Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০ , ২৬ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-৩০-২০১৯

দেশ ঘুরে এলাম

আবদুল গাফফার চৌধুরী


দেশ ঘুরে এলাম

দেশ ঘুরে এলাম। বাংলাদেশ আমার মা। ইংল্যান্ড আমার বিমাতা। এই বিমাতার কোলে আছি গত প্রায় অর্ধশতক ধরে। বিমাতা এখনও ধনে-জনে পূর্ণ। মা আমার চিরদুঃখিনী। এখন রাজধানীসহ শহরগুলোর চেহারা কিছুটা ফিরেছে। আগে রাজধানী শহরেরও ছিল পল্লিবালার ছাপ। এখন মা আধুনিক হয়েছেন। সুউচ্চ অট্টালিকা, প্রশস্ত রাস্তাঘাট, অসংখ্য উড়াল সেতু, মা আমার কসমোপলিটান হয়েছেন।

শহরের মেয়েদের মুখেও সেই নগরায়ণের ছাপ। আগে যারা ঘরে বসে ছেলেকে দুধ খাওয়াতেন, এখন তারা হকিস্টিক হাতে মাঠে হকি খেলেন। ইসলাম যে দেশের রাষ্ট্রধর্ম, সে দেশে তারা মুম্বাইয়া ঢঙে, অর্ধবসনে মুম্বাইয়া গান ধরেন। একটি বিয়ে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। গান শুনে ও নাচ দেখে মনে হলো, মুম্বাই শহরে আছি। অনুষ্ঠান শেষ হতে বুঝলাম, ঢাকা শহরে আছি। যে গান শুনেছি তা বাংলা গান।

বাংলা ছবি দেখি না আজ ৪০ বছর। দেখি না বললে ভুল বলা হবে। ঢাকা ও কলকাতার দু'চারটি ভালো ছবি দেখেছি। ইউসুফ বাচ্চুর গেরিলা ছবি, নতুন ছবিটিও দেখেছি। তিনি ভালো পরিচালক। ফারুকের দু'চারটা টেলিফিল্ম ও নাটক দেখেছি। সন্দেহ নেই, সিনেমা শিল্পে দেশ এগোচ্ছে। হুমায়ূন আহমেদ বেশ কয়েকটি পরিচ্ছন্ন নাটক ও ফিল্ম দিয়ে গেছেন দেশকে। তার গল্প নিয়ে এখনও ছবি তৈরি হচ্ছে। তবে তার আবেদন কম।

বলেছি বাংলাদেশে ছায়াছবি, নাটক এগোচ্ছে। কিন্তু কিছুটা এগিয়েই মুম্বাইয়া ছায়াছবির অপসংস্কৃতির খপ্পরে পড়েছে। না পড়ে উপায় নেই। এটা বিশ্বায়নের যুগ। বিশ্বায়নের বাজারে সবাইকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে। তাই কলকাতার শতাব্দী রায়, ইন্দ্রাণী লাহিড়ী, দেবশ্রীর মতো শিক্ষিত রুচিশীল নায়িকাদেরও মুম্বাইয়ের অর্ধবসনা নায়িকা হয়ে অকারণে নাচ-গানে দর্শকদের তৃপ্ত করতে হয়েছে।

তার ছাপ পড়েছে ঢাকার নায়ক-নায়িকাদের ওপরেও। অর্ধশতকের মতো ঢাকায় আমার অনুপস্থিতিতে অনেক শক্তিশালী ও প্রতিভাবান অভিনয় শিল্পীর আবির্ভাব হয়েছে। তাদের নামধাম কিছুই আমি জানতাম না। বিদেশে আমার জীবন কেটেছে বিদেশি নাটক ও ছবি দেখে। এ বছর অসুখে পড়ে দুই মাস লন্ডনের এক হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে। একটু ভালো হতেই বেডে শুয়ে সময় কাটছিল না। এক ডাক্তার বললেন, আপনার হাতে তো মোবাইল ফোন আছে। শুয়ে শুয়ে নাটক, সিনেমা দেখতে পারেন।

কথাটা মনে লাগল। ঢাকার ছবি দেখতে শুরু করলাম। দেখে বিস্মিত হলাম। আমার যুগে জহির রায়হান, আলমগীর কবির, চাষী নজরুল, সুভাষ দত্ত প্রমুখ ছিলেন শ্রেষ্ঠ পরিচালক। হাতেগোনা নায়িকা ছিলেন সুমিতা, সুচন্দা, ববিতা, শাবানা, নায়ক রাজ্জাক (অন্যদের নাম ভুলে গেছি)। আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগোচ্ছিল। জহির রায়হানের 'জীবন থেকে নেয়া' ছায়াছবি ছিল আমাদের গর্বের ধন। সেই বাংলাদেশ সিনেমা শিল্পে কতটা এগিয়েছে, তা বুঝতে পারি বেশ কয়েক বছর আগে 'চিত্রা নদী তীরে' ছবিটি দেখে। আফসানা মিমির অভিনয় দেখতে দেখতে আলবার্তো মোরাবিয়ার উপন্যাস নিয়ে রচিত 'টু উইমেন' ছবিতে সোফিয়া লরেনের অভিনয় আমার মনে পড়েছিল।

আমার ঢাকায় থাকার যুগে চিত্র পরিচালক এহতেশাম কয়েকজন শক্তিশালী নায়িকা তৈরি করেছিলেন। তারা হলেন- শবনম, শাবানা, অতঃপর সম্ভবত শাবনূর-শাহনাজ প্রমুখ। পরিচালক সুভাষ দত্ত তৈরি করেছিলেন সুচন্দা-কবরী-ববিতাকে। ববিতা তো সত্যজিৎ রায়ের 'অশনি সংকেত' ও আমজাদ হোসেনের 'গোলাপী এখন ট্রেনে' ছবিতে দর্শকদের নজরকাড়া অভিনয় করেছেন।

আমার চিরদুঃখিনী মায়ের আর কিছু না হোক, দারিদ্র্য যে অনেকটা ঘুচেছে, তা লক্ষণীয়। শিল্প-সংস্কৃতিতেও তার আরবানাইজেশন ঘটেছে। কিন্তু তাতে প্রভাব ফেলেছে মুম্বাইয়া অপসংস্কৃতি। এখানেই আমার ভয়। একালের নায়ক-নায়িকা তৌকীর আহমেদ, জাহিদ হাসান, বিপাশা, পূর্ণিমা, মেহজাবিন, প্রভা, তিশা সবাই শক্তিশালী অভিনয় শিল্পী। তিশাসহ অনেকে নাটকেই তাদের প্রতিভার সেরা স্বাক্ষর রেখেছেন। নাটকে মুম্বাইয়া অপসংস্কৃতি তেমন ছায়া ফেলতে পারেনি। ফেরদৌস, রিয়াজ দু'জনই শক্তিশালী অভিনেতা। এবার ঢাকায় তাদের সঙ্গে দেখা হলো। ফেরদৌস তো কলকাতার বাংলা ছবিতে অভিনয় করেও খ্যাতি কুড়িয়েছেন। তিশাও। এ সম্পর্কে একটা পূর্ণাঙ্গ আলোচনা পরে করার ইচ্ছা রইল।

এবার দেশের সমাজচিত্রে আসি। হাসিনা সরকারের আমলে দেশের সমাজচিত্র বদলেছে। বিশ্বায়নের ছাপ তো আমাদের সমাজ জীবনে লেগেছেই, সেই সঙ্গে বাংলার আদি সামাজিক ছবিটি বদলে গিয়ে তাতে পশ্চিমা সংস্কৃতির অবক্ষয়ের ছাপটি স্পষ্ট। আমার কেনা ট্রাউজারের সাইজ বড় হওয়াতে তা ছোট করার জন্য এক নামকরা দর্জির দোকানে গিয়েছিলাম। কথা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলাম, দেশে এখন রেডিমেড কাপড়ের চাহিদা বেশি। আপনাদের তো তাহলে দুর্দিন।

দোকানের প্রধান দর্জি হেসে বললেন, দুর্দিন হবে কেন? আজকাল সপ্তাহে দেড় শতাধিক মুজিব কোট বানানোর অর্ডার পাই।

বলেছি, বলেন কী! সপ্তাহে দেড়শ'র বেশি মুজিব কোট! কারা এত মুজিব কোটের অর্ডার দেন?

প্রধান দর্জি বললেন- কেন, মন্ত্রী, হবু মন্ত্রী, এমপি, হবু এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেম্বার, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সবাই। এবার আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন উপলক্ষে দেড় হাজার মুজিব কোটের অর্ডার পেয়েছি। টাইমমতো অর্ডার শেষ করতে পারব কিনা জানি না। সামনে মুজিববর্ষ। অর্ডার আরও বাড়বে।

জিজ্ঞেস করলাম, মুজিব কোটের এত চাহিদা দেশে চিরকাল থাকবে তো? দর্জি হেসে বললেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে থাকবে না। তবে তখন নতুন ধরনের পোশাক তৈরির অর্ডার পাব। যেমন জিয়াউর রহমানের আমলে তার সাফারি কোটের অর্ডার বেড়ে গিয়েছিল।

দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার একটু আভাস পেয়েছি ঘরে বসেই। দশ দিন দেশে ছিলাম। বেশিরভাগ সময় অসুস্থতার জন্য ঘরেই থেকেছি। শান্তিবাগে বন্ধুবর মোনায়েম সরকারের ফ্ল্যাটে এবারও ছিলাম। অনেকেই দেখা করতে এসেছেন। তারা সমাজের সব শ্রেণির মানুষ। তারা জানালেন, দেশের অর্থনীতি একটা নতুন মোড় নিয়েছে। জিয়াউর রহমানের আমলে বৈধ-অবৈধ পথে নব্য ধনিক শ্রেণি তৈরির চেষ্টা শুরু হয়েছিল। তারা ব্যাংকের টাকা লুট, সুটকেস সর্বস্ব লাইসেন্স, পারমিটবাজি করে অঢেল টাকা জমিয়েছিল। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের আয়ের বৈষম্য বেড়েই চলেছিল।

হাসিনা সরকারের আমলে নব্য ধনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আয়ের বৈষম্য কমানোর চেষ্টা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী হিসেবে মুহিত সাহেবের বাজেটে যত দোষত্রুটি থাকুক, এই বাজেটে দারিদ্র্য দূরীকরণসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে ধনীদের আয়ের পাহাড় প্রমাণ বৈষম্য কমানোর চেষ্টা ছিল। বর্তমানে এই চেষ্টাটি নেই বলে মনে হয়। নব্য ধনীরা তাদের পুরোনো দাপটে ফিরে যাচ্ছেন দেখা যায়। তার একটা প্রমাণ পেঁয়াজ সংকট। ভারতে এবার পেঁয়াজের ফলন কম হয়েছে। ফলে পেঁয়াজ সংকট দেখা দিতে পারে, এটা আন্দাজ করে পশ্চিমবঙ্গের মমতা সরকার আগেই ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংকটের মোকাবিলা করেছে। বাংলাদেশের মন্ত্রীরা তা পারেননি। তার সুযোগ নিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ী ও নব্য ধনীরা। তারা যেটুকু পেঁয়াজ বাজারে ছিল, তাও গুদামে লুকিয়ে ফেলে। পরে সেই পচা পেঁয়াজ বাজারে উঠতে দেখা গেছে। এই সংকট নিরসনেও প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।

আমাকে উদ্বিগ্ন করেছে শিক্ষাক্ষেত্রের পরিস্থিতি। নাহিদ সাহেব শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালে দেখা গেছে, জামায়াতিদের অশুভ প্রভাব থেকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূূর্ণ মুক্ত করা যায়নি। পাঠ্যপুস্তকেও ছিল স্বাধীনতার আদর্শবিরোধী নানা তথ্য। নতুন স্কুলগুলোকে অনুমোদন ও মঞ্জুরিদানের ব্যাপারেও জামায়াতি স্কুলগুলোর অগ্রাধিকার বেশি। শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ডা. দীপু মনি অবশ্য নতুন। শিক্ষাক্ষেত্রে নৈরাজ্য দূর করার ক্ষেত্রে তাকে আরও সময় দিতে হবে। কিন্তু তাকেও শিক্ষাক্ষেত্রের সমস্যাগুলো সম্পর্কে সময় থাকতে সতর্ক হতে হবে।

আমার সবচেয়ে বিস্ময় লেগেছে একটা ব্যাপার দেখে। দেশে নতুন নতুন স্কুল খোলার পরিবর্তে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় যেন হিড়িক পড়ে গেছে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতাদেরই উৎসাহ বেশি। আমাকে এক ধনী ব্যবসায়ী বন্ধু অনুরোধ জানিয়েছিলেন, আমি যেন শিক্ষামন্ত্রীকে অনুরোধ করি তার স্কুলটাকে এমপিওভুক্ত করার জন্য। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনার প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি কি জুনিয়র, না হাই স্কুল? তিনি একটু বিব্রতভাবে বললেন, না না এটা স্কুল নয়, হাই মাদ্রাসা।

বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করেছি, আপনি একজন শিক্ষিত মডার্ন মানুষ, আপনি স্কুল প্রতিষ্ঠা না করে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করতে গেলেন কেন? তিনি জবাব দিলেন, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করলে সরকারি মঞ্জুরি ও অনুদান যেমন সহজে মেলে, তেমনি সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত থেকেও যথেষ্ট সাহায্য আসে। তার কথায় বুঝলাম, বাংলাদেশে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাও এখন নব্য ধনীদের কাছে এক বিশাল ব্যবসা।

এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় মানুষ শিক্ষিত হচ্ছে, এ কথা সত্য। কিন্তু যথার্থ শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে কি? আধুনিকমনা মানুষ তৈরি হচ্ছে কি? সরকার মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা যতই সংস্কার করুক, যতই আধুনিক করুক, এই মাদ্রাসা কথাটার মধ্যেই যে সামাজিক অনগ্রসরতা লুকিয়ে আছে, তা থেকে মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের মুক্ত করতে পারবেন কি? আমি একটি উন্নত মানের মাদ্রাসা ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ক্লাসে বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্য বিষয় পাঠ করেছেন। কিন্তু তাদের মানসিকতা কুসংস্কারাচ্ছন্ন।

তারা বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা মানতে এবং সূর্যখচিত জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানাতে দ্বিধান্বিত। হিন্দু কবির লেখা জাতীয় সংগীত গাওয়া তারা বেদাত মনে করে। এ কথা মুখ ফুটে বলার সাহস না দেখালেও তাদের হাবভাবে স্পষ্ট বোঝা যায়। আমি অনেক কষ্ট করেও তাদের হিন্দু ও ব্রাহ্মধর্মের মধ্যে পার্থক্য বোঝাতে পারিনি। বারবারই তাদের কথা, রবীন্দ্রনাথকে যতই ব্রাহ্ম বলুন, তিনি হিন্দু কবি। হিন্দু-বৌদ্ধদের এ দেশে সমান নাগরিক অধিকার আছে- এ কথা তারা মানতে নারাজ। বাংলাদেশকে তারা শুধু মুসলিম দেশ নয়, ইসলামী দেশ মনে করে। এই যে লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী দেশের হাজার হাজার মাদ্রাসা থেকে প্রতি বছর বেরিয়ে আসছে, এদের দিয়ে কি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যাবে?

বঙ্গবন্ধু একবার বলেছিলেন, 'কোনো দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সাম্প্রদায়িক হলে সে দেশে অসাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় না।' আওয়ামী লীগ সরকার তাদের গত তিন তিনটি মেয়াদের শাসনকালে দেশের অর্থনীতির অনেক উন্নয়ন ঘটিয়েছে। কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থাকে সাম্প্রদায়িকতার কবলমুক্ত করতে পারেনি। শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নুরুল ইসলাম নাহিদ তাতে ব্যর্থ হয়েছেন। নতুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি তাতে সফল হবেন কি?

আওয়ামী লীগ শাসনের যে সুফল ছিল দেশে বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে আর্থিক ও অন্যান্য বৈষম্য কমে আসা, দারিদ্র্য দূর করা ইত্যাদি এবার দেখলাম, সেই বৈষম্য আবার বাড়তে শুরু করেছে। আর্থিক বৈষম্য, ধন বৈষম্য, ধর্মের বৈষম্য, জাতি বৈষম্য, শ্রেণি বৈষম্য, পেশাগত বৈষম্য খুব ধীরে হলেও বাড়ছে। ভারতের সাম্প্রদায়িক পুঁজিবাদের প্রভাব বাড়ছে বাংলাদেশে। তার একটা সুফল হলো, ধর্মীয় বৈষম্য কমছে; কিন্তু ধর্মান্ধতা বাড়ছে। ব্রিটেন ও আমেরিকার অতি জাতীয়তাবাদের মতো আখেরে যা কুফল দেবে।

বাংলাদেশ এখন ভালোমন্দে মিশ্রিত একটি দেশ। আওয়ামী লীগ তার জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনের মাধ্যমে নতুনভাবে গঠিত হয়েছে। মন্ত্রিসভার পুরোনো মুখগুলো বলতে গেলে বিদায় নিয়েছেন। আশা করা যায়, দেশ আবার নতুনভাবে নতুন পথে চলবে। না পারলে সামনে যে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে, তার পরিণাম হবে ভয়ংকর। দেশ থেকে ফেরার পথে এই শঙ্কাটাও মনে জেগেছে।

লন্ডন, ২৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার, ২০১৯

এন কে / ৩১ ডিসেম্বর

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে