Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০ , ১৮ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.5/5 (30 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১০-২০১১

জ্বালানির দাম বাড়ানো নিয়ে অস্থিরতা

জ্বালানির দাম বাড়ানো নিয়ে অস্থিরতা
সব ধরনের জ্বালানির দাম বাড়ানো (অর্থ মন্ত্রণালয়ের নথির ভাষায় মূল্য সমন্বয়) প্রশ্নে সরকারের নীতিনির্ধারক ও আর্থিক ব্যবস্থাপকদের মধ্যে অস্থিরতা চলছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় জাতীয় বাজেটের বরাদ্দ, জ্বালানির আমদানি মূল্য ও দেশের বাজারে দামের হিসাব-নিকাশ করে মূল্য সমন্বয়ের যৌক্তিকতা ও সুপারিশ তৈরি করছে। নীতিনির্ধারকেরা রাজনৈতিক বিবেচনায় তাতে সায় দিতে দ্বিধা করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এতে সরকারের ওপর ভর্তুকির চাপ বাড়ছে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাছে সিএনজির দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কিন্তু সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জ্বালানির দাম আরেক দফা বাড়ানো হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম, যাতায়াত ও পরিবহনের ব্যয়সহ জীবনযাত্রার সার্বিক ব্যয় আরও বাড়বে। অথচ সীমিত আয়ের মানুষ জীবনযাত্রার বর্তমান ব্যয়ভার নির্বাহ করতেই হিমশিম খাচ্ছে।
সিএনজি প্রসঙ্গ: রোকেয়া সরণির একটি সিএনজি স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুর রহমান গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলো কার্যালয়ে ফোন করে বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ানোর আইনি এখতিয়ার এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি)। সেখানে সিএনজির দাম বাড়ানোর কোনো প্রস্তাব নেই। এ অবস্থায় অর্থমন্ত্রী দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন কীভাবে!
পেট্রোবাংলা কিংবা সিএনজি খাতে তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি বিইআরসিতে সিএনজির দাম বাড়ানোর কোনো প্রস্তাব দিয়েছে কি না, জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর বলেন, নতুন কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। তবে গত ১২ মে দাম বাড়ানোর সময়ই সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল, অন্যান্য জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে তার সঙ্গে সংগতি রেখে সিএনজির দামও বাড়ানো হবে।
সরকারি সূত্রগুলো জানায়, সর্বশেষ মাত্র দুই মাস আগে ১৮ সেপ্টেম্বর সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সিএনজির দাম পুনরায় বাড়ানোর কথা উঠেছে। সিএনজির দাম জ্বালানি তেলের দামের ৪০ শতাংশ পর্যন্ত করা যৌক্তিক। তাতে প্রতি ইউনিট সিএনজির দাম ৩০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, বর্তমানে যা ২৫ টাকা নির্ধারিত।
পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি: সিএনজির দাম আরও বাড়ানোর বিপক্ষে যাঁদের অবস্থান তাঁদের যুক্তি হলো?এর ফলে যানবাহনে সিএনজি ব্যবহারের প্রবণতা কমবে। ফলে প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করে তাঁরা সরকারের বিশেষ আগ্রহে যে ব্যবসা শুরু করেছেন, তাতে ধস নামবে। এর ফলে তেলের আমদানি এবং তেলচালিত যানবাহনের ভাড়া আরও বাড়বে। ফলে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়বে। পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষয়ক্ষতি বাড়বে।
অপর দিকে দাম বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হয়, দেশের গ্যাস সম্পদের ওপর ১৬ কোটি মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। কিন্তু সব মানুষ সম্পদের এই সুবিধা ভোগ করতে পারছে না। সিএনজির সুবিধা নিচ্ছে মূলত শহরের বিত্তবানেরা। অথচ আবাসিক গ্রাহকেরা ঠিকমতো গ্যাস পাচ্ছে না। আর মফস্বল শহরের গ্রাহককে মাসে দুই হাজার টাকারও বেশি ব্যয়ে এলপি গ্যাস ব্যবহার করতে হয়। তাই বিশেষ কোনো গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে সিএনজির দাম কম রাখা ঠিক নয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশে সিএনজির দাম প্রতিবেশী ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে অনেক কম। বাংলাদেশে যেখানে অকটেনের তুলনায় সিএনজি ৭১ দশমিক শূন্য ৯ এবং ডিজেলের তুলনায় ৪৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ সাশ্রয়ী, সেখানে ভারতে এই সাশ্রয়ের হার যথাক্রমে ৫৮ ও ২৮ শতাংশ।
জ্বালানি তেল: সরকারি সূত্রগুলো জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরও এই খাতে চলতি অর্থবছরে (২০১১-১২) সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া বিদ্যুৎ খাতে যে পাঁচ হাজার ২০০ কোটি টাকা দিতে হবে, তারও অধিকাংশই জ্বালানি তেলের কারণে। এ অবস্থায় আবার জ্বালানি তেলের ?মূল্য সমন্বয়? ছাড়া সরকারের বিকল্প নেই।
সরকারি হিসাবে বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয় প্রায় ২২ টাকা করে। এ ছাড়া প্রতি লিটার অকটেনে তিন এবং পেট্রোলে প্রায় আট টাকা করে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
একাধিক সূত্র জানায়, সরকারের এই হিসাবের সঙ্গে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারদরের প্রায়ই মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল (১৬৮ লিটার) তেলের দাম ৯০ মার্কিন ডলারের কম। এর সঙ্গে জাহাজ ভাড়া, বন্দরের শুল্ক, ছোট জাহাজে করে তেল খালাস ও পরিশোধনের ব্যয় যুক্ত করলেও প্রতি লিটার তেলের দাম ৬৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।
অপরদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া হিসাব অন্য রকম। তাঁরা প্রথম আলোকে বলেন, ওয়েবসাইটে জ্বালানি তেলের যে আন্তর্জাতিক দর দেখা যায়, তার সঙ্গে বিপিসির কেনা দাম মিলবে না। কারণ, বিপিসি তেল কেনে শুধু সৌদি আরব ও আবুধাবি থেকে, ওই দুই দেশের সরকারি বিক্রয়মূল্যে।
দ্বিতীয়ত, সরকার অন্যান্য আমদানিপণ্যের মতো জ্বালানি তেলেরও একটি ট্যারিফ (নির্ধারিত দাম) ঠিক করে রেখেছে?প্রতি লিটার ৩১ মার্কিন সেন্ট। এর সঙ্গে সাড়ে ৪ শতাংশ কর ছাড়াও বন্দরের বিভিন্ন শুল্ক, অর্থ বিনিয়োগের সুদ (ফিন্যানশিয়াল কস্ট), বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির কমিশন, সরবরাহ ব্যয় প্রভৃতি যুক্ত করে গ্রাহক পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করা হয়।
তৃতীয়ত, অপরিশোধিত তেল এনে শোধন করে বাজারজাত করলে দাম কিছুটা কম পড়ে। কিন্তু দেশের একমাত্র শোধনাগারের তেল শোধনের বার্ষিক ক্ষমতা মাত্র ১৫ লাখ মেট্রিক টন। অথচ চাহিদা ৭০ লাখ টন। এ কারণে চাহিদার ৭৫ শতাংশের বেশি আমদানি করতে হয় পরিশোধিত তেল, যার কারণে দাম পড়ে বেশি।
বিশেষজ্ঞ অভিমত: জ্বালানির সম্ভাব্য দাম বৃদ্ধির অভিঘাত কেমন হতে পারে, জানতে চাইলে সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, অর্থনীতির বর্তমান অবস্থায় বিভিন্ন প্রকার জ্বালানির দাম বৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে উঠেছে। তবে তা একবারে বেশি করে নয়, বাড়াতে হবে অল্প অল্প করে। দ্বিতীয়ত, ছোট ও মাঝারি কৃষকের জন্য ভর্তুকি মূল্যে, বাজার দরের চেয়ে কম দামে জ্বালানি সরবরাহ করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনে কৃষকের জন্য কার্ডের প্রচলন করা যেতে পারে।
তৃতীয়ত, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে যে পরিমান অর্থ সাশ্রয় হবে, তা অবশ্যই উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ করতে হবে। এটা করা হলে দাম বাড়ানোর ফলে যে মূল্যস্ফীতি হবে, তার কিছুটা হলেও সমন্বয় করা যাবে।
দেবপ্রিয় বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হতে পারে। এগুলো করা না গেলে দাম বাড়ানোর প্রভাব খুবই বিরূপ হবে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে