Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২০ , ১৯ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৪-২০২০

শিক্ষক করল ধর্ষণ, মামলা নিল না পুলিশ

শিক্ষক করল ধর্ষণ, মামলা নিল না পুলিশ

রংপুর, ০৪ ফেব্রুয়ারি- রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় স্কুলশিক্ষক সোহেল রানাকে (২৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া ধর্ষণের ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত ও থানায় মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগে হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদেরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডিবি অ্যান্ড মিডিয়া) আলতাফ হোসেন।

সোমবার রাতে হারাগাছ পৌরসভার ঠাকুরদাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার সোহেল রানা হারাগাছ পৌর এলাকার ঠাকুরদাস গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে ও পল্লীমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্যারা শিক্ষক। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মাহিগঞ্জ জোন) ফারুক আহমেদ।

ফারুক আহমেদ জানান, এ ঘটনায় সোমবার রাতে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে হারাগাছ থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। সোমবার রাত ৯টার দিকে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে প্রাইভেট পড়ানোর কথা বলে কৌশলে ওই ছাত্রীকে কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের মাছহাড়ী চোরমারা বটেরতল নামক স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান শিক্ষক সোহেল রানা। পরে ওই কলেজছাত্রী বাড়িতে গেলে বিষয়টি জানতে পেরে অভিভাবকরা হারাগাছ থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত সোহেল রানাকে আটক ও ধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করে হারাগাছ থানায় নিয়ে যায়।

পরে রাত তিনটার দিকে পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে সমাধান করার কথা বলে অভিযুক্ত শিক্ষক ও ওই কলেজছাত্রীকে থানা থেকে নিয়ে যান হারাগাছ পৌরসভার কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী। পরে রোববার রাতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হারাগাছ ইউপি কার্যালয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রাকিবুল হাসান পলাশের সভাপতিত্বে প্রকাশ্যে বিচার বসানো হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা।

এসময় ধর্ষণের শিকার ওই কলেজছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ পেয়ে সাংবাদিকরা সেখানে যান। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হন হারাগাছ ইউপি চেয়ারম্যান। পরে এ ধরনের ঘটনার বিচারের এখতিয়ার না থাকার কথা স্বীকার করেন ইউপি চেয়ারম্যান রাকিবুল হাসান পলাশ। কিন্তু থানা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক ও বিচারপ্রার্থী ছাত্রীকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান পৌরসভা কাউন্সিলর মাহাবুবুর।

এ বিষয়ে হারাগাছ থানার ওসি নাজমুল কাদের বলেছিলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে অভিভাবকের জিম্মায় দেয়া হয়। যেহেতু ঘটনাস্থল কাউনিয়া থানা এলাকায় তাই ওই ছাত্রীর অভিভাবককে কাউনিয়া থানায় গিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

পরে ঘটনাটি হারাগাছ থানা এলাকায় হওয়ায় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতারসহ থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/০৪ ফেব্রুয়ারি

রংপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে