Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৩০ মে, ২০২০ , ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.3/5 (44 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২৩-২০১৩

শেরপুরে ১৬৭টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতিৃ


	শেরপুরে ১৬৭টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতিৃ
শেরপুর, ২৩ সেপ্টেম্বর- আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী ও শেরপুর সদরসহ ৫টি উপজেলার প্রতিটি মন্দিরে চলছে বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রস্তুতি। পাশাপাশি সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা মানুষের মাঝে কিছুটা হলেও শঙ্কার সৃষ্টির করেছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কাবস্থা অবলম্বনে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা আগামী ১০অক্টোবর থেকে সারা দেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে চলবে ৫ দিনব্যাপী। শেরপুরে ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে জেলার ৪টি পৌরসভা ও ৫২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ১৬৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি ও রংতুলির কাজ চলছে। প্রতিটি মন্দিরেই এ উৎসবের আয়োজনে এখন মহা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন শিল্পী ও আয়োজকরা। বাঁশ দিয়ে অবকাঠামো তৈরি সহকর্মীদের দিয়ে মাটি নরম ও তৈরি করার পর প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ও মূর্তি গড়ার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। সরেজমিনে দেখা গেছে কোথাও কোথাও মূর্তি গড়ার পর শূকানোর কাজ চলছে আবার কিছু কিছু মন্দিরে রংতুলির কাজও শুরু হয়েছে।
মূর্তির রং করার কাজ নিয়ে দিনরাত মহাব্যস্ত হয়ে পড়েছে মৃৎ শিল্পীরা। একাধিক মন্দিরে মূর্তি তৈরির অর্ডার নিয়েছেন একজন শিল্পী কারিগর। এ সব শিল্পীদের সারা বছরের রুটিরুজির আয় আসে এ শারদীয় উৎসবের মূর্তি তৈরির শ্রমের মজুরী থেকে। নালিতাবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ বাজারের মৃৎশিল্পী গোপাল পাল বলেন, এবার তিনি ৭টি মন্দিরে মূর্তি তৈরির কাজ হাতে নিয়েছেন। ৬জনসহ শিল্পী নিয়ে তিনি মূর্তি শুকানোর পরে রং তুলির কাজ শুরু করেছেন। প্রতিটি মূর্তি নির্মানের জন্য তিনি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। আর এ আয় দিয়েই তার সংসারের ৬ মাসের ব্যয় ভার নির্বাহ হয়ে থাকে বলে জানান তিনি। শেরপুর সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের মোদক পাড়া সার্বজনীন মন্দিরের কর্মকর্তা ও পূজারী নেতা প্রানেশ মোদক বলেন, অতিসম্প্রতি কক্সবাজারের রামু ও উখিয়ায় সংখ্যালঘুদের মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সব সংখ্যালঘুর মনেই আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। শেরপুরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাস রয়েছে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে আশা করি সুষ্ঠুভাবেই উৎসব সম্পন্ন হবে।
শিল্পী পঙ্কজ কুমার বলেন, শারদীয় উৎসবই সবচেয়ে বড় পূজা। এবার তিনি ৯টি প্রতীমা তৈরীর কাজ পেয়েছেন এ আয় দিয়েই তার সারা বছর সংসার চলে বলে জানান। শেরপুর জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পূজারী দেবাশীষ ভট্টাচার্য বলেন, এবার ১৪৩টি মন্দিরে দূর্গাপূজার প্রস্তুতি শেষের পথে। নালিতাবাড়ীতে বিশ্বকর্মা তামা-কাঁসা শিল্পী পূজারী সুকান্ত বণিক বলেন, প্রতি বছরের মতো অনেক আনন্দের সঙ্গে উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে মানুষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনিও শারদীয় উৎসবের আয়োজন করছেন। তিনি বলেন, নালিতাবাড়ীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জল দৃষ্টান্ত রয়েছে। এখানে শত শত বছর ধরে হিন্দু-মুসলমান মিলেই এ উৎসব পালন করে থাকেন। তবে সম্প্রতি দেশের স্থানে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা নিয়ে মানুষের মাঝে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন যেভাবে আশ্বাস দিয়েছে সেভাবেই কাজ চলছে। তাতে নির্বিঘ্নে আমরা  উৎসব পালন করতে পারবো আশা করি। 
তবে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারী অনুদান এখনো আসেনি। শেরপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন  জানান, প্রতি বছরের মতো এবারো সরকারের অনুদান আসবে। তিনি বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজায় পরিবেশ ও আইন-শৃঙ্খলা সুন্দর রাখতে সরকারের নির্দেশ মোতাবেক সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শেরপুরের পুলিশ সুপার মেহেবুবুল করিম বলেন, শেরপুরে ১৬৭টি মন্ডপে দুর্গা পূজার আয়োজন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নিরাপওা ব্যবস্থার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মন্দিরগুলো পুলিশ, র‌্যাব, আনসারসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারি সংস্থার নজরদারিতে থাকবে।
 

শেরপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে