Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ৪ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (43 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৭-২০১২

ওরা কেন শিবির করে পুলিশ কেন মার খায়

পীর হাবিবুর রহমান



	ওরা কেন শিবির করে পুলিশ কেন মার খায়

 ১. ওরা কেন জামায়াত-শিবির করে? পুলিশ কেন এত অসহায়ের মতো শিবিরের হাতে মার খাচ্ছে? দুটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি কয়েক দিন থেকে। রাজপথে পুলিশের ওপর মারমুখী শিবির কর্মীদের টেলিভিশন পর্দায় দেখা যাচ্ছে। ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষকালে তাদের চেহারা টেলিভিশনের পর্দায় কখনোসখনো ফুটে উঠছে। বয়সে অতি নবীন বা তরুণ এসব শিবির কর্মীর বেশির ভাগই জন্ম নিয়েছে স্বাধীনতা-উত্তরকালেই নয়, এরশাদের সেনা শাসনামলে গণতন্ত্রের সংগ্রামের স্লোগান শুনে বা তারও পরে। তারা কেন স্বাধীনতাবিরোধী সেই শক্তি যারা '৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হয়েছিল, বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করেছিল; তারা কেন সেই শক্তির হয়ে আজ মাঠে নামবে যারা '৭১-এ বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগি্নসংযোগের সহযোগী ছিল। এই তরুণেরা স্বাধীন বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে মুক্তচিন্তার মানুষ হিসেবে রাজনীতিতে একজন উদার গণতন্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার কথা ছিল। ধর্মের রাজনীতিতে তাদের গা ভাসানোর কথা ছিল না। তবু তাদের কোমল মনে কৈশোর থেকে নানা কায়দায় জামায়াতি ছায়া লালন ও পরিচর্যা করেছে বলে আজ তারা রগ কাটা রাজনীতির নৃশংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। এই তরুণদের বিপথগামী হওয়ার দায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব রাজনৈতিক দলকেই নিতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে সুস্থধারার ছাত্র রাজনীতির বদলে সিট দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ক্যান্টিনে-হোটেলে ফাও খাওয়ার সংস্কৃতি এই তরুণদের কোমল মনে নেতিবাচক প্রভাবই ফেলেনি, ধর্মের নামে 'বাঁচলে গাজী, মরলে শহীদ' এই আহ্বানে ডাক দেওয়া ছাত্রশিবির টেনে নিয়ে গেছে ধর্মান্ধ জামায়াতি রাজনীতিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দলবাজি, সিন্ডিকেট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়া, ভিসি ও প্রশাসনের সব ছাত্রের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি না রাখা এদের বিক্ষুব্ধ করেছে। এই ক্ষোভ এক দিনে হয়নি। দিনে দিনে হয়েছে। নব্বই-উত্তর গণতন্ত্রের শুরু থেকে ডাকসুসহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে রাখায় প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনায় লালিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বেড়ে ওঠা ছাত্র সংগঠনগুলোতে চরম বন্ধ্যত্বের সৃষ্টি হয়েছে। ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে, জেলায় জেলায় এসব ছাত্র সংগঠন প্রায় নির্বাসিত হয়েছে। ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের মতো সংগঠনগুলোও প্রাণহীন অছাত্রনির্ভর সংগঠনে পরিণত হয়েছে। এই পক্ষের ছাত্র রাজনীতিতে দেউলিয়াত্ব, মূল্যবোধের অবক্ষয় ও ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রেখে নেতৃত্ব বিকাশের পথ রুদ্ধ করে দেওয়ায় ধর্মান্ধ স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির ফায়দা নিয়েছে। মাপজোকে ছাত্রশিবির দিনে দিনে শক্তিশালী হয়েছে। তার উল্টো দিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ছাত্র সংগঠন রুগ্ণ ও দুর্বল হয়েছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়মিত থাকলে প্রতিটি শিক্ষাঙ্গন ও জেলা শহরে মেধাবী, সৃজনশীল নেতৃত্বের মহিমায় আলোকিত ছাত্রনেতাদের আলোয় ছাত্র রাজনীতি আলোকিত হতো। তাই নয়, ছাত্র রাজনীতি উর্বর হলে শিক্ষাঙ্গন ও জেলায় জেলায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সাহিত্যচর্চা, বিতর্ক, খেলাধুলা সব মিলিয়ে নবজাগরণ সৃষ্টি হতো। কিন্তু, যারা ২১ বছর ধরে দেশ শাসন করছেন, জাতীয় রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন তারা এ পথ রুদ্ধ করে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ, প্রগতি ও গণতন্ত্রের পক্ষে তারুণ্যের ছুটে আসা মিছিলকে থামিয়ে দিয়েছেন।

 
২. এরশাদ জমানার শুরুতেই বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা যখন ঝাঁকে ঝাঁকে সেনাশাসনের হেরেমে যোগ দিচ্ছিলেন তখন নেতৃত্বহীন ভঙ্গুর বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শক্তি হয়ে সারা দেশে রাজপথে তারুণ্য নেমেছিল ছাত্রদলের ব্যানারে। সেদিনের তারুণ্য গণতন্ত্র মুক্তির আদর্শ নিয়ে খালেদা জিয়াকে সামনে রেখে জীবন বাজি রেখে লড়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপির সেই তারুণ্য আদর্শনির্ভর রাজনীতির বদলে সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির রাজনীতি করায় তারুণ্য তাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ষাটের উত্তাল কি কঠিন সময়ই না জেল-জুলুম সয়ে ছাত্রলীগ স্বাধীনতার সংগ্রামকে মুক্তিযুদ্ধে নিয়ে গেছে। জাতির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সামনে নিয়ে বুকভরা দেশপ্রেম আর আদর্শের প্রশ্নে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে রীতিমতো পথ হেঁটেছে। সেই ছাত্রলীগের উত্তরাধিকারিত্ব নিয়ে পঁচাত্তর-উত্তরকালে একদিকে ফৌজি শাসনের ছোবল, অন্যদিকে উগ্র ও অতি বামদের অস্ত্রনির্ভর ছাত্র রাজনীতির নামে মুজিববিদ্বেষী সন্ত্রাসের বিপরীতে আদর্শ বুকে নিয়ে দীর্ঘ সংগ্রাম করেছে ছাত্রলীগ। কিছুদিন মরহুম আবদুর রাজ্জাককে সামনে রেখে বাকি দীর্ঘ পথ শেখ হাসিনাকে সামনে রেখে। সেই ছাত্রলীগও আজ আদর্শের রাজনীতিকে নির্বাসনে দেওয়ায় মেধাবী সৃজনশীল তরুণেরা তাদের দিকেও তাকায় না। এই ক্ষতি অসাম্প্রদায়িক দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তির। দেশের বৃহৎ দুই ছাত্র সংগঠন আদর্শহীন রাজনীতির চোরাবালিতে ডুবে যাওয়ার সুযোগে ধর্মের দোহাই দিয়ে, ইতিহাস বিকৃতির পথ ধরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে টেনেছে ধর্মান্ধ জামায়াত। শিবিরের পতাকাতলে এই তরুণদের নিয়ে এখন রাস্তায় নামিয়েছে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কাঠগড়ায় বিচারের মুখোমুখি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির নেতৃত্বকে মুক্ত করার দাবিতে। এই দাবিতে রাস্তায় নেমে তারা বাসে আগুন দিচ্ছে। নগরে নগরে, শহরে শহরে আগুনই ছড়িয়ে দিচ্ছে না, মানুষকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চড়াওই হচ্ছে না, রীতিমতো আক্রমণ চালাচ্ছে। অন্যদিকে কোমলমতি তরুণ প্রাণ আদর্শহীন রাজনীতির ময়দানে আজ ভুল করে বিপথগামী হচ্ছে। ধর্মান্ধ জামায়াত-শিবিরের হয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। এই তারুণ্যকে ফেরাতে হবে। ভুল ভাঙাতে হবে। ভুল ভাঙাতে হলে দুর্নীতি, সন্ত্রাসমুক্ত, সৎ, আদর্শবান আলোকিত নেতৃত্বে ছাত্র রাজনীতিকে ঢেলে সাজাতে হবে। নিয়মিত তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন এবং নিয়মিত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের এ ক্ষেত্রে বিকল্প নেই। জামায়াত-শিবিরের ব্যানারে যে তরুণেরা রাস্তায় নেমে লড়ছে তারা তাদের জায়গা থেকে মহৎ আদর্শের জন্য লড়ছে। তাদের আদর্শ যে গ্রহণযোগ্য নয়, তাদের আদর্শ যে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের চেতনার পরিপন্থী তা তাদের বোঝানো হচ্ছে কোথায়? তাই বিএনপির মতো বৃহৎ রাজনৈতিক দল যেখানে সরকারের চার বছরে আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে রাস্তায় দাঁড়াতে পারেনি, সেখানে শিবির কর্মীদের ওপর নির্ভর করে জামায়াত একাই তাদের কর্মসূচি সফল করে তুলছে, তাদের আক্রমণের মুখে পুলিশ পালাচ্ছে। সরকার যখন আইন, বিধিবিধান দ্বারা নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল দল জামায়াতের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পুলিশ দিয়ে অব্যাহতভাবে দমন করতে চেয়েছে তখন সেই পুলিশের ওপর শিবির রুখেই দাঁড়ায়নি, মারমুখী আক্রমণ চালাচ্ছে। চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে। গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, চোরাগোপ্তা হামলা, সন্ত্রাস, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া শুভ আলামত নয়। বর্তমানে সেই অশুভ আলামত দেখা যাচ্ছে। তাই দেশবাসী উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত।একসময় যে পুলিশের লাঠির আঘাতে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মীদের রক্ত ঝরত রাজপথে, আজ সেই পুলিশের রক্ত ঝরছে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসরদের রাজনৈতিক উত্তরসূরিদের হাতে। এই তরুণদের কেউ বোঝাতে সক্ষম হচ্ছেন না যে, মুক্তিযুদ্ধে যারা পাকিস্তানি বাহিনীর হয়ে সশস্ত্র যুদ্ধ করেছে, অমানবিক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, যারা আমাদের মা-বোনদের ধরে নিয়ে গেছে বা ওদের হাতে তুলে দিয়েছে, যারা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বাড়িঘরে আগুন লাগাতে ভূমিকা রেখেছে, যারা আমাদের চিন্তাশীল বুদ্ধিজীবীদের ঘুমন্ত স্বজনের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের বিচার জাতির দীর্ঘদিনের দাবি। সেই যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবিতে কোনো কর্মসূচি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিচার শুরু হওয়ার পর যারা রাস্তায় নেমে ব্যানার, ফেস্টুনসহ গ্রেফতার ও নানা দণ্ডে দণ্ডিত করার দাবি করে আদালতের ওপর বা বিচার প্রক্রিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছেন তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি আদালতে বিচারাধীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জাতির বিতর্কিত সন্তানদের মুক্তির দাবিতে জামায়াত-শিবিরের এই তাণ্ডব, এই সহিংসতা সমর্থনযোগ্য নয়। সংসদীয় গণতন্ত্রের রাজনীতি যদি হয় দুই চাকার ওপর, তাহলে শক্তিশালী একটি চাকার নাম বিএনপি। সেই বিএনপি রাজনৈতিক জোট থেকে ধর্মান্ধ জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করে উল্টো বিচারাধীন মামলার আসামিদের মুক্তির দাবিতে ডাকা হরতালের প্রতি সমর্থনদান গ্রহণযোগ্য নয়, নিন্দনীয়। বিএনপির সংসদে যোগদান এবং সেখানে তাদের যে কোনো ইস্যু নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কের সূচনা ঘটানো সময়ের দাবি। যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর থেকে মহাজোটের মন্ত্রী-নেতারা অনেক দায়িত্বহীন বক্তব্য রেখেছেন। এখনো রাখছেন। মাননীয় আদালত সতর্ক করেও অনেকের মুখ বন্ধ করতে পারছেন না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল চোখ রাখছে। বিষয়টি যাতে রাজনীতিকীকরণ না হয় সেদিকে সরকারের খেয়াল রাখা বেশি জরুরি ছিল। তেমনি বিরোধী দলকেও মনে রাখতে হবে মানবতার বিরুদ্ধে পরিচালিত অপরাধে অভিযুক্তদের পাশে দাঁড়ালে আগামী দিনের রাজনীতিতে তাদেরও খেসারত দিতে হবে।
 
৩. পুলিশ কেন অসহায়ের মতো মার খাচ্ছে? এ প্রশ্নের উত্তর অনেকে খুঁজছেন। বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, 'জামায়াত সব পুলিশের ওপর হামলা করেনি। বেছে বেছে নির্যাতনকারী পুলিশের ওপর হামলা করেছে। তার পরও আমরা পুলিশের ওপর আক্রমণ সমর্থন করি না।' বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে যেদিন পুলিশ বেধড়ক পিটিয়েছিল সেদিন আমরা প্রতিবাদ করে বলেছিলাম, এটা অন্যায়। এটা আইন লঙ্ঘন। গণতন্ত্রবিরোধী। আজ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর শিবিরের সিরিজ হামলায় জয়নুল আবদিন ফারুক উৎফুল্লচিত্তে যে ভাষায় কথা বলেছেন তা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। প্রতিহিংসার ভাষা। বেছে বেছে পুলিশের ওপর হামলা হচ্ছে এটা তিনি জানলেন কোথা থেকে? তবে কি এ পরিকল্পনার সঙ্গে তিনিও জড়িত? ৩০ লাখ শহীদের রক্তস্নাত বাংলাদেশের বিজয়ের মাসে জামায়াতের হরতালের প্রতি বিএনপির সমর্থন যেমন সমালোচনার যোগ্য, তেমনি বিরোধী দলের চিফ হুইপের এ বক্তব্য অশালীন, অশোভনই নয়, চোরাগোপ্তা হামলাকারীদের উসকানির শামিল। তবে কি বিএনপি মহাসচিব এর আগে যখন 'জামায়াত-শিবিরের এই সহিংস কর্মকাণ্ডের দায় আমাদের নয়' বলেছিলেন তা কি সত্য নয়? বিএনপি মহাসচিব সত্য হলে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ভুল। বিরোধী দলের চিফ হুইপ ভুল হলে মহাসচিব ভুল। বিএনপিকে আজকের রাজনীতির এই কঠিন সময়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। এই পুলিশ সেই পুলিশ যে পুলিশের আইন ও বিধিবিধানবলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করার কথা থাকলেও অতীতে কখনো বিএনপি, কখনো বা আওয়ামী লীগের স্বার্থ রক্ষা করেছে। জনগণের সেবক না হয়ে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী না হয়ে রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রতিপক্ষের ওপর, সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন করেছে। পুলিশ বাহিনীকেও আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে আইন, বিধিবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে নাকি রাজনৈতিক শক্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে? পুলিশ জনগণের বন্ধু হলে পুলিশের ওপর পরিচালিত যে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদে মানুষ পাশে এসে দাঁড়াবে। আজ পুলিশের ওপর যে সহিংসতা জামায়াত-শিবির চালাচ্ছে তা সমর্থনযোগ্য তো নয়ই, এর বিরুদ্ধে গণমানুষকেও প্রতিবাদমুখর হতে হবে। যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদের বিকল্প নেই। পুলিশের অসহায়ত্ব সরকারের কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয় তো? আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মানুষকে এই মর্মে স্বস্তি দিয়েছেন যে, জামায়াত নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা সরকারের নেই। জামায়াত নিষিদ্ধ হলে গোপন রাজনীতিতে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটত। তবে কি সরকার চায় গণতান্ত্রিক বিশ্ব দেখুক জামায়াত-শিবির কতটা সন্ত্রাসী? এই কৌশল হলেও ভুল হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দুর্বল করলে ক্ষতি রাষ্ট্রের। জনগণের। তাই পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস রুখে দাঁড়াতে হবে। যারা আইন হাতে তুলে নিচ্ছে, আন্দোলনের নামে পুলিশের গায়ে হাত তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতে হবে। পুলিশকে মার খেলে চলবে না। পুলিশ মার খেলে ক্ষতি রাষ্ট্রের। এ ক্ষতি হতে দেওয়া যায় না। জামায়াত নির্বাচন কমিশনে তাদের গঠনতন্ত্র সংশোধনী এনেছে। ইসলামী রাষ্ট্রের বদলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে। আজকের জামায়াত নেতৃত্বকে ভাবতে হবে সত্যিই যদি কৌশল না হয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আদর্শ হয় তাহলে একাত্তরের কলঙ্কের দায় মাথা থেকে ফেলে ধর্মের রাজনীতির বদলে গণতান্ত্রিক চেতনায় সামনের রাজনীতিতে পথ হাঁটতে হবে। না হয় নির্বাচন কমিশনে দেওয়া এই সংশোধনী জামায়াতের রাজনীতিকে আরেক দফা মিথ্যাচারের ফ্রেমে বন্দী করবে। জামায়াত রাজনীতির বড় ভুল একাত্তরের কৃতকর্মের জন্য জাতির কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা না চাওয়া। আজ ফের সেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত নেতৃত্বকে রক্ষায় জামায়াত যদি শিবিরের ওপর নির্ভর করে ভুল পথে হাঁটে তাহলে এই প্রজন্মের জামায়াত-শিবিরকেও অনাগত প্রজন্মের কাছে প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে