Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০ , ২৩ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.8/5 (64 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১৬-২০১৩

ব্রাদারহুড কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে মিসরে?

আনিস আলমগীর



	ব্রাদারহুড কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে মিসরে?
সিরিয়ার ডামাডোলে বিশ্ব মিডিয়া থেকে আপাতত তলিয়ে গেলেও থামেনি মিসরের সেনাশাসকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ইসলামিস্টদের আন্দোলন। দৃশত মনে হচ্ছে মিসরে 'সেনা প্রজাতন্ত্র' প্রতিষ্ঠা পেতে যাচ্ছে দীর্ঘমেয়াদে। প্রশ্ন উঠেছে, ইসলামিস্ট ব্রাদারহুড কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, কিংবা সেক্যুলারিস্টরাও কি তাদের সঙ্গে পুরোপুরি যোগ দিতে যাচ্ছে সেনাবিরোধী এই আন্দোলনে। আমেরিকার প্রত্যাশার বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে গণতন্ত্রের চর্চাইবা কতটুকু সম্ভব?
 
গত ৩ জুলাই মিসরের রাষ্ট্রপতি মুরসিকে সেনাবাহিনী ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে গৃহবন্দী করেছে। আর বেসামরিক লোকজন দিয়ে গঠন করেছে বিকল্প একটা সরকার। সরকারের প্রধান করা হয়েছে প্রধান বিচারপতিকে আর উপ-রাষ্ট্রপতি করা হয়েছিল সেক্যুলারিস্টদের মুরবি্ব নেতা নোবেল বিজয়ী আল বারাদিকে। মুরসির দল ইকওয়ানুল মুসলিমিন বা ইসলামিস ব্রাদারহুড মুরসিকে রাষ্ট্রপতি পদে পুনর্বহালের দাবিতে মিসরের বড় শহরগুলোতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। গত ১৪ অগাস্ট থেকে সেনাবাহিনী প্রতিরোধ ভাঙার জন্য মাঠে নেমেছে। এই প্রতিরোধ ভাঙতে গিয়ে ১৪ আগস্ট দুই শতাধিক লোককে হত্যা করা হয়েছে। উপ-রাষ্ট্রপতি বারাদি মানুষ হত্যার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন এবং মিসর ত্যাগ করে জেনেভা চলে গেছেন। বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ এনে বারাদির বিরুদ্ধে মিসরের আদালতে মামলা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত তিন সহস্রাধিক লোক নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইকওয়ান এ হত্যাকাণ্ডকে সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত গণহত্যা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
 
ইকওয়ানুল মুসলিমিন ক্যাডারভিত্তিক দল। তাদের প্রতিষ্ঠিত স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, সামাজিক কাজকর্ম, ব্যবসা মিসরব্যাপী বিস্তৃত। এমনকি খেলাধুলার উন্নয়নেও তারা সক্রিয় এবং তাদের অংশগ্রহণ রয়েছে। বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী তাদের অনুকরণেই ব্যবসা বিস্তার করেছে, দল চালাচ্ছে এখানে। ১৯২৮ সালে হাসান আল বান্না নামের এক স্কুলশিক্ষক ইকওয়ানুল মুসলেমিন সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারা ইসলামী বিপ্লবের প্রস্তুতি নিচ্ছিল প্রতিষ্ঠালগ্নের পর থেকেই। এ সংগঠনটিকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে হাসান আল বান্নাকে হত্যা করা হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে ইকওয়ানের তাত্তি্বক নেতা সাইয়িদ কতুবকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল মিসর সরকার।
 
চীন দেশে একটা প্রবাদ আছে_ 'যে ক্ষোভের পেছনে নীতি আদর্শ কাজ করে তাকে নিঃশেষ করা যায় না।' ৮৫ বছরব্যাপী চেষ্টা করেও ইকওয়ানের মূলোৎপাটন সম্ভব হয়নি। এখনো মনে হয় ইকওয়ানকে শেষ করা সম্ভব হবে না। মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশেই ইকওয়ানের সংগঠন রয়েছে। ইকওয়ান আরব জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে না; তারা জামালউদ্দীন আফগানীর প্যান ইসলামিজমে বিশ্বাসী। হাসান আল বান্না যখন ইকওয়ান গঠন করে ইসলামী আন্দোলন আরম্ভ করেছিলেন তখন তাহা হোসেন নামক অপর এক তাত্তি্বক সেক্যুলারিস্ট মুভমেন্ট শুরু করেছিলেন। তিনিও ছিলেন পেশায় একজন শিক্ষক। তাহা হোসেন লেখাপড়া করেছেন ফরাসি দেশে। ফরাসি বিপ্লবের সাম্য-মৈত্রী-স্বাধীনতার মন্ত্রে তিনিও উদ্বুদ্ধ ছিলেন। তিনি তার আন্দোলনের প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন দেখে এটিকে সাংগঠনিক রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। তাই মিসরের সেক্যুলারিস্টরা অসংগঠিত থেকে যায়। অথচ সংখ্যায় তারা ইসলামিস্টদের সমান। মোবারকের বিরুদ্ধে তারাই আন্দোলন শুরু করেছিলেন। ইকওয়ান আসে দ্বিতীয় পর্যায়ে। মিসরের সেক্যুলারিস্টরা ধর্মহীন না। তারা রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথক সত্তায় বিশ্বাসী আর রাষ্ট্রের মাঝে সব ধর্মের স্বাধীনতার পক্ষে। মিসরের সমাজ এখন সেক্যুলারিস্ট এবং ইসলামিস্ট এই দুই ধারায় বিভক্ত। আজকে এ দুই ধারা মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
 
মিসরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইকওয়ানের প্রার্থী ছিলেন ড. মহাম্মদ মুরসি। তিনি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। লেখাপড়া করেছেন আমেরিকায় এবং পিএইচডি ডিগ্রিও নিয়েছেন আমেরিকা থেকে। অপর শক্তিশালী প্রার্থী ছিলেন মোবারক সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আহাম্মদ শফি। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, মোবারকের পতনের পর মিসরে কোনো অন্তর্বর্তী সরকার ছিল না। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব ছিল সেনাবাহিনীর হাতে। তারাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আর পার্লামেন্ট নির্বাচনের আয়োজন করেছিলেন। আহাম্মদ শফি ছিলেন মূলত সেনাবাহিনীরই প্রার্থী। পশ্চিমা শক্তিরও সমর্থন ছিল আহম্মদ শফির প্রতি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আহাম্মদ শফিকে পরাজিত করে ড. মুরসি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছিল। দ্বিতীয় বৃহত্তম দল ছিল সালাভিদের নুর পার্টি। তারাও ইসলামপন্থি দল। জামে আল-আজহারের শেখদের সমর্থন রয়েছে নুর পার্টির প্রতি। পার্লামেন্ট গঠনের পর সংবিধান রচনার কাজ আরম্ভ হয়। ইকওয়ানিরা একটা খসড়া প্রকাশ করেন এবং সিদ্ধান্ত হয়, ১৫ ডিসেম্বর ২০১২ সংবিধানের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সেক্যুলারিস্টরা সংবিধানের দুটি অনুচ্ছেদ নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করেন। একটা অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, "ইসলামের নীতিমালা মিসরীয় আইনের দিকনির্দেশনা হবে।" সেক্যুলারিস্টদের মতে, এতে জনগণের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে। খসড়া সংবিধানের আরেকটি অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, "রাষ্ট্র মিসরের পারিবারিক ব্যবস্থায় নৈতিক মূল্যবোধ তুলে ধরবে।" সেক্যুলারিস্টরা বলেছেন, এর ফলে সর্বজনগৃহীত সংস্কৃতির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। সেকুল্যারিস্টদের সীমিত আপত্তি উত্থাপনের মাধ্যমে তা বোঝা যায় খসড়া সংবিধান রচনায় ইকওয়ানিরা ইসলামিস এজেন্ডা বাস্তবায়নে খুব একটা বাড়াবাড়িতে জড়িত হওয়ার চেষ্টা করেননি। ইকওয়ানুল মুসলিমিন প্রাচীন দল। ক্ষমতায় কখনো যায়নি। রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা হয়তো তার কম কিন্তু দীর্ঘ ৮৫ বছরে একের পর এক বিপর্যয় মোকাবিলায় তার অভিজ্ঞতা হয়েছে প্রচুর এবং বিপর্যয় উদ্ভবের প্রেক্ষাপটও তার জানা আছে। সম্ভবত সে কারণেই ইকওয়ান ইসলামিস এজেন্ডার সমাহারে পরিপূর্ণ কোনো সংবিধান রচনায় উৎসাহবোধ করেনি।
 
মিসরের সাংবিধানিক আদালত নির্বাচনের সময় নির্বাচন তদারকির কাজ করে থাকেন। সাংবিধানিক আদালতের সব বিচারককে মোবারক সরকার নিয়োগ দিয়েছিলেন। তারা সবাই আমেরিকার অন্যতম স্থপতি এডামসের নিয়োগকৃত মিডনাইট জাজদের মতোই। মোবারক সরকারের বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা করাই ছিল তাদের কাজ। সাংবিধানিক আদালতের বিচারকরা ঘোষণা দিলেন, তারা ১৫ ডিসেম্বর গণভোট তদারকির কাজ করবেন না। অবশ্য ২২ ডিসেম্বর ইকওয়ানের হাজার হাজার কর্মী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে সাংবিধানিক আদালত ঘেরাও করলে বিচারকরা সে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেন। এরপরও ড. মুরসি সম্ভবত সন্দেহ করেছিলেন, সংবিধান কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত হয়তো সাংবিধানিক আদালত তার কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করতে পারেন। তাই তিনি তার রক্ষাকবচ হিসেবে এক ডিক্রি জারি করে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় ক্ষমতা নিজের হাতেই নিয়েছিলেন। সেক্যুলারিস্টরা দাবি করলেন, অন্যায়ভাবে ক্ষমতা হাতে নিয়ে মুরসি নব্য ফেরাউন হতে চাচ্ছেন। সেক্যুলারিস্টদের মুরবি্ব বারাদি দাবি করেছিলেন গণভোট স্থগিত করার জন্য। মুরসি মানেননি। সেকুল্যারিস্টের আপত্তি করা দুটি অনুচ্ছেদ রেখেই গণভোটে সেই সংবিধান গৃহীত হয়। শেষ পর্যন্ত সংবিধান এবং রাষ্ট্রপতির এই ডিক্রিটা নিয়ে মিসরের সেক্যুলারিস্টরা এবং ইকওয়ানুল মুসলিমিন সম্পূর্ণভাবে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পরস্পর মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়।
 
সেক্যুলারিস্টদের মুরবি্ব নেতা আল বারাদির নেতৃত্বে মুরসিবিরোধী শক্তি 'তামারোদ' বা বিদ্রোহ নামে এক মোর্চা গঠন করেছেন। তারা মুরসির পদত্যাগের দাবি তুলেছেন এবং এ দাবির পক্ষে জনগণের স্বাক্ষর নিচ্ছেন। তামারোদিরা দাবি করেছেন তারা ১৫ মিলিয়ন স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন এবং তাদের সংগৃহীত স্বাক্ষরের সংখ্যা মুরসির প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে বেশি। তামারোদিরা স্বাক্ষরসহ মুরসিকে হটানোর এক দাবিনামা পেশ করেছেন মিসরের সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল সিসির কাছে। জেনারেল সিসি ৩ জুন মুরসিকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দেন।
 
মুরসিকে হটিয়ে সেনাবাহিনী বেসামরিক লোকজন দিয়ে যে সরকার গঠন করেছেন সেখানে চিহ্নিত মোবারকপন্থিদের স্থান দিয়েছেন এবং হোসনি মোবারককে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছেন। ধীরে ধীরে এ সত্য প্রকাশ পাচ্ছে যে, মোবারকপন্থিরাই বর্তমানে ক্ষমতায় ফিরে এসেছেন। ১৯৭৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির পর মিসর ও আনোয়ার সাদত আমেরিকার মিত্র হিসেবে আত্দপ্রকাশ করে এবং মার্কিন পুলিশি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। ইরানে জিম্মি মুক্তির যে অভিযান চালানো হয়েছিল তার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ মিসরের মাটিতে হয়েছিল। আনোয়ার সাদত আমেরিকার সুরে সুর মিলিয়ে ইরানের আধ্যাত্দিক নেতা খোমেনিকে উন্মাদ বলে অভিহিত করতেন। মোবারকও আনোয়ার সাদতের পায়ে পা রেখে চলেছেন। তাতে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে তার এজেন্ডা বাস্তবায়নে কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হয়নি। ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির পরও গাজায় ১৫ লাখ ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ ছিল। সিনাই বরাবর ছিল মিসরীয় সেনাবাহিনী আর অপর অংশে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। মুরসি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর হামাস নেতারা মুরসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অবরোধের কারণে তারা যে দুঃখ-দুর্দশার সম্মুখীন হচ্ছেন তার বিবরণ তুলে ধরেন। মুরসি তখনই মিসরীয় সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের আদেশ দেন। গাজায় মিসর থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী নিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হলে গাজায় অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের জীবনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা মুরসি ইসরায়েলকে অবহিত করেননি বা বিষয়টি ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ব আলোচনারও কোনো প্রয়োজনবোধ করেননি। এতে ইসরায়েল আর আমেরিকার উভয়ে মুরসির ওপর অসন্তুষ্ট হয়। গত নভেম্বর মাসে ইসরায়েল ঠুনকো অজুহাতে গাজায় আক্রমণ চালায় এবং নির্বিচারে বোম্বিং করে। পরবর্তীতে মুরসির কড়া প্রতিবাদের মুখে ইসরায়েল হামাসের সঙ্গে এক চুক্তিতে আবদ্ধ হয় এবং উভয়েই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। বহু বছর পর ইসরায়েল হামাসকে গাজার বৈধ কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকার করে নেয়। আগে ফিলিস্তিনিরা ভূমধ্যসাগরে মৎস্য আহরণ করে জীবিকানির্বাহ করত। কিন্তু ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলিরা ফিলিস্তিনিদের আর ভূমধ্যসাগরে মৎস্য আহরণ করতে দেয়নি। এবার কিন্তু মুরসির মধ্যস্থতায় যে চুক্তি সম্পাদিত হলো তাতে ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের সে অধিকার স্বীকার করে নেয়। বর্তমানে ফিলিস্তিনিরা সাগরে নির্বিঘ্নে মাছ আহরণ করছে।
 
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বর্তমানে বিশ্বের রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে বাক-বিভুতিতে এক পারদর্শী লোক। তিনি মুরসিকে হটানোর পর তার এক দোষ খুঁজে পেলেন। তা হলো- মুরসি সরকার নাকি 'ইনক্লুসিভ' ছিল না। ইসরাইলের সঙ্গে হামাসের বিরোধ মেটানোর ব্যাপারে মুরসি যদি ইনক্লুসিভ হতে পারেন তবে মিসরের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ইনক্লুসিভ হতে পারলেন না কেন? আমেরিকার ষড়যন্ত্র, আঞ্চলিক শক্তি ইসরায়েল আর সৌদি আরবের বৈরিতা_ সব মিলিয়ে মুরসির সরকার ইনক্লুসিভ হতে পারেনি। তারা অবরোধ বসিয়েছিল যেন মুরসির সরকার সর্বত্র নিজেকে প্রকাশ করতে না পারে।
 
মিসর স্বাধীন হয়েছে ১৯৩৬ সালে। মিসরের গত কয়েক প্রজন্মের লোকেরা স্বাধীনতার পর দেখেছে রাজতন্ত্র আর ১৯৫২ সাল থেকে সামরিক একনায়কতন্ত্র। গণতন্ত্রের স্বাদ তারা কখনো উপভোগ করতে পারেনি। এসব দেশে ব্যক্তি স্বাধীনতা আর্মির জেনারেলদের নিয়ন্ত্রণে অথবা দুর্নীতিবাজ আমলাদের মর্জির হাতে বন্দী। আরব বসন্তে মুক্তির যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্রে তা আবার তলিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমারা চায় না যে, মধ্যপ্রাচ্যে গণতন্ত্রের চর্চা হোক। গণতান্ত্রিক সরকারের গণভিত্তি থাকে আর একনায়কদের সেই ভিত্তি থাকে না। তাই সাধারণত তারা দুর্বল হয়। আমেরিকা এ দুর্বল সরকারই পছন্দ করে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য।
 
মিসরে সেক্যুলারিস্ট অথবা ইকওয়ান কারও কাছেই মোবারক জনপ্রিয় নন। মোবারকের মুক্তি, মোবারকের লোকজনের পুনর্বহাল দেখে সেক্যুলারিস্টরাও এখন উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন। তারাও কিছু কিছু জায়গায় বিক্ষোভ করছেন। সম্ভবত আল-বারাদি নিজের ভুল উপলব্ধি করতে পেরে উপ-রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে চলে গেছেন। ইকওয়ানিদের এখন উচিত সেক্যুলারিস্ট ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিনিমাম এজেন্ডার ওপর ভিত্তি করে সেনাশাসকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পথে অগ্রসর হওয়া। বিশ্ব মিডিয়ায় মিসরের এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ইসলামী জঙ্গি শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন হিসেবেও দেখা যাচ্ছে, সেই ইমেজ সংকট কাটানোরও দরকার আছে তাদের।
 
ইকওয়ানিরা তাদের তিন সহস্র কর্মীর মৃত্যুর পরও অস্ত্রের মোকাবিলা অস্ত্র দিয়ে করার কোনো খারাপ সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হননি। এটা তাদের শুভবুদ্ধির পরিচয় বহন করে। অস্ত্র মোকাবিলা অস্ত্র দিয়ে করলে দেশ তখন গৃহযুদ্ধের দিকে চলে যাবে। গৃহযুদ্ধের সুযোগ সৃষ্টি হলে পশ্চিমারা তখন প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এটা মিসরীয় জাতির জন্য সর্বনাশ ডেকে আনবে। গণজাগরণের মধ্য দিয়ে সেনা নায়কদের পতনের ব্যবস্থা করাই হবে উত্তম কাজ।
 
লেখক : সাংবাদিক ও শিক্ষক।

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে