Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০ , ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-১৭-২০২০

'ছারও আইসে না বইও দেয় না, হামরা খালি স্কুল আসি আর যাই'

'ছারও আইসে না বইও দেয় না, হামরা খালি স্কুল আসি আর যাই'

লালমনিরহাট, ১৭ জানুয়ারী - লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় জোড়পূর্বক কোনো কারণ ছাড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। এমনকি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখনো নতুন বই পায়নি। ওই বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক না যাওয়ায় পাঠদান ব্যহতসহ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে শিশুদের ভবিষ্যত। এতে করে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা।

আর এই ঘটনাটি ঘটেছে হাতীবান্ধা উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের তিস্তা চরের পশ্চিম হলদিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

এ ঘটনায় গত ৫ জানুয়ারি লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি), হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) এর নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা।

জানা গেছে, ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পশ্চিম হলদিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। নদী ভাঙনের কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ছয়বার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা হয়। সর্বশেষ ২০১৭ সালে বিদ্যালয়টি পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। আর তখন থেকে সেখানেই পাঠদান চলছে। এমন অবস্থায় ২০২০ সালের প্রথম দিনে সারাদেশের ন্যায় ওই বিদ্যালয়েও নতুন বই বিতরণ করা হয়। কিন্তু ওই দিন শুধু মাত্র চারজন শিক্ষার্থীকে নতুন বই দেওয়া হয়। এরপর প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা
বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টার বসে থেকে বাড়ি ফিরে যায়। কিন্তু বিদ্যালয়ে শিক্ষকও আসে না, শিক্ষার্থীদের বইও দেওয়া হয় না। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলাধূলা আর ছুটোছুটি করে সময় পার করছে। তবে কোনো শিক্ষকের দেখা মেলেনি। শ্রেণিকক্ষে বই ছাড়াই বসে আছে শিক্ষার্থীরা। তারা জানায়, ১ জানুয়ারি প্রধানশিক্ষক শুধু মাত্র চারজনকে নতুন বই দিয়ে চলে যান। এরপর আর তাদের দেখাও মেলে নাই। শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলে, 'ছারও আইসে না, বইও দেয় না, হামরা খালি স্কুল আসি আর যাই।'

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, পরিচালনা কমিটির সদস্যরা কোনো কারণ ছাড়াই বিদ্যালয়টি এখান থেকে অন্য স্থানে সরানোর পাঁয়তারা করেছে। তবে স্থানীয়দের বাধায় কিছু আসবাবপত্র ছাড়া আর কোনো কিছু নিয়ে যেতে পারেনি। আর পরিচালনা কমিটির সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষকরাও বিদ্যালয় আসে না। তারা
পরিচালনা কমিটিরি নির্ধারিত স্থানে টিনের চালায় তৈরি বিদ্যালয়ে গিয়ে ছাড়াই বসে থেকে সময় কাটাচ্ছে। সেখানে কোনো শিক্ষক নেই।

এ বিষয়ে পশ্চিম হলদিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আওলাদ হোসেন জানান, বিদ্যালয়টি আমি স্থানান্তর করি নাই। পরিচালনা কমিটির সভাপতি পাটিকাপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্যালয়টি নিয়ে নির্মাণ করছেন। এখানে আমার করার কিছু নাই। কমিটির লোকজন যেখানে বিদ্যালয় নিয়ে যাবেন আমি সেখানেই যাবো।

এ বিষয়ে পশ্চিম হলদিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আয়শা বেগম বলেন, ওই এলাকায় তেমন কোনো শিক্ষার্থী নেই। এছাড়া এতো দূরে আসতে কষ্ট হয় শিক্ষকদের। তাই আমরা বিদ্যালয়টি সেখান থেকে এখানে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিঠুন বর্মন জানান, আমরা এ বিষয়ে অবগত আছি। সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই বিদ্যালয় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত অনিশ্চিতের দিকে চলে যাচ্ছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সূত্র: কালের কন্ঠ
এন এ/ ১৭ জানুয়ারী

লালমনিরহাট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে