Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০ , ১৮ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.8/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১০-২০১১

পাকিস্তানকে ইইউ-এর শুল্ক সুবিধা প্রস্তাবে বাংলাদেশের আপত্তি

পাকিস্তানকে ইইউ-এর শুল্ক সুবিধা প্রস্তাবে বাংলাদেশের আপত্তি
পাকিস্তানে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাকিস্তানকে তৈরী পোশাক শিল্পে শুল্ক সুবিধা দেয়ার যে প্রস্তাব করেছে, তাতে বাংলাদেশ আপত্তি জানিয়েছে। তবে পাকিস্তানকে প্রস্তাবিত ওই সুবিধা দেয়ার বিষয়ে সমর্থন করেছে ভারত। এ খবর দিয়েছে বিবিসি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলেছেন- স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) না হওয়ার কারণে পাকিস্তান এ সুবিধা পেতে পারে না। গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, পাকিস্তান এমন সুবিধা পেলে বাংলাদেশের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের আপত্তির ক্ষেত্রে যে যুক্তি দেখানো হচ্ছে তা আইনের মধ্যে পড়ে না। বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব গোলাম হোসেন বিবিসি?কে বলেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, পেরু, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, আমার দেশ কোন আপত্তি করেনি। বাংলাদেশ তার কনসার্ন জানিয়েছে যে, আটটি ট্যারিফ লাইনে তার সমস্যা আছে। এতে যেন কেয়ার দেয়া হয়। সোমবার যেটা হয়েছে, বাংলাদেশ ছাড়া আরও কয়েকটা দেশ জানিয়েছে, এতে তাদের সময় লাগবে এবং তাদের আরও কনসালটেন্স প্রয়োজন আছে। বাংলাদেশও একই কথা জানিয়েছে। আপত্তি প্রত্যাহার করেনি বাংলাদেশ। বিবিসি জানায়, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনীতি বিষয়ক বেসরকারি  গবেষণা সংস্থা সিপিডি?র ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের এই আপত্তি আইনে টেকে না। এই বাণিজ্য শুল্ক সুবিধা শুধুমাত্র যে স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যেই সীমিত থাকে, তা ঠিক না। কারণ হলো আরও অনেক নিম্ন আয়ের দেশ এই সুবিধা পেয়ে থাকে। কিন্তু বিষয়টি হলো  ১০০ শতাংশ শুল্ক সুবিধা পাবে কতখানি সেটাই হলো বিষয়। বাংলাদেশ থেকে যে আপত্তি তোলা হয়েছে, সেই আপত্তি বিধির ভেতরে পড়ে বলে আমার মনে হয় না। বিবিসি জানায়, অন্যদিকে বাংলাদেশে তৈরী পোশাক শিল্পের মালিকরা আশঙ্কা করছেন- পাকিস্তান ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই শুল্ক সুবিধা পেলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে। এই শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ?র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, এই আপত্তির মূল বিষয়টি হলো পাকিস্তান এলডিসি?র মধ্যে পড়ে না। এই সুবিধা শুধু এলডিসি?র দেশগুলোর  জন্য। আমরা মনে করি যেহেতু এটা বন্যার জন্য, সুতরাং ইউরোপীয় ইউনিয়ন অন্যভাবে আর্থিক সুবিধা দিতে পারে পাকিস্তানকে। আমাদের গার্মেন্টসে যে এক্সপোর্ট আছে  ৮০০ বিলিয়ন ডলার, সেখান থেকে ৫৮ শতাংশ ইউরোপে যায়। যদি পাকিস্তানকে ওই সুবিধা দেয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও পড়ে যাবে। কারণ, বিশ্বব্যাপী যে মন্দা দেখা যাচ্ছে তার জন্য সেপ্টেম্বর থেকে আমাদের রপ্তানি কমতে শুরু করেছে। তবে তৈরী পোশাক শিল্পের নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে একমত নন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পাকিস্তানকে যদি সুবিধা দিতেই হয় তাহলে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য ৮টি বড় বড় পণ্য আছে, সেগুলোর ওপরে শুল্ক সুবিধার ক্ষেত্রে কোটা বসাতে বলা হয়েছিল। অর্থাৎ গত তিন বছরের গড় পরিমাণের ওপরে পাকিস্তান ১০০ শতাংশ শুল্ক রেয়াত পাবে এবং পরে ২০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধির উপরে ধরে নিয়ে তার উপরে শুল্ক আরোপ করা হবে। এই ৮টি পণ্যের ভেতরে ৬টি পণ্যই কিন্তু মেনে নেয়া হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। সামগ্রিক বিচারে মনে হয়, এটাকে নিয়ে খুব বড় ধরনের নেতিবাচক বিবাদ উত্থাপনের সুযোগ বাংলাদেশের কাছে খুবই সীমিত। সর্বোপরি আমি মনে করি না যে, এর ফলে বাংলাদেশের বস্ত্র খাতে রপ্তানিতে এমন কোন বিশেষ নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। বাণিজ্য সচিব গোলাম হোসেন অবশ্য বলেছেন, বিষয়টিতে বাংলাদেশের উদ্বেগের ব্যাপারে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এই আলোচনার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সময়ও চাওয়া হয়েছে। ওদিকে বিলম্বে পাওয়া এক খবরে জানা গেছে, বাংলাদেশ এ নিয়ে যে আপত্তি উত্থাপন করেছে তা প্রত্যাহার করা হতে পারে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে