Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০ , ১৪ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (25 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১০-২০২০

ফরিদপুরে তিনমাস পর মরদেহ উত্তোলন

ফরিদপুরে তিনমাস পর মরদেহ উত্তোলন

ফরিদপুর, ১১ ফেব্রুয়ারি - ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কোরকদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মুকুল হোসেন ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই কিশোরের মামা আব্দুর রহমান বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন মাস পর ফরিদপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫নং আমলী আদালতের নির্দেশে সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাগাট কবরস্থান থেকে কিশোর ইসহাক শেখের মরদেহ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠিয়েছে মধুখালী থানা পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৮ নভেম্বর উপজেলার কোরকদি ইউনিয়নের চরবাঁশপুর গ্রামের আনোয়ার শেখের ছেলে ইসহাক শেখকে (১৪) রাতের আঁধারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মুকুল হোসেন তার নিজস্ব বাহিনী দিয়ে তুলে এনে নিজ বাড়িতে নির্যাতন করে তাকে হত্যা করে।

হত্যার পরে রাতেই ইসহাকের মামার পরিত্যক্ত একটি ঘরের আঁড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঝুঁলিয়ে রাখা হয়। পরদিন আত্মহত্যা বলে প্রচার করেন ইউপি চেয়ারম্যান। ইসহাকের মরদেহ স্বজনদের কাছে না দিয়ে নিজস্ব লোকজন দিয়ে লোক চক্ষুর আড়ালে পার্শ্ববর্তী বাগাট কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করেন ওই চেয়ারম্যান।

এ ঘটনায় নিহতের মামা আব্দুর রহমান বাদী হয়ে ফরিদপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইউপি চেয়ারম্যান মো. মুকুল হোসেনকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালত মধুখালী থানাকে মামলাটি রুজু করার নির্দেশ প্রদান করেন। পরে মধুখালী থানা মামলাটি রুজু করে। মামলা নং-৩, তারিখ-০১-০২-২০২০।

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তফা মনোয়ার এবং মধুখালী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলামের উপস্থিতিতে সোমবার কবর থেকে ইসহাকের মরদেহ তোলা হয়।

নিহত ইসহাকের মামা আব্দুর রহমান বলেন, ইসহাকের পিতা ও মাতার বিচ্ছেদ হলে ইসহাক ছোট বেলা থেকেই আমাদের কাছে থাকত। বড় হয়েছে আমাদের বাড়িতেই। স্থানীয় চেয়ারম্যান মুকুল হোসেনের কথা না শোনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মুকুল চেয়ারম্যান ও তার লোকজন আমার ভাগ্নে ইসহাককে হত্যা করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমাকে ও এলাকার অনেককেই নিঃশ্ব করেছে চেয়ারম্যান। আমার বাড়িঘর ভাংচুর করেছে, জমির ফসল নিয়ে গেছে। সবশেষ আমার ভাগ্নেকে মেরে ফেললো। আমি ভাগ্নের হত্যার বিচার চাই।

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তফা মনোয়ার জানান, আদালতের নির্দেশে ময়না তদন্তের জন্য সোমবার থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় ইসহাকের কবরটা চিহ্নিত করে লাশ তুলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

মধুখালী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, নিহতের খালু ওই সময় ময়না তদন্ত ছাড়াই থানা পুলিশ লাশ দাফনের অনুমতি দেয়। পরে নিহত ইসহাকের মামা আব্দুর রহমান বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ নয় জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মধুখালী থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মধুখালী থানার এস আই এস এম রিয়াদুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশে ইসহাকের মরদেহ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলেই বিস্তারিত জানা যাবে। ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এদিকে কোরকদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মুকুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ১১ ফেব্রুয়ারি

ফরিদপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে