Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২০ , ১৮ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৯-২০২০

প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ায় যে বিদ্যালয়

প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ায় যে বিদ্যালয়

বরগুনা, ০৯ ফেব্রুয়ারি- বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের বরগুনা জেলার সমুদ্র উপকূলীয় তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে প্রতিবন্ধীদের জন্য শিক্ষার আলোয় আলোকিত মানুষ গড়তে রয়েছে একটি বিদ্যালয়। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বিদ্যালয়টি এলাকার প্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে শিক্ষাসহ নানা ধরনের সেবা দিয়ে আসছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা সরকার বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির আওতায় আনবে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় এলাকার প্রতিবন্ধীদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ২০১৪ সালে মুক্তিযোদ্ধা নজির হোসেন পাটোয়ারী অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি এ উপজেলার একমাত্র সুবিধাবঞ্চিতদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শুরুতেই ২০ শতাংশ জমিতে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৬ রুমবিশিষ্ট টিনশেড পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনটিতে পাঁচটি কক্ষে পাঠদান ও একটি কক্ষে রয়েছে বিদ্যালয়ের অফিস। পাঠদানের কক্ষগুলোতে চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য রয়েছে একটি মাঠ। রয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়া জন্য নিজস্ব গাড়ির ব্যবস্থা। দুপুরের নাশতা, বই, খাতা, কলম, স্কুলড্রেস বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিনামূল্যে সরবরাহ করে থাকে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৭৫ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছে ১৫ জন ও অন্যান্য কর্মচারী রয়েছে সাতজন। যাদের সার্বিক খরচ বহন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

কথা হয় শারীরিক প্রতিবন্ধী যমজ দুই বোন মনি-মুক্তার বাবা আবু বক্কর সিদ্দিকের সাথে। তিনি বলেন, জন্ম থেকেই আমার দুই মেয়ে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। আমি আমার হতভাগ্য মেয়ে দুটিকে নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্ত এই বিদ্যালয়টি আমার সব দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছে। আমি এর প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। 

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি আবু জাফর সালেহ্ বলেন, মূলত উপকূলীয় সুবিধাবঞ্চিতদের কথা বিবেচনা করেই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সে লক্ষ্যে আমরা যথাসাধ্য প্রচেষ্টা অব্যহত রেখে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি সরকার আমাদের এই উদ্যোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির আওতায় আনবে। 

বিদ্যালয়টির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নজির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, আমরা সুবিধাবঞ্চিতদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়তে নিরন্তর প্রচেষ্টা করে আসছি। এখন বিদ্যালয়টি শুধু শিক্ষাই নয়, নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। আমারা সরকারের পক্ষ থেকে এমপিওভুক্তির সুবিধাটুকু পেলেই পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারব।

মুক্তিযোদ্ধা নজীর হোসেন পাটোয়ারী অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বেলাল হোসেন মিলন বলেন, সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এলাকার সবাই সার্বিক সহায়তা করেছেন। শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তাদের দায়িত্ব কর্তব্য পালন করছেন। 

বরগুনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোস্তফা মাহমুদ সারোয়ার বলেন, আমরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের সহায়তায় আশ্বাস দিয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে এই বিদ্যালয়ের ব্যাপারে আলাদা দৃষ্টি থাকবে। আশা করি বিদ্যলয়টি প্রতিবন্ধীদের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সেলিম মিঞা মুঠোফোনে বলেন, নিঃসন্দেহে এটি একটি সেবামূলক মহতী উদ্যোগ। সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়টির ব্যাপারে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।

সূত্র : কালের কণ্ঠ
এন কে / ০৯ ফেব্রুয়ারি

বরগুনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে