Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০ , ২৬ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.9/5 (50 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-০৬-২০১২

খালেদা জিয়ার ভারত সফর: ‘জার্নি টু কেনোসা’

আনিস আলমগীর



	খালেদা জিয়ার ভারত সফর: ‘জার্নি টু কেনোসা’

শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক এ বি এম মূসা তার সামপ্রতিক লেখায় অভিমত দিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম জিয়ার ভারত সফরে আমাদের সরকার ‘নার্ভাস’ হয়ে গেছে। নার্ভাসনেস-এর ডাক্তারি ব্যাখ্যা খোঁজারও চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে না, বেগম জিয়ার ভারত সফরে সরকার নার্ভাস। যে-দলের নেতারা মন্ত্রিপাড়া থেকে গ্রেপ্তার হয়ে জেলখানায় গেছেন, জেল থেকে ফিরে আবার ক্ষমতায় অলিন্দে ফিরেছেন, জেল-জুলুম-ক্ষমতা-রাস্তায় আন্দোলন যে-দলের ৬৩ বছরের মজ্জাগত বিষয়—তারা এত সহজে নার্ভাস হওয়ার নয়। সেরকম আফসেট তারা যেন না হন সে কারণে হয়তো খালেদা জিয়ার ভারত সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন ভারতীয় হাই কমিশনার। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত।

 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপুমণিসহ কেউ-কেউ বেগম জিয়ার ভারত সফরকে ‘গুরুত্বহীন’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা নার্ভাস হওয়ার লক্ষণ নয়, বালখিল্যতা। আবার এই সফর ‘আপসহীন’খ্যাত বেগম জিয়ার জন্য গৌরবের কোনও সফর, তা-ও মনে করছি না। ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে দেখলে একে তুলনা করা যায়— ‘হোলি হোস্ট’-এর দরবারে খালেদা জিয়ার ‘জার্নি টু কেনোসা’; অনুতপ্ত আর অনুশোচনা প্রকাশের সফর।
 
‘জার্নি টু কেনোসা’, বাংলায় বললে ‘কেনোসা যাত্রা’ উপমাটি এসেছে ১০৭০ সালে পোপ সপ্তম জর্জের সঙ্গে রোমান সম্রাট চতুর্থ হেনরির নগ্ন পায়ে সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে বাধ্য হয়ে সাক্ষাত্ করার ঘটনা থেকে। তখন পোপের দরবার ছিল, আজকের ভ্যাটিকান সিটি নয়, কেনোসায় । যুগে-যুগে তাই ভুল স্বীকার করে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের যেসব বৈঠক হয়েছে বা দুই শক্তি এক হতে বাধ্য হয়েছে সেসব ঘটনাকে তুলনা করা হয় ‘জার্নি টু কেনোসা’র সঙ্গে। এডলফ হিটলার নিজেও একবার এক জাতীয়তাবাদী জার্মান নেতার সঙ্গে তার বৈঠককে তুলনা করেছেন ‘জার্নি টু কেনোসা’ বলে।
 
বাংলাদেশে কোনও দল নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে দলীয় প্রধানরা গণতান্ত্রিক চরিত্র হারিয়ে ফেলেন। সংসদে দুই তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে খালেদা জিয়া তার সরকারের আচরণের মাধ্যমে এর প্রমাণ রেখেছেন এবং বর্তমানে শেখ হাসিনাও রেখে চলেছেন। বেগম জিয়ার আমলে রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বত্র কমিশনবাণিজ্যের প্রথা চালু হয়েছিল তার সৃষ্ট হাওয়া ভবন থেকে। হেন কোনও অপকর্ম নেই, যার সঙ্গে বিকল্প সরকার হিসেবে কুখ্যাত এই ভবনের হাত ছিল না। বিরোধীদলীয় নেত্রীকে হত্যার জন্য গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ২৪ জন লোককে হত্যা, ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের শক্তিশালী করতে তাদের জন্য আইএসআই-এর পাঠানো অস্ত্র সরকারি উদ্যোগে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা—কী না করেছে বেগম জিয়ার সরকার! সর্বশেষ সেইসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার জন্য দলীয় একজন রাষ্ট্রপতিকে প্রধান করে তথাকথিত এক তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে আবার ক্ষমতায় আসতে চেয়েছে বিএনপি। বিতর্কিত করেছে বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য, বিশ্বে প্রশংসিত একটি অন্তবর্তীকালীন সরকারব্যবস্থাকে। অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার রাস্তা দেখিয়েছেন মঈনউদ্দীন-ফখরুদ্দীনদের।
 
নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের দাম্ভিকতায় শেখ হাসিনার সরকারও একই পথে হেঁটে আসছেন। দলের শীর্ষনেতাদের, অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে অপরিচিত, জেলাপর্যায়ের নেতাদের, এমনকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন শেখ হাসিনা। আবার সেই মন্ত্রিসভাকে পাত্তা না দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের উপদেষ্টা করে দেশ চালানোর চেষ্টাও করছেন। ফলে যা ঘটার তাই ঘটছে। মন্ত্রিসভার কোনও প্রভাব নেই দেশের ওপর, দলের ওপর। নিজ দলের উচ্ছৃঙ্খলদের শাসন করার কেউ নেই। হরিলুটের আসর সর্বত্র। অথচ মন্ত্রিসভার শুরুতে তোফায়েল-আমু-জলিল-মতিয়া-মেনন-ইনু-আলমগীর মহীউদ্দীনসহ অভিজ্ঞদের কাজে লাগানো যেত। হতাশায় পড়া মানুষদের কাছে দ্বিদলীয়, পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি আবারও হতাশা নিয়ে এসেছে। মানুষ কোনও বিকল্প পাচ্ছে না। গুটিকয়কে বাদ দিলে মন্ত্রিসভার অনেকের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে।
 
দেশের অর্থনীতির ‘লাইফ লাইন’ বলে খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কপথে রাজধানী থেকে বাণিজ্যিক রাজধানী যেতে লেগে যায় একদিন। সেই সড়ককে প্রাধান্য না দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পুরো দৃষ্টি পড়ে আছে পদ্মা সেতুতে। তা নিয়েও আবার কতই না কেলেঙ্কারি। আবুল হোসেনকে যেদিন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ‘লেস দ্যান অনেস্ট’ বলেছেন, সেদিনই তাকে সরিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি। আবুলের কোম্পানি দেশে-দেশে কেনা-বেচার কাজ করে। কমিশন এজেন্ট। তাকে বানানো হয়েছে মন্ত্রী। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে, ব্যবসায়ী সমপ্রদায় শাসক হিসেবে উত্কৃষ্ট হয় না। আবুল হোসেন শুধু ব্যবসায়ীই নন, কমিশন এজেন্টও।
 
রাষ্ট্র পরিচালনায় আওয়ামী লীগের ব্যর্থতার পাল্লা দিন-দিন ভারি হচ্ছে। চার বছরে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ছিল না, এখনও নেই। দুর্বল সংগঠন আর রাষ্ট্রপরিচালনায় অগৌরবের বোঝা নিয়ে নির্বাচন করতে গেলে ভরাডুবি হবেই। যেহেতু আর কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, সেহেতু বিএনপি ভোট পেয়ে ক্ষমতায় আসবে— এমনই ভাবনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
 
গত রমজান ঈদের পরদিন দিল্লির আমন্ত্রণে ভারত সফর করেছেন জাতীয় পার্টির প্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এবার কুরবানি ঈদের পরদিন ভারত সফরে গিয়েছেন বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া। উভয়ের ভারত সফর কালারফুল ছিল। সেদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা—সবার সঙ্গে আন্তরিক বৈঠকের আয়োজন ছিল। গতবার ক্ষমতা ছাড়ার কয়েকদিন আগে বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারত সফর করেছিলেন। ঠিক তার পরদিন তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ দিয়ে ভারত বাংলাদেশকে মেসেজ দিয়েছিল—ক্ষমতায় তারা কাকে দেখতে চায়। ভারত এবার বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে অনেকটা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়েছে। বলা যায়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সফরকালে তাকে যে সন্মান দেওয়া হয়নি, তার চেয়ে বেশিই।
 
নির্বাচনের আগে-আগে এরশাদ-খালেদা ভারত সফরে গেলেন কেন? রাজনীতির গতি-প্রকৃতি পরিমাপ করে ভারত ভালভাবে টের পাচ্ছে তাদের বন্ধুভাবাপন্ন শক্তি হয়তো আগামীতে বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসবে না। সুতরাং অবন্ধুদের সঙ্গে আগে থেকেই বোঝাপড়া, তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়ে রাখা ভালো— যেন বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার থেকে যে নিঃস্বার্থ সেবা পাওয়া যাচ্ছে ক্ষমতা বদলের সঙ্গে তাতে চিড় না ধরে। ভারতের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, বাংলাদেশের মাটি ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দ্বারা ব্যবহূত হওয়া আর বাংলাদেশে পাকিস্তানি জঙ্গিদের উত্পাদন বৃদ্ধি। সফরকালে দু’ দেশের মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে— ক্ষমতায় গেলে এসব বন্ধ হবে বলে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বেগম জিয়া।
 
সবাই মনে করেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের মাত্রা-প্রকৃতি সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হওয়া উচিত নয়। বিএনপি নেত্রীর ভারত সফর এবং বিএনপির পরিবর্তিত ভারতনীতির মাধ্যমে দুটি দেশের সম্পর্কে এবার নতুন মাত্রা যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে বিএনপি তার নতুন ভারতনীতি কতটা ধরে রাখতে পারবে সে ব্যাপারেও সন্দেহ আছে । ভারত প্রশ্নে দলের মধ্যে রয়েছে পরস্পর বিরোধী দুটি শক্তি। চরম ডানপন্থীরা এখনই তার প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছে। পক্ষশক্তি বলেছে, বিএনপির এতদিনকার ভারতনীতির জন্য ভারতই দায়ী, কেননা দেশটি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের চাইতে বিশেষ একটি দলের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে আসছিল। শুধু বিএনপির নয়, ভারতেরও এখন ভুল ভেঙেছে। ভারত নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান দুই দলের মনোভাবও হয়তো জনগণের জন্য শঙ্কার কারণ হতে পারে। ক্ষমতায় আনার মালিক জনগণ হলেও— আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে কে বেশি ভারতপ্রেমিক, আবার না এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।
 
ভারত সফরের আগে খালেদা জিয়ার চীন সফর অনেকটা আইওয়াশ। কারণ বাংলাদেশে ও পাকিস্তানে কোন দল ক্ষমতায়— চীন তার তোয়াক্কা করে না। এই দুই দেশে রাজনৈতিক বা সামরিক সব সরকারের সঙ্গে চীনের হূদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বরাবর। কিন্তু ভারতের মনোভাব ভিন্ন। বাংলাদেশে ভারতের অবন্ধু-শক্তি ক্ষমতায় থাকলে, বিশেষ করে বিএনপির মতো শক্তি ক্ষমতায় থাকলে ভারতের মাথাব্যথা থাকে। পাকিস্তান ভারতের চিরশত্রু। বাংলাদেশকে ব্যবহার করে তখন পাকিস্তান ভারতের মাটিতে বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ নেয়— উদ্বেগের এটাই বড় কারণ। বাংলাদেশকে তাই অকারণে ভারতীয় সাজাও পেতে হয় বিএনপির আমলে। ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং নিরাপত্তার অজুহাতে সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে অস্বীকার করায় শেষ মুহূর্তে সম্মেলন স্থগিত করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। জানুয়ারিতে সুনামির কারণে প্রথম দফায় স্থগিত হওয়া সেই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় নভেম্বরে। বাংলাদেশ এর জবাব দিয়েছিল দুই মাস পর এপ্রিলে চীনা প্রধানমন্ত্রী ওয়েন ঝিয়াবাওকে ঢাকায় এনে। মূলত উলফা-জঙ্গিসহ নানা ইস্যুতে বিগত বিএনপির শাসনামলে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক ছিল স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে সবচেয়ে হতাশাব্যঞ্জক। সে হতাশায় আরও জ্বালানি জুগিয়েছেন সে সময়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার বীণা সিক্রি।
 
জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধশক্তি হিসেবে পাকিস্তানপন্থী পরাজিত রাজনীতিবিদদের দিয়ে বিএনপি সৃষ্টি করেছিলেন। মশিউর রহমান, শাহ আজিজ, আবদুল হালিম, বিচারপতি আবদুস সাত্তার, আবদুর রহমান বিশ্বাস— তারা সবাই ঘোর পাকিস্তানপন্থী রাজনীতিবিদ। সুতরাং অরিয়েনটশনের কারণে দলটি সব সময় পাকিস্তানমুখী, যতই দলটিতে এখন মুক্তিযোদ্ধাদের ভিড় থাকুক না কেন। আর এ কারণে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারত অভিযোগ করার সুযোগ পায়— বাংলাদেশ আইএসআই-এর চারণভূমি। ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী উলফা নেতারা তখন এখানে প্রকাশ্যে বসবাস করে, ব্যবসা করে। এমনকী আইএসআই উলফার জন্য যে অস্ত্রচালান পাঠায় তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকার বহন করে। আবার পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলোর তত্পরতা বাংলাদেশে বেড়ে যায়। এর সবই ভারতের জন্য বিপজ্জনক। শুধু ভারতের জন্য নয়, পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলো যদি বাংলাদেশকে তাদের কুস্তির আখড়া বানায়, পাকিস্তান যেমন আজ সভ্য মানুষদের বসবাসের উপযোগিতা হারিয়েছে, বাংলাদেশও সেদিকে যাবে এবং এরা আবার ভারতের মাটিতেও প্রভাববিস্তার করবে। এখনও ভারতের তিহার জেলসহ অনেক স্থানে বাংলাদেশের অনেক জঙ্গি, জঙ্গিনেতা জেল খাটছে। পালিয়ে আছে।
 
বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে শুধু ভারত নয়, আমেরিকা এবং তার অন্ধ-মিত্র ব্রিটেনও মনে করে বিএনপি বাংলাদেশে জঙ্গিদের সহায়ক শক্তি। বিএনপিকে ভারত আরও মনে করে তার বৈরী পাকিস্তানের ক্রীড়ানক। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় আসতে পারে। সেইজন্যই বিএনপিকে ভারতের দরকার। নিরাপদে ক্ষমতায় আসতে ভারত যেন বাধা না হয়ে দাঁড়ায় সে কারণে খালেদা জিয়ারও দরকার শক্তিশালী প্রতিবেশীর আস্থা অর্জন। বিএনপি নেত্রী এরপর আমেরিকা-ব্রিটেন সফর করবেন, শোনা যাচ্ছে। এই তিন শক্তি এক থাকলে নির্বাচনও হবে, হয়তো বেগম জিয়া ক্ষমতায়ও আসবেন। অন্যথায় সবই অন্ধকার।
 
আনিস আলমগীর: সাংবাদিক ও শিক্ষক
 

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে