Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২০ , ২৪ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-১৬-২০১৯

নাগরিকত্ব নিয়ে আসামে শঙ্কা

নাগরিকত্ব নিয়ে আসামে শঙ্কা

দিসপুর, ১৭ ডিসেম্বর- আসামের বোকো জেলার একটি গঞ্জ এলাকা সমরিয়া। এর পাশেই কিছুটা দূরের গ্রাম ষোলাগাঁও। এ গ্রামে এন আ রসি থেকে বাদ পড়েছেন অনেক মানুষ। বাঙালি হিন্দু প্রধান এই গ্রামের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের নাম এন আর সি থেকে বাদ পড়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় স্থানীয় কয়েক বাসিন্দার সাথে। স্থানীয় জগবন্ধু রায় জানান, তার পরিবারে চার সদস্যের মধ্যে তিনজনের নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে।

তিনি বলেন, কেউ কেউ বলছে যে এন আর সিতে যাদের নাম আসে নি, তারা নাগরিকত্ব পাবে ঠিকই কিন্তু শরণার্থী হিসাবে। আমরা কেন শরণার্থী হিসাবে নাগরিকত্ব নিতে যাব! আমরা তো এখানকারই বাসিন্দা!

পাশেই ছিলেন গ্রামেরই আরেক বাসিন্দা ঈশ্বর চন্দ্র রায়। তিনিও ভরসা পাচ্ছেন না। খবর বিবিসি বাংলার।

ঈশ্বর বলেন, আমাদের কোনও লাভ-অলাভ কিছুই হবে না। উল্টে অশান্তি ডেকে এনেছে। এখানে আমরা বাঙালী হিন্দু আছি, অসমীয়ারা আছে, আর মুসলমানরা আছে, তারাও বাঙালী। এই আইনের পরে তিনপক্ষের মধ্যে একটা অশান্তি লাগিয়ে দিল সরকার।

বাড়ির কাজে ব্যস্ত ছিলেন গ্রামের দুই নারী সরস্বতী রায় আর সুস্মিতা রায় - একজন প্রবীণ, আরেকজন মধ্যবয়সী।

নাগরিকত্ব আইনে হিন্দু বাঙালীরা কতটা লাভবান হবেন - এই প্রশ্নে সরস্বতী রায় বলেন, নতুন আইনটা ঠিক কী জানি না, তবে শুনছি এন আর সি থেকে যারা বাদ গেছে, তাদের ভালই হবে। তাদের নাম এন আর সিতে ঢুকবে।

আর সুস্মিতা রায়ের কথা ছিলো, সরকার বলছে এতে আমাদের ভাল হবে, আবার অনেকে বলছে এটা খারাপ। এখন সরকারই বুঝবে আমাদের কীসে ভাল হবে। আমরা সাধারণ মানুষ তো অতশত বুঝি না!

মুসলিম প্রধান এক গ্রাম

ষোলাগাঁও থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের দিকে এগিয়ে বেশ কিছুটা দূরে সনতলী মূলত মুসলমান প্রধান এলাকা। এ গ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় গ্রামের গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়র গবেষক ইউনুস আলি মোল্লার সঙ্গে। তার আশঙ্কা এই আইন করা হয়েছে মুসলমানদের দেশছাড়া করতে।

তিনি বলেন, নাগরিকত্ব আইনের জোরে এন আর সি থেকে বাদ পড়া হিন্দু ভাইদের নাগরিকত্ব দিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এন আর সি থেকে তো অনেক লাখ মুসলমানও বাদ পড়েছেন। তাদের কী হবে! আমার মনে হয় সরকার চাইছে মুসলমানদের দেশ ছাড়া করতে।

ওই সনতলি বাজারে দেখা হয় সিরাজুল হক ভুঁইয়ার সঙ্গে।

নাগরিকত্ব আইনের প্রসঙ্গ তুলতেই রাগে ফেটে পড়েলেন তিনি, এটা মুসলিম বিদ্বেষী আইন! অন্যান্য যত ধর্মের মানুষ আছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে এই আইনে - শুধু মুসলমানরা বাদ ! এর অর্থটা কী!

ফেরার পথে সমরিয়ার হাটে দেখলাম নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে যে সত্যাগ্রহের প্রস্তুতি চলছিল সকালে, সেখানে বহু নারী পুরুষ - হিন্দু মুসলমান- অসমীয়া মানুষ জড়ো হয়েছেন।

তাদের মধ্যে অষ্টমী কলিতা নামে একজনের সাথে কথা হলো।

তার কথা ছিল এরকম - আসামে হিন্দু-মুসলমান সকলেই একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। কারও মধ্যে কোনও ঝগড়া নে।. কিন্তু নতুন আইন করে যদি বিদেশীদের এখানে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয় - তা কখনই মেনে নেয়া যায় না।

তিনি বলেন, হিন্দু হোক বা মুসলমান - স্থানীয় ছেলেমেয়েরাই বেকার বসে আছে - এই অবস্থায় বাইরের মানুষকে নতুন করে নিয়ে আসা হলে স্থানীয়রা কী করবে?

আর/০৮:১৪/১৭ ডিসেম্বর

আসাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে