Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০ , ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২১-২০১৯

পুলিশ কর্মকর্তার উদ্যোগে নতুন জীবনে শিশু তামিমা

পুলিশ কর্মকর্তার উদ্যোগে নতুন জীবনে শিশু তামিমা

ঝালকাঠি, ২২ সেপ্টেম্বর- ঝালকাঠি শহরের কাঠপট্টি পুরাতন কলাবাগান এলাকায় বসবাস করেন ড্রেজার শ্রমিক মো. তাবির হোসেন জোমাদ্দার। ২০১৫ সালে তিনি বিয়ে করেন শাহনাজ আক্তারকে। ২০১৭ সালের ৪ আগস্ট তাদের কোলজুড়ে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান। নাম রাখা হয় তামিমা আক্তার। জন্ম থেকেই শিশুটি ‘মেনিংগোসেল’ রোগে আক্রান্ত। তার পিঠে গোলাকৃতির একটি টিউমারের মতো দেখা যায়। এক পর্যায়ে সেটি বড় হতে থাকে। এ রোগে শিশুটির মৃত্যু ঝুঁকি রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানায়।

একমাত্র সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না দরিদ্র পরিবারের। জমানো যে টাকা ছিল, তাও চিকিৎসায় ব্যয় হয়ে যায়। অর্থ সংকটে ভুগছিলেন তারা। কোথাও কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে ছুটে যান ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহমুদ হাসানের কাছে। তার কাছে শিশুটির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেন দরিদ্র বাবা।

মানবিক এ পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটির চিকিৎসার জন্য ঢাকার আগারগাঁও শিশু হাসপাতালে তার বন্ধু ডা. দেলোয়ার হোসেন ও ডা. সঞ্চিতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই দুই চিকিৎসক শিশুটিকে ঢাকা নিয়ে যেতে বলেন। নিজের খরচে শিশু তামিমা ও তার পরিবারকে ঢাকায় পাঠান মাহমুদ হাসান। চিকিৎসকরা শিশুটির চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব নেন পুলিশ কর্মকর্তা এম এম মাহমুদ হাসান।

দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে শিশুটির বয়স দেড় বছর হলে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর আগারগাঁও শিশু হাসপাতালে অপারেশন করা হয় তামিমার। ‘মেনিংগোসেল’ রোগ থেকে মুক্তি পায় শিশুটি। নতুন করে জীবন ফিরে পাওয়ায় শিশুটির বাবা মায়ের মুখে হাসি ফুটে উঠে। স্বস্তি ফিরে আসে দরিদ্র এ পরিবারটির। বর্তমানে তামিমা পুরো সুস্থ।

শিশুটির বাবা তাবির হোসেন বলেন, আমার মেয়ের জীবন যখন সংকটাপন্ন, তখন আমি মাহমুদ স্যারের কাছে গিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করি। তিনি আমার মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন। চিকিৎসার সব টাকা তিনি দিয়েছেন। তার কাছে আমরা চিরঋণী। এমন মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা সব জেলাতেই থাকা প্রয়োজন। আমরা সব সময় তার জন্য দোয়া করি।

ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহমুদ হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘মেনিংগোসেল’ রোগটি প্রথমে আমরা বুঝতে পারিনি। আমার ঢাকায় দুই বন্ধু চিকিৎসকের কাছে পাঠানোর পরে তারা রোগটি ধরতে পারেন। শিশুটির চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করে দিতে পেরে আমিও আনন্দিত। আমারও সন্তান রয়েছে। আমি ওই পরিবারের অসহায়ত্বের কথা শুনে নিজেও কষ্ট পেয়েছি। নিজের সন্তানের মতোই যত্ন নিয়ে তার চিকিৎসার খরচ বহন করেছি।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/২২ সেপ্টেম্বর

ঝালকাঠি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে