Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১০ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৯-২০২০

আমেরিকায় নাসিম পুত্রের সম্পদের ভাণ্ডার

ইউসুফ পিয়াস


আমেরিকায় নাসিম পুত্রের সম্পদের ভাণ্ডার

নিউইয়র্ক, ১০ ফেব্রুয়ারি- নিউইয়র্কের জ্যামাইকাতে একটি মসজিদ উচ্ছেদ করতে চেয়ে আমেরিকার আদালতে মামলা দায়ের করা নিয়ে প্রথমে আলোচনা শুরু হয় বাংলাদেশের জাতীয় চার নেতার একজন ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর দৌহিত্র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. নাসিম এর পুত্র তমাল মনসুরকে নিয়ে। এ আলোচনার মধ্যেই আমেরিকার বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে তমাল মনসুরকে নিয়ে। কারণ আমেরিকায় কোন কাজ কর্ম না করেই তিনি মালিক হয়েছেন হাজার কোটি টাকার।

এ মামলাকে কেন্দ্র করে বেরিয়ে পড়ছে সাবেক মন্ত্রী পুত্রের ব্যাপক সম্পদের সন্ধান। যা দেশে বিদেশে বাংলাদেশীদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে ব্যাপক কৌতুহল ও প্রশ্ন। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নিউয়ার্কে রয়েছে তমালের কয়েক মিলিয়ন ডলারের প্রপার্টি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এমনকি তার নিজ নামেই বহুতল ভবন এবং নির্মানাধীন এপার্টমেন্টের কাজ চলছে জামাইকাতে। সিটির হাওজিং এ পাবলিক রেকর্ডেও প্রমান মিলেছে তার এই সম্পদ সমূহের । যদিও এসব তথ্যকে উদ্দেশ্য প্রনোদিত এবং ব্যক্তিগত গোপনিয়তায় হস্থক্ষেপ বলে দাবি করেছেন আলাদিনের চেরাগ পাওয়া মন্ত্রীপুত্র তমাল মনসুর।

তবে এ বিষয় নিয়ে সম্প্রতি ফেসবুকে লাইভ করেছেন সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত ও সমাজসেবামূলক কাজ করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করা সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তিনি তমালের এ অঢেল সম্পত্তির বিষয়ে আমেরিকায় প্রবাসীদের একটি প্রোগ্রামে মন্তব্য করে বলেন – কোন বিজনেস বা প্রপারটি ছাড়া কিভাবে নাসিম সাহেবের ছেলে আমেরিকায় এই অঢেল সম্পত্তির মালিক হলেন? তিনি তার প্রতি আক্ষেপ করে বলেন নসিম সাহেব ও রাজনীতি করেন, আমিও রাজনীতি করি তার সন্তান আমেরিকার ১৬টি ফ্ল্যাটের মালিক আর আমার সন্তান কয়টার মালিক আছে বা হবে? আমার পরিবার বলবে আমি ব্যর্থ রাজনীতিক। এবং ব্যরিষ্টার সুমন তমালের এ অঢেল সম্পত্তির বিষয়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করেন। এবং তা তদন্ত করার অনুরোধ করেন।

তমাল মনসুরের এই অঢেল সম্পত্তি ও তার হাজার কোটি টাকার মালিক হওয়া বিষয়ে প্রবাসে বেশ জনপ্রিয় ও অনলাইন টিভি টাইম টেলিভেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চাহিদা থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের এ জনবহুল শহরে বিভিন্ন মুসলিম আমেরিকানদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে একাধিক মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার । তা থেকে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশী মুসলিম আমেরিকানরাও।

সিটি প্রশাসনের নিয়ম মেনেই গড়ে উঠেছে এ ধরনের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। জানা গেছে ২০১১ সালে বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যামাইকার ১৭০ স্ট্রিট এর ওপর আফতাক স্কাইভিউ টাওয়ার গড়ে উঠে। এই টাওয়ারের বেইজমেন্টসহ পুরো দুইটি ফ্লোরের মালিকানা জামাইকার হাজি ক্যাম্প তথা মসজিদ মিশন এর। শুরু থেকেই সিটির অনুমদিত ধর্মীয় উপসনালয় হিসাবে পরিচালনা হচ্ছে এটি।

এই মসজিদকে ঘিরেই একটি জটলা সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ করে মসজিদ মিশন সেন্টার এর বিরুদ্ধে প্রায় ৫ লক্ষ ডলারের ক্ষতির প্রসঙ্গ তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয় । আদলতের নথিপত্রের তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে দায়ের করা মামলার বাদি হলেন বংলাদেশের সাবেক সাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের প্রবাসী পুত্র তমাল মনসুর।

সাবেক মন্ত্রীপুত্র তমাল কেনই বা মসজিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন তা নিয়ে নিউয়ার্কের এক সাপ্তাহিক পত্রিকা অনুসন্ধান করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয় অধিক মুসল্লির কারনে তার সিকিউরিটির সমস্য হয় এবং মুসল্লিদির অজুর পনি ব্যবহারে তার সম্পত্তির ক্ষতি হচ্ছে বলে তিনি মামলা করেন। কারণ এই অ্যাপার্টমেন্টে বেশ কিছু প্রোপার্টির মালিক তিনি।

মামলার বিষয়ে তমাল মনসুর জানান সম্পত্তির বিষয়টি একান্ত তার ব্যক্তিগত বিষয় । তমাল নিউয়ার্কে কি করছেন জানতে চাওয়া হলে তিনি নিজেকে একজন ছাত্র হিসাবে দাবি করেন। একজন ছাত্র হয়ে কোন বিজনেস না করে কিভাবে এ অঢেল সম্পত্তির মালিক হলেন তা নিয়ে কোন মুখ খুলেননি সাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম পুত্র তমাল। প্রতিবেদনে তার ৫৭২ কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে কিন্তু তার আয়ের কোন উৎস পাওয়া যায়নি।

এন কে / ১০ ফেব্রুয়ারি

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে