Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৭-২০২০

ডা. নাহরীনের জন্য আমরা গর্বিত 

ডা. আরিফুর রহমান


ডা. নাহরীনের জন্য আমরা গর্বিত 

ডা. নাহরীন, আমেরিকার পেনসিলভানিয়ায় থাকে। ওর দাদা সিলেট মেডিক্যাল কলেজের একাত্তরের শহীদ অধ্যাপক শামসুদ্দিন আহমেদ। দাদী সিলেট উইমেন্স কলেজের একসময়ের সবার প্রিয় প্রিন্সিপাল আপা হুসনে আরা আহমেদ। ওর মা আমার সহপাঠিনি বন্ধু ডাক্তার ফাতেমা বকুল। ওর বাপ আমার বন্ধু অধ্যাপক সাদেক (শ্যালক)।

তৎকালীন মফস্বল শহর বরিশাল থেকে এসে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়ে বিশাল পরিসরের সব কিছুই আমি বিস্মিত হয়ে অভিভূত চোখে দেখতাম। সুন্দরী ফাতেমা বকুল আর কিছু মিষ্টি চেহারার সহপাঠিনীদের মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কার প্রেমে পড়া যায় সেই আবেগী সিদ্ধান্ত নেয়ার আগেই আমার রুমমেট সিলেটি সাদেক আর নোয়াখালীর বকুল প্রথম বর্ষেই লাইলিমজনু হয়ে গেল। আমি খুব বিস্মিত হয়েছিলাম, এতো তাড়াতাড়ি কি করে এসব হয়, বায়োকেমিস্ট্রির চেইন রিয়াকশনের চেয়েও দ্রুত সময়ে। সব তরুণদের জীবনে এইধরনের অনেক মধুর গল্প থাকে, বয়স হলে কেউ বলে কেউ চুপ করে থাকে।

সাদেক চলে গেল আমেরিকা, বকুল রইলো ঢাকা। আমি আর নুরুদ্দিন দুই চাচা সাদেকের প্রথম কন্যা তামিমাকে কোলে নিয়ে বসে থাকতাম ঢাকা মেডিকেলের কেবিনে। দ্বিতীয় কন্যা নাহরীনের জন্ম যখন হলো তখন আমরা আবার অন্য দেশে থাকি। প্রথম যখন লাজুক পিচ্চি নাহরীনকে দেখি ফিলাডেলফিয়াতে আমি ভাবিনি ও এতো বড় হবে।

ওর বাপ অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন আহমেদ সাদেক আমেরিকান নেফ্রোলজিস্ট হয়েও সিলেটে কিডনি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রতিদিন নামমাত্র খরচে আর বিনামূল্যে ডায়ালাইসিস আর কিডনি রোগ চিকিৎসা হয় সেখানে। সিলেটের জুবায়ের তার নিজের চার বিঘা জমি দান করে দিয়েছেন ফাউন্ডেশনকে। এক যুবক দিয়েছেন পঞ্চাশ লক্ষ টাকা। বাংলাদেশ সরকার দিয়েছে বিশ কোটি টাকা। আরো দেবে।

সাদেক শালায় আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে বরিশাল দাতব্য কিডনি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করার জন্যে। এই কথা শুনে বরিশাল জিলা স্কুলের আমার সহপাঠী দোস্ত গিয়াস সরদার তাঁর বরিশাল শহরের দশ বিঘা জমি দান করে দিয়েছে ফাউন্ডেশনকে রেনাল হাসপাতাল করার জন্যে; বললো, আরিফ এই মহৎ কাজটি করতেই হবে; মরে গেলে জমিটা সাথে যাবেনা, নেক কাজে লাগুক।

লোক মুখে শুনে এসপিএ নামের সাতাশ বছরের পুরনো এনজিওর কর্মকর্তা ঢাকা মেডিক্যালের কে ৬৪ এর ডাক্তার জুয়েল তার দলবল নিয়ে হাজির। আপনাকে আমাদের এনজিওর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে হবে। তাদের কথা, আমরা চাই সঠিক ভাবে মানুষের জন্যে কাজ করতে, তাই সৎ আর অভিজ্ঞ মানুষের রিলেশন আর নির্দেশনা চাই; তাই আমাদের এনজিওর দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে।

বললাম, তোমরা ভুল করছো, আমি অভিজ্ঞতাহীন বেঠিক মানুষ, কিন্তু রেহাই পাইনি।

কানে কানে বলি, আমি জানি দুদিন পরেই ওরা বলবে, উনি তো সঠিকই বলেছিলেন যে উনি বেঠিক!

কিন্তু আমেরিকান ডাক্তার নাহরীন সঠিক কাজটি করেছে। আমার ভাইতুতো বন্ধুকন্যা ইচ্ছা করলেই আমেরিকায় বিশাল প্র্যাকটিসের মালিক হতে পারতো। তা না করে বেঠিক ভাবে মাথায় ঢুকেছে বাংলাদেশের ডাক্তারদের উচ্চতর মডার্ন ট্রেনিং দিতে হবে। পকেট আল্ট্রাসাউন্ড, ব্রঙ্কসকপি আর কি সব নতুন টেকনিক শিখলে দ্রুত ডাক্তাররা সঠিক রোগ ধরতে পারবে সেটি শেখাতে হবে পূর্বপুরুষের দেশে। তাই দু একমাস পরপরই ওর সাথে আরো দশ বারোজন আমেরিকান ডাক্তার শিক্ষকদের নিয়ে এসে আমাদের মত অভিজ্ঞ ডাক্তারদের আধুনিক ডাক্তারী শিখিয়ে যায়। এবার ৭৫ জন ডাক্তার মিড রেঞ্জ অধ্যাপকদের ওরা ৮ জন আমেরিকান পাঁচ দিন পড়িয়ে গেলো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। বাংলাদেশের রোগীদের চিকিৎসার দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধ করার পন্থা শিক্ষা দিচ্ছে ওর বাপ চাচার বয়সী অধ্যাপকদের আর ওর বন্ধু বয়সী ডাক্তারদের। কতবড় বেয়াদপ বালিকা!

কিন্তু দুদিন আগে আদপের সাথে ডাক্তার নাহরীন ও তার সঙ্গীদের সাক্ষাৎ হলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের সাথে। আমেরিকান ডাক্তারদের এই শিক্ষা অভিযানের কাহিনী শুনে মাননীয় রাষ্ট্রপতি বলেছেন, তোমাদের এই প্রয়াসকে আমি অভিনন্দন জানাই, তোমরা বার বার ফিরে এসো।

বাংলাদেশের যে বেঠিক মানুষগুলি প্রবাসী হয়ে আছেন সঠিক গুণাবলী নিয়ে, তাঁদের অনেকেরই এখন দেশে ফিরে আসার সময় হয়েছে। দেশ এখন সবাইকে চায়। ভালো মানুষগুলির ফিরে আসার সময় এখন।

(ছবিতে রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ ও ডা. নাহরীন)

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে