Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০ , ১৭ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.9/5 (19 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০১-২৮-২০২০

রিকশাচালক থেকে পীর আশেদ চাঁন ফকির

রিকশাচালক থেকে পীর আশেদ চাঁন ফকির

শরীয়তপুর, ২৮ জানুয়ারি- ১০ বছর আগে হকারি, কাঁচামালের ব্যবসা ও রিকশা চালিয়ে জীবিকা করতেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের সফি কাজিরমোড় মেহের আলী মাদবরকান্দি গ্রামের মরু মোল্লার ছেলে আশেদ চাঁন মোল্লা (৩০)। ঢাকার দোহার নূরুল্লাহ্পুর পাক দরবার শরীফে মরিদ হয়ে নাম পরিবর্তন করে নিজে পীর সেজে এখন নাম রেখেছেন হজরত শাহ্ আশেদ চাঁন ফকির পাগলা।

এক সময় তিনি দোচালা টিনের ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। এখন পীর হয়ে চিকিৎসা দেয়ার নামে তাবিজ-কবজ দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল দুটি মাজার শরীফ। সেই মাজারে বিভিন্ন জেলা থেকে মুরিদরা ও এলাকার কিছু লোকজন এসে আশেদ চাঁন ফকিরের পায়ে সেজদা দেয়। শুধু তাই নয় পীর হয়ে নারী-পুরুষদের নিয়ে রাত জেগে মাদক সেবন এবং নাচগান করেন তিনি। আশেদ চাঁন ফকিরের ইসলামরিরোধী এসব কার্যকলাপের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এ ঘটনায় জাজিরার বিলাসপুর এলাকার বাসিন্দারা সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জাজিরা উপজেলা শহীদ মিনার চত্বরে পীর আসেদ চাঁন ফকিরের আস্তানা উচ্ছেদ ও তার কার্যকলাপ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানবন্ধন করেছে।


বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনে বিলাসপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার ব্যাপারী, শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রব হাশেমী, মাওলানা সাইদুর রহমান, গোলাম মোস্তফা, হাবিবুর রহমান, কাওছার মাহমুদ, আব্দুল ওয়াদুদ, কামাল উদ্দিন, মসজিদের ইমাম মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মাহফুজুর রহমান, জহিরুল ইসলাম, মো. হালান মাহমুদ, কলেজছাত্র আল ইমরান, আল আমিন, কাজী মামুন, আরিফ আজিজ, সমাজ সেবক হাজী মোখলেছুর রহমান, আইনজীবী মো. মাসুদসহ সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, আসেদ চাঁন ফকির ভণ্ড পীর। তিনি কয়েক বছর আগে এলাকায় হকারি, কাঁচামালের ব্যবসা করতেন, রিকশা চালতেন। কিছু ভণ্ড লোকের প্ররোচনায় প্রথমে ফকিরের বেশ, পরে ভণ্ড পীর হয়েছেন তিনি। আস্তানা করে কিছু সহজ সরল মানুষকে ভুল বুঝিয়ে তাবিজ-কবজের মাধ্যমে বশীভূত করেন এবং তার পায়ে সেজদা করান। ওরশের নামে নারী-পুরুষদের দিয়ে রাতভর নাচানাচি করেন। শুধু তাই নয় তার আস্তানায় মাদক সেবন ও মাদক বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে সমাজের যুবকরা কুসংস্কার ও ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাই ভণ্ড পীর আসেদ চাঁন ফকিরের আস্তানা উচ্ছেদ ও তার কার্যকলাপ বন্ধ করা প্রয়োজন।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আশেদ চাঁন ফকির পাগলার বড় ভাই খোরশেদ আলম বলেন, আমরা মুসলমান। ইসলামবিরোধী কোনো কাজ করি না। এলাকার এক শ্রেণির লোক আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। আমাদের মাজার শরীফে সেজদা দেয়া নিষেধ। তাছাড়া এখানে খারাপ কোনো কাজ হয় না।

জাজিরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল সরকার বলেন, যারা উপজেলায় আসছিল তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাদের আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে নিষেধ করা হয়েছে। আসেদ চাঁন ফকির পালিয়েছে। ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ যেই করুক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/২৮ জানুয়ারি

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে