Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ৯ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.9/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-১৬-২০১১

কতখানি এগিয়েছি আমরা, কতখানি পারতাম?

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম


কতখানি এগিয়েছি আমরা, কতখানি পারতাম?
একজন মানুষের বেড়ে ওঠা আর একটা দেশের বেড়ে ওঠার মধ্যে পার্থক্য অনেক; এই বেড়ে ওঠার শর্ত এবং মৌল শক্তির তুলনা হওয়ারও কথা নয়। তার পরও একটা সাযুজ্য, আলোচনার খাতিরে হলেও টানা যায়; অন্তত দেশের বেড়ে ওঠা না-ওঠার কারণগুলো তাতে বুঝতে সুবিধা হয়। সে জন্য ১৯৭১ সালে ভূমিষ্ঠ একজন কল্পিত মানুষের প্রসঙ্গ আমরা তুলতে পারি, যে মানুষটির বয়স এখন ৪০। তার যৌবনের প্রথম পর্ব অতিক্রান্ত; আরও বছর দশেক পর তিনি প্রৌঢ়ত্বে ঢুকে পড়বেন। ৪০ বছরে তাঁর শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার কথা; তাঁর বিয়ে ও চাকরি করা এবং সংসারজীবনে বেশ ভালোভাবে ঢুকে যাওয়ার কথা। তিনি যদি খুব সফল মানুষ হন, তাহলে সেই সাফল্যের পেছনের কারণগুলো কারও অজানা থাকার কথা নয়। আর যদি তিনি অসফল মানুষ হন, তাহলেও কেন এই অসফলতা, সে ব্যাপারেও পরিষ্কার একটা ধারণা অনেকেরই থাকার কথা। আর যদি সেই মানুষটির জন্মের সময় বড় হলে তাঁর চমৎকার একটা জীবন পাওয়ার অনেক সম্ভাবনাই সমুজ্জ্বল থাকে, কিন্তু সেসব কাজে লাগাতে মানুষটি সফল না হয়, তাহলে বুঝতে হবে তাঁর যতটুকু সামনে যাওয়ার কথা ছিল, ততটুকু না যেতে পারার ব্যর্থতার দায়টা অনেকটাই তাঁর।
কেমন অনুভূতি হয় সে মানুষটিকে দেখে, যিনি সব সুযোগ নিজের হাতে ঠেলে ফিরিয়ে দিয়েছেন; যিনি নিজের জন্ম নিয়ে মাঝেমধ্যে বিভ্রান্ত; কোন দিকে যেতে হবে তাঁকে, তা নিয়েও অনিশ্চিত; যাঁর স্বাস্থ্যে সংকট, শরীর যাঁর অপুষ্ট; যাঁর মুখের কথা অপরিষ্কার, যিনি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতাটা অর্জন করতেই পারেননি এবং যিনি সমাজে মাথা উঁচু করে রাখতে অপারগ? কেমন অনুভূতি হয় সে মানুষটিকে দেখে, যাঁর দুটি হাত একে অপরকে নিয়ত প্রতিহত করে, দুটি পা সারাক্ষণ একটির সঙ্গে আরেকটি কলহ করে? যাঁর মনের স্বপ্ন চোখের পাপড়ি বেয়ে বাইরে বেরুনোর আগেই শরীরের ব্যাধিগ্রস্ত কোষগুলো তাদের নিঃশেষ করে দেয়, এবং যাঁর প্রাণশক্তির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় সুষ্ঠু পরিচর্যার অভাবে? সেই মানুষটিকে দেখে, আর যাই হোক, সমাজের জন্য মূল্যবান বলে ভাবা যাবে না। করুণা হবে তাঁকে নিয়ে; সমীহ কখনো নয়।

২ .
এবার তাহলে ৪০ বছর বয়সী বাংলাদেশের দিকে একবার তাকাই আমরা। একাত্তরে একটা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশটির জন্ম হয়েছিল। সেই যুদ্ধ যখন হয়, তখন একটা অত্যন্ত ক্ষুদ্র অংশ বাদ দিলে বাকি সবাই, সারাটা জাতি, ঐক্যবদ্ধ ছিল। দেশটি স্বাধীনতা পেলে সারা মুক্ত বিশ্ব একে অভিনন্দন জানায়। এর জন্য ভালোবাসা ছিল সর্বত্র, সমীহও ছিল, যদিও মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পক্ষটি ও তার দেশি-বিদেশি দোসররা দারুণ অখুশি হয়েছিল। কিন্তু শুরু থেকেই বিশ্বের এই সহমর্মিতা ও সমীহকে আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। একটি চমৎকার সংবিধান আমরা পেয়েছি, কিন্তু সংবিধানের মূল নীতিগুলোর অনুসরণ ও পরিচর্যার প্রস্তুতি, শিক্ষা বা সামর্থ্য আমাদের ছিল না। স্বাধীনতাকে আমরা শুধু রাজনৈতিক ছকে ফেলে বিচার করেছি আর পুলকিত হয়েছি, কিন্তু স্বাধীনতার অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দিকগুলো নিয়ে খুব কমই ভেবেছি। মুখে সমাজতন্ত্রের কথা বলেছি, কিন্তু শ্রেণী-বৈষম্য বাড়তে দিয়েছি; মুখে গণতন্ত্রের কথা বলেছি, কিন্তু মনেপ্রাণে পরার্থপরতাকে গ্রহণ করতে পারিনি; নানা এলিট ও কর্তৃত্বকামী চিন্তায় গণতন্ত্রকে শক্তিহীন করে রেখেছি। ১৯৭৫ সালের আগস্টের সেই শোকাবহ দিনের পর, বঙ্গবন্ধুকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর, সামরিকবাদ ও স্বৈরতন্ত্র পুরোপুরি ক্ষমতা দখল করেছে বাংলাদেশের। এর ফলে মুক্তিযুদ্ধ যে বিশ্বাসের জায়গাটা তৈরি করেছিল দেশটাকে নিয়ে, তা অপদখল হয়ে প্রায় হারিয়ে গেল। একাত্তরে যে শক্তিটি একটি ভগ্নাংশের সামান্যতা নিয়ে পাকিস্তানিদের সহায়তায় একটা বর্বর বাহিনী হিসেবে দাঁড়িয়েছিল, সেই শক্তি, এই ৪০ বছর পর আবারও জেগেছে। এবার তাদের সহায়তায় আছে সেই দলটি, যারা দুবার দেশ শাসন করেছে। এই দলটির নেত্রী যখন প্রকাশ্য জনসভায় যুদ্ধপরাধীদের বিচার বন্ধের দাবি জানান, তখন বোঝা যায়। খুব একটা এগোয়নি বাংলাদেশ।
জেনারেল এরশাদের পতনের পর দেশ ফিরল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়। কিন্তু প্রকৃত গণতন্ত্র কি এল? না এল গণতন্ত্রের একটা খোলস, যা মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে পরিহাসই করেছে এই কুড়ি বছর? এই কুড়ি বছরে সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি জাতীয় সংসদটিই রইল অকার্যকর। সংসদে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি এই কুড়ি বছর ধরে এক বিরাট প্রহসনকেই নৈমিত্তিকতা দিয়েছে। আমাদের রাজনীতির ভাষা এখন অশালীন, দুর্নীতি সর্বগ্রাসী, রাজনীতি এখন ব্যবসার একটা জায়গা। এখন সংসদের ৬৫ ভাগ সদস্য ব্যবসায়ী। রাজনীতি এখন কেনাবেচার একটা মাধ্যম।
আর রাজনীতি যতটা খারাপ, তার থেকে তাকে আরও খারাপ প্রমাণ করে সামরিক শাসন এসেছে—আপন নামে, ছদ্মনামে। কিন্তু তাতে দুর্নীতি বেড়েছে বই কমেনি, প্রশাসন হয়ে দাঁড়িয়েছে চূড়ান্ত অপশাসনের নাম। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝরাতে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত নিবাসে নিয়ে যাওয়ার প্রশ্নহীন অধিকার নিজেদের দিয়ে দেয় একটি গোষ্ঠী, তখন দেশটা, ওই অপুষ্ট ও স্বাস্থ্যহীন মানুষটির মতোই, পতনের দিকে নির্ঘাত কয়েক পা এগোয়।
গত ৪০ বছরে দেশটা অনেক দূর যেতে পারত, কিন্তু পারেনি এসব নানা কারণে: দারিদ্র্য এবং দারিদ্র্যকে জয় করতে পারে যেসব অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, নীতি-দিকনির্দেশনা এবং কর্মসূচি সেগুলোর অভাব, বলা যায় এগুলোর গুরুত্ব অনুধাবনের ক্ষেত্রে আমাদের নীতি-নির্ধারকদের চরম দারিদ্র্য; এক বিশাল জনসংখ্যা, যাকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সেই নিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যাকে সম্পদে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে কর্মযজ্ঞ ও দূরদৃষ্টির অভাব, অশিক্ষা এবং অশিক্ষাকে এক প্রজন্মের মধ্যে অতীতের বিষয় প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ, উদ্যম, নীতি ও বিনিয়োগের অভাব এবং সামাজিক বৈষম্য ও এই বৈষম্যকে ক্রমাগত কমিয়ে এনে গ্রামোন্নয়ন এবং গ্রামভিত্তিক জাতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে অনীহা এবং অপ্রস্তুতি। মুক্তিযুদ্ধ যতটা প্রত্যয় ও স্থির লক্ষ্য নিয়ে আমরা লড়েছিলাম, বাংলাদেশের অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সে রকম লড়াইয়ের ধারেকাছে আমরা যেতে পারিনি।
বাংলাদেশের অস্তিত্ব যারা মেনে নেয়নি, তাদের পক্ষে গত ৪০ বছরে যোগ দিয়েছে অনেক ছোট-বড় দল, যাদের কাছে পাকিস্তান ও ইসলাম সমার্থক। এদের সংখ্যা বেড়েছে। এখনো বাড়ছে। এদের সঙ্গে আরও আছে যারা ইসলামের সঙ্গে উগ্রবাদকে মিলিয়ে ফেলে। গত ৪০ বছরে এরা দেশের স্বৈরতন্ত্রী থেকে নিয়ে ডানপন্থী নানা মহলের সহায়তা পেয়ে পুষ্ট হয়েছে। জনসংখ্যার এই অংশটি স্বভাবতই প্রগতিশীল চিন্তার, বিজ্ঞানমনস্ক ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যকামী সব মানুষকে তাদের প্রতিপক্ষ ভেবেছে। এর ফলে যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনো ধারণাগত বিষয় নয়, বরং এর অবস্থান আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবে। আমাদের রাজনীতিতে এর এমন প্রভাব পড়েছে যে আওয়ামী লীগ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আয়োজন করলে বিএনপি তা প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়। বিএনপি অবশ্য ‘আন্তর্জাতিক মানের বিচার হচ্ছে না’ এসব বলে একটা যুক্তি খাড়া করার চেষ্টা করছে, কিন্তু সবার কাছে এটি এখন পরিষ্কার, দলটির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামের আদর্শগত অবস্থানের (যা মুক্তিযুদ্ধের সময় একে বাংলাদেশবিরোধী করেছিল) আর কোনো পার্থক্য নেই।
একটি দেশের ৪০ বছরের ইতিহাস যদি হয় রাজনৈতিক দলগুলোর এ রকম বৈপরীত্য, বিরোধিতা, সংঘর্ষ, সন্ত্রাস ও প্রকাশ্য বৈরী অবস্থানে, দেশটি তাহলে এগোবে কীভাবে? তার ওপর যদি দুর্নীতির অপ্রতিরোধ্য বিস্তার ও নৈতিকতার চূড়ান্ত অবক্ষয়ের মধ্যে পড়ে দেশটির দশা হয় অসংখ্য জোঁকের মুখে পড়া কোনো দুর্বল প্রাণীর মতো, এর নিরক্ত হতে আর কতদিন লাগে? এর সঙ্গে যোগ করুন শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাব, মাদকের বিস্তার, তরুণ জনগোষ্ঠীর সামনে উদ্দেশ্য ও আদর্শের অভাব। আরও যোগ করুন জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের বিশাল বিস্তৃতি। চোরাবাজারি ও সিন্ডিকেট ব্যবসা; টেন্ডারবাজি ও মাস্তানতন্ত্রের ব্যাপক বৃদ্ধি এবং নারীদের প্রতি সহিংসতার প্রাবল্য। বিশ্বের সব দেশেই সমস্যা থাকে, অনেক দেশেই সামাজিক সমস্যা আমাদের চেয়েও প্রবলতর। কিন্তু খুব কম দেশেই এসব সমস্যা এতটা প্রতিরোধযোগ্য, যতটা বাংলাদেশে।
যদি আমাদের শিক্ষাটা যেত সবার অধিকারে, যদি রাজনৈতিক সহনশীলতা হতো আরেকটু উন্নত এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমাজ ও রাজনীতিতে থাকত ঐকমত্য, তাহলে অনেক সমস্যারই সমাধান হতো। ধরুন, জাতীয় সংসদে যদি বিরোধী দলগুলোর সপ্রাণ উপস্থিতি থাকত (যা এমনই স্বতঃসিদ্ধ একটি বিষয় যে এর ব্যতিক্রমটা হতভম্ব করার মতো); সরকারগুলো গ্যাস, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও পররাষ্ট্রবিষয়ক জাতীয় ইস্যুগুলোর সঙ্গে বিরোধী দলের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে পারত; তাদের মতামত ও আপত্তি-অনাপত্তি আমলে আনত, নির্বাচন কমিশন ও জনগুরুত্বপূর্ণ নানা নিয়োগে বিরোধীদলের মতামতকে গুরুত্ব দিত, দেশটার প্রবৃদ্ধি গত কুড়ি বছর একটানা সাত থেকে নয় এমনকি ১০-এর মধ্যে থাকত।
৩.
যা হয়নি তা নিয়ে আক্ষেপ করে লাভ নেই। কিন্তু যখন ভারত বা শ্রীলঙ্কায় যাই, অথবা থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়াতে, মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়। খুব কষ্ট হয়, এই ভেবে, সামনে এগোনোর রাস্তাটা আমাদের সামনেই তো ছিল। তাহলে কেন তাতে পা রাখতে পারিনি আমরা? থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়ার কথা না-ই বললাম, ভারত-শ্রীলঙ্কাও যে উন্নতি করেছে, তা চোখ ধাঁধানো না হলেও তারিফ করার মতো। কেন তারা পারল? কারণ এ দুই দেশে, বিশেষ করে ভারতে উন্নয়নের ব্যাপারে একটি জাতীয় ঐকমত্য আছে। আমাদের নেই। আমাদের কোনো সরকার ভালো করলে বিরোধী দল হরতাল দিয়ে, ধ্বংসাত্মক নানা কর্মসূচি দিয়ে তার সুফলটা তাকে তুলতে দেয় না। সুফলটা যদিও সরকার শুধু তোলে না, সুফলটা তো যায় মানুষের ঘরে। কিন্তু এ কথা কে কাকে বোঝাবে? এই দেশেই তো একটা প্রবাদ প্রতিদিন ব্যবহার করে মানুষ, মুখে এবং কাজে: ‘নিজের নাক কেটে পরের যাত্রাভঙ্গ।’ তবে আমাদের বাস্তবতায় প্রবাদটাকে একটু বদলে দিতে হয়, বলতে হয়: নিজের নাক কেটে নিজের যাত্রাভঙ্গ। কতটুকু এগোলাম তাহলে গত ৪০ বছরে? ততটুকু, যতটুকু মানুষ এগিয়ে নিয়ে গেছে। সরকার সত্ত্বেও যদিও তা নেহাত কম নয়, খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার মতো এবং কয়েক হাজার লোকের ছোট ছোট আগা খান বনে যাওয়ার মতো। অর্থাৎ ততটুকু, যতটুকু কৃষক ফসল ফলিয়েছেন, শ্রমিকেরা কলকারখানায়, তৈরি পেশাকশিল্পে, প্রবাসে পিঠভাঙা পরিশ্রমের কাজ করেছেন এবং দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। দেশ এগিয়েছে ততটা, যতটা মানুষ রাষ্ট্রযন্ত্রের নিবর্তনে পিষ্ট হতে হতে রাজনীতিবিদ ও সামরিক-আধাসামরিক শাসকদের নানা নামের, নানা আয়োজনের শাসনের নিগড় উপেক্ষা করে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। এই এগিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব সাধারণ মানুষের। এ দেশের সাধারণ মানুষের ক্যানসার হলেও চিকিৎসা মেলে না, অথচ গুরুত্বপূর্ণদের সর্দি কাশি হলেও রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে চিকিৎসা হয়। তার পরও এই দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন কৃষক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ। তবে ভালো হতো যদি এই এগিয়ে যাওয়ার পেছনে সুস্থ রাজনীতি সক্রিয় গণতন্ত্র থাকত; সামাজিক সুস্থিতি এবং জাতীয় ঐকমত্য থাকত। এগুলো নেই।
আরও ভালো হতো যদি উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ও আবাসন থাকত সবার। এগুলোও নেই।
ভালো কি হতো না, যদি শ্রেণীবৈষম্য না থাকত, নারীর প্রতি সহিংসতা না থাকত, উগ্রবাদ না থাকত? অথবা দারিদ্র্য এবং জনসংখ্যার বিশাল বোঝা?

৪.
৪০ বছরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি, কিন্তু আগামী ৪০ বছরে যে হবে না, তেমনটি নিশ্চয় বলা যায় না। কিন্তু যদি না হয়? হায় ওই মানুষটির মতো, আরও ৪০ বছরে দেশটির বয়সও যে ৮০ বছর হয়ে যাবে। তখন অতি বৃদ্ধ এই দেশটির আর আশা করারই বা কী থাকবে? বৃদ্ধ অথবা অকালবৃদ্ধ লোলচর্ম, ক্ষয়প্রাপ্ত, ব্যাধিগ্রস্ত একটি দেশ আমরা চাই, না চাই স্বাস্থ্যবান, সুস্থ এবং শক্তিশালী একটি দেশ? না, প্রশ্নটা তাদের জন্য নয়, যাঁরা দেশটাকে তাঁদের শ্রমে-ঘামে এত দূর নিয়ে এসেছেন। প্রশ্নটা তাঁদের জন্য, যাঁরা দেশটাকে লুটেপুটে খাচ্ছেন, আর একে অপরের পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করে সেই ঝগড়াকে খুনোখুনির পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দেশটা জ্বরাগ্রস্ত পঞ্চাশ-ষাট-আশি হলে তাদের তো বিদায় নিতে হবে।

৫.
অনেক দূর যেতে পারে দেশটা। যাঁরা এতদূর নিয়ে এসেছেন একে, তাঁরা একে আরও বহু দূর নিতে যেতে প্রস্তুত। কিন্তু আমরা সবাই প্রস্তুত কি?
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম: কথাসাহিত্যিক। অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে