ্গারা এ দেশকে কিছুই দিতে পারে না, লুট আর গ্রাস করা ছাড়া… আমাদের সামজিক ভারসাম্য, আমাদের পাহাড়, আমাদের সমুদ্রের মৎস সম্পদ ধ্বংস করা ছাড়া… আমাদের শ্রমিকশ্রেণিকে বেকার করা ছাড়া…..
 
আফগানিস্তানে তালেবানদের ধ্বংসকৃত বৌদ্ধমন্দিরের বয়স আড়াই হাজার বছরেরও বেশি। সে তুলনায় আমাদের বৌদ্ধমূর্তির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ফেলনা নয়। আড়াই শ’ বছরের পুরনো রামুর বৌদ্ধমন্দিরের পর্যটন গুরুত্ব ধর্মীয় গুরুত্বের চেয়েও কম ছিল না কোনও অংশে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমরা আমাদের সমাজে যে বীজ বুনেছি সে বীজ যখন আজ গাছ হয়ে ফল দিচ্ছে, তখনও আমরা তার দিকে দৃষ্টি দিচ্ছি না। এটাকে দেখছি শুধু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হিসেবে। সে সঙ্গে কমেন্ট আর স্ট্যাটাসের খই ফুটাচ্ছি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মায়াকান্না করছি বৌদ্ধদের জন্য। সুশীলরা আবার মানববন্ধন করছি। এনজিও ব্যবসায়ীরা এটাকে নিয়ে ধান্দা করতে নতুন প্রজেক্ট প্রোফাইল বানাচ্ছি। কিন্তু ভুলে যাচ্ছি যে এটাই শেষ নয়, এরপর ওই অঞ্চলে আসছে সরাসরি রোহিঙ্গা-বাঙালি যুদ্ধ।
 
আমার জীবদ্দশায় আমি কোনওদিন বৌদ্ধদের সঙ্গে সংখ্যাগুরুদের ধর্মীয় প্রশ্নে বিরোধ দেখিনি। মনে পড়ে স্কুলের ইংরেজি ক্লাসে যে শিক্ষক ক্লাসে ঢুকেই আমাকে রিডিং পড়তে বলতেন, আমাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য এমনকী অন্য ছাত্রদের কাছে অভিযুক্ত হয়েছেন- তিনি আমাদের ’বড়ুয়া স্যার’। ছোটকালে নানার বাড়ি বেড়াতে গেলে আমার খেলার সাথী ছিল মেজমামার ঘরে ‘মগিনি খালা’ বলে পারিচিত কাজের বুয়ার বৌদ্ধ ছেলেটি। কলেজ হোস্টেলে আমার পাশের রুমে ছিলেন দুই রাখাইন বড় ভাই। সবাই পছন্দ করত তাদের। কক্সবাজার গেলে এখনও খোঁজ নিই কেমন আছেন তারা। দেখেছি মশা কামড় দিলেও ওরা মশা মারত না। বাংলাদেশে এর চেয়ে নিরীহ, সহজ-সরল বৃহৎ কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায় আমার চোখে পড়েনি, পড়ে না। যারা মশার কামড় খেয়ে মশা মারে না- জীবহত্যার দায় এড়াতে, আমরা কী করে তাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলাম- বুদ্ধকে অপমান করলাম মুসলমানের নামে, ধর্মের নামে- কোনও হিসাব মিলাতে পারি না!
 
মুসলমানরা বিশ্বাস করে হাজার-হাজার পয়গম্বরে। জানি না আমার কেন জানি বিশ্বাস গৌতম বুদ্ধও ছিলেন সে সব পয়গম্বরদের একজন। হয়তো অনুসারীরা সময়ের বিবর্তনে এক ইশ্বরবাদিতা থেকে বিচ্যুত হয়েছে কোথাও কোথাও কিন্তু বুদ্ধর বাণী চিরকাল তো ব্যয় হয়েছে মানবের কল্যাণে। আমার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয় যখন দেখি বিশিষ্ট ইসলামী পণ্ডিত আল্লামা আবুল হাশেম, মাওলানা আজাদ সোবহানীও বলেন- গৌতম বুদ্ধ পয়গম্বর ছিলেন, ছিলেন ধর্মাবতার। মাওলানা আজাদ সোবহানী তো বুদ্ধের নাম উচ্চারণের পর ‘পিস বি আপ অন হিম’ (তাহার উপর শান্তি বর্ষিত হোক) পড়তেও বলেছেন। শান্তির ধর্মের অনুসারী হয়ে কী করে আমরা কতিপয় অমানুষ এমন অশান্তির কাজ করতে পারলাম! বুদ্ধকে এ ‍অপমান আল্লাহ কী ক্ষমা করবেন!
 
অনেকে এই ঘটনাকে আরাকানে সম্প্রতি বৌদ্ধদের দ্বারা রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। সম্পৃক্ততা তো আছেই। রাজনীতির ভাষায় আছে এর একটা ‘নুইসেন্স ভ্যালু’ও। কিন্তু ওপারের বৌদ্ধদের কর্মকাণ্ডের জন্য আমার নিরীহ-শান্ত এপারের বৌদ্ধদের কেন সাজা দেবো? এদের কী অপরাধ? বৌদ্ধদের সঙ্গে মুসলমানদের সংঘর্ষ, দানবীয় তাণ্ডবের যে সব সাম্প্রতিক ইতিহাস আমরা দেখছি তার পেছনেও রাজনৈতিক ইতিহাস আছে। এ ইতিহাসে জড়িত বাংলাদেশ থেকে বার্মায় যাওয়া কিছু বৌদ্ধ। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর বরিশাল অঞ্চল থেকে কয়েক হাজার বৌদ্ধ এই দেশ ছেড়ে আশ্রয় নেয় বার্মার আরাকান রাজ্যে। মূলত তারাই মুসলিম-বৌদ্ধ শত্রুতার বীজ বপন করে আরাকানের মাটিতে। তাদের সঙ্গে শরিক হয় স্থানীয় বৌদ্ধরা। বিতাড়িত-স্থানচ্যূত রোহিঙ্গারা দাবি তুলে তাদের জন্য আরেকটি স্বাধীন ভূমির। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে যাওয়া স্বঘোষিত মেজর জেনারেল কাশেম রাজার নেতৃত্বে তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্রপাত হয় তখন থেকেই। পরে বাংলাদেশ কখনও রাষ্ট্র হিসেবে, কখনও চট্টগ্রামের মানুষ মুসলমানী জোসে রোহিঙ্গাদের স্বাধীন ভূমি আন্দোলনে সহযোগিতা দিচ্ছে সে ’৪৭ এর পর থেকেই।
 
ফলে আমাদের এ নিকট-প্রতিবেশি কখনও-ই আমাদের সঙ্গে প্রতিবেশির মতো আচরণ করেনি। এত কাছে তবুও ওরা যেন কত দূরে। একটা ঠাণ্ডা সম্পর্ক তাদের সঙ্গে আমাদের চলছেই। ‘পূর্বমুখী পররাষ্ট্রনীতি’ ( লুক ইস্ট) বিএনপি-আওয়ামী লীগ দুই আমলে গুরুত্ব পেলেও মায়ানমারের শীতলতার কারণে তা সফল হতে পারেনি। চীনের কুনমিন থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত হাইওয়ের স্বপ্ন আমাদের পরবর্তী আরও দু’ পুরুষকেও দেখে যেতে হবে হয়তো।
 
রোহিঙ্গাদের সংগ্রামেরও ন্যায্যতা ছিল। রোসাং রাজার দরবারে মুসলমানরা ছিল আদরে আর সম্মানের সঙ্গে। আলাউল আর মাগন ঠাকুররা বাংলা ভাষাকে মর্যদার আসনে, চর্চার মাধ্যমে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন সেখানে, যখন বাংলা তার ভূমি থেকে ছিল বিতাড়িত। মোগলরা এসে বাংলাকে বিড়াড়িত করে যখন ফার্সিকে এ অঞ্চলের ভাষা হিসেবে রূপ দিয়েছিল তখন আরাকান রাজসভায় তারা বাংলা ভাষাকে চর্চার মাধ্যমে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। আলাউলের ‘পদ্মাবতী’ আজও তার নিদর্শন হিসেবে টিকে আছে। সেখানকার লোকেরা বিকৃত বাংলা বলত কিন্তু সাহিত্যচর্চা করতো খাঁটি বাংলায়।
 
রোহিঙ্গাদের সে দাবির জন্য তারা আজও লড়ছে। আমরা সামরিক জান্তা-শাসিত বার্মার বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের স্বাধীন ভূমি ইস্যুতে কূটনৈতিক কোনও উদ্যোগ নিতে পারিনি। চাপ দিতে পারিনি তার প্রায় আড়াই লাখ নাগরিকের অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থানের। পাঠাতে পারিনি ক্যাম্পে বসবাসরত প্রায় ৩০ হাজার রেজিস্ট্রিকৃত রোহিঙ্গাকে। আর দেখছি প্রতিনিয়ত তারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে যাচ্ছে। বিদেশে গিয়ে ওরা কীভাবে বাংলাদেশকে ছোট করছে, বাঙালিদের হিংসা আর ঘৃণায় পিশে ফেলতে চাচ্ছে – তাও আমার দেখা আছে। ২০০২ সালে মক্কায় আমি স্বয়ং বাংলাদেশি হিসেবে এদের হিংসার শিকার হয়েছি।
 
আজও খোলা বর্ডার দিয়ে রোহিঙ্গারা আসছে-যাচ্ছে। চোরাচালন, মাদকচালান- সবই চলছে। দু’পারের রোহিঙ্গারা এতে জড়িত। দু’পারেই রোহিঙ্গাদের মধ্যে শিক্ষা বলতে কিছু নেই। বড়জোর মক্তব-মাদ্রাসায় যায় কেউ-কেউ। ৯০ শতাংশ ধর্মীয় দিক থেকে গোঁড়া। জামাতিরা যে শুধু তাদের টার্গেট করেছে তা নয়, বাংলাদেশের সব ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ওদের যোগাযোগ আছে। আল-কায়দাসহ সব ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠির সঙ্গে সম্পর্ক আছে দেশে-বিদেশে থাকা রোহিঙ্গা নেতাদের।
 
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আমরা আমাদের সামাজিক ভারসাম্য হারানোর মাধ্যমে যে সর্বনাশ ডেকে আনতে যাচ্ছি- দু’দশক আগে করা ভবিষ্যতবাণী ফলে যাওয়ায় আজ সাংবাদিক হিসেবে আমার বাহবা পাওয়ার কথা। কিন্তু এমন সর্বনাশা বাহবা কি কেউ আশা করে! দক্ষিণ চট্টগ্রামের রামু, উখিয়া, টেকনাফ এবং পটিয়ার সংখ্যালঘুদের উপর নেমে আসা এ অত্যাচার আমাকে ঘুমেও তাড়া করছে। আজ ক’দিন ধরে মনের যে যন্ত্রণা হচ্ছে তা কাউকে দেখাতে পারছি না, বলতেও পারছি না। কারণ আমার অনেক কাছের বন্ধুদের হৃদয় আজ ক্ষতবিক্ষত, চোখে-মুখে উদ্বিগ্নতা। কারও মাথার উপরে এখন ছাদ নেই। ছাদ হয়তো সহসা উঠবে কিন্তু তাদের হৃদয়ের ক্ষত শুকাবে কিনা আমি সন্দিহান।
 
সুপারিবাগানের পাশে পোড়া ভিটায় একাকী ধ্যানমগ্ন গৌতম বুদ্ধের মূর্তি যেন আমাকে বলছে- সারা জীবন অহিংসার বাণী দিয়ে আজ আমি নিজেই হিংসার শিকার!
 
আনিস আলমগীর: সাংবাদিক এবং শিক্ষক।

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে