Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০ , ১৮ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৫-২০২০

আকাশপথে কার্গো বাজার ৮০ শতাংশ বিদেশিদের দখলে

আকাশপথে কার্গো বাজার ৮০ শতাংশ বিদেশিদের দখলে

ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি - দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বহির্বিশ্বে বাণিজ্য বাড়ছে। রপ্তানিপণ্য দ্রুত সরবরাহ করতে আকাশপথে কার্গোর চাহিদা বছরে ২৫ শতাংশ বাড়ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের প্রধান বিমানবন্দর দিয়ে তিন লাখ ৬০ হাজার ১৭১ টন কার্গো পণ্য হ্যান্ডলিং হলেও এর ৮০ শতাংশই দখলে নিয়েছে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশসহ সব এয়ারলাইনস মিলে মাত্র ২০ শতাংশ কার্গো পণ্য পরিবহন করছে। তা ছাড়া হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানিতে ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কলকাতা ও কলম্বো বিমানবন্দরের দিকে ঝুঁকছেন দেশের রপ্তানিকারকরা। ফলে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের বাজার হারাচ্ছে বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, শাহজালাল দিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়। এই পণ্য পরিবহনের বাজারমূল্য ছয় হাজার ৮০০ কোটি টাকা। সাধারণত রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক ও ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল, খুচরা যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন জরুরি পণ্য বাড়তি ব্যয়ে আমদানি-রপ্তানি করা হয় আকাশপথে। চীন, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান থেকে দেশে আসে মোবাইল ফোন, গার্মেন্ট পণ্য, কাপড়, কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ। বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে বিভিন্ন গার্মেন্ট পণ্য, ওষুধ, শুকনো খাবার, ফলমূল উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাঠানো হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সবজি রপ্তানি করা হচ্ছে। সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির জন্য দুটি কার্গো প্লেন কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর দুটি কার্গো উড়োজাহাজ কেনার জন্য সক্ষমতা যাচাই করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আগামী বোর্ড সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোকাব্বির হোসেন বলেন, ‘আমরা কার্গোর সম্ভাব্যতা যাচাই করছি, এটা শেষ হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোথায়, কিভাবে আমরা চালাব—সেটা আগে যাচাই করা হচ্ছে। আমরা এখনো কেনার প্রক্রিয়া শুরু করিনি।’

তিনি বলেন, ‘এককভাবে ফ্রেইটার সার্ভিস দেওয়ার অভিজ্ঞতা বিমানের নেই। আমরা ফিজিবিলিটি স্টাডি করছি। কার্গো অপারেশনের জন্য গ্রাহক কোথায় পাওয়া যাবে, কী পরিমাণ মালপত্র পাওয়া যাবে, অপারেশন কিভাবে করব, কিভাবে আমরা মুনাফা করতে পারব—সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে। আমাদের সতর্কভাবে এগোতে হচ্ছে, তা না হলে ফেল করার ঝুঁকি আছে।’

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এয়ারলাইনসটি উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ডের মাধ্যমে ৪০ হাজার ৯১১ টন মালপত্র পরিবহন করে। এর মাধ্যমে বিমানের আয় হয় ৩১৫ কোটি টাকা। যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছিল ৪৩ হাজার ৯২৪ টন এবং এই খাতে আয় ছিল ৩৯২ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৩ হাজার ৪২ টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩২ হাজার ৬৬৬ টন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৬ হাজার ২৮ টন কার্গো পরিবহন হয়। এই সময় কার্গো পরিবহন ও হ্যান্ডলিং করে আয় করেছে ৬৯৬ কোটি টাকা। সেই হিসেবে বিমানের কার্গো পরিবহন বেড়েছে তিন হাজার ৩৬২ টন।

বাংলাদেশে রপ্তানিযোগ্য পণ্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এয়ার কার্গোর চাহিদা বাড়ছে উল্লেখ করে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘সব এয়ারলাইনস তাদের প্যাসেঞ্জার ফ্লাইটে করে কার্গো পণ্য পরিবহন করে। ডেডিকেটেড কার্গো উড়োজাহাজে পণ্য পরিবহন করে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো। প্রতিবছর এয়ার কার্গোর চাহিদা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবীর অনেক দেশে ওয়ানওয়ে কার্গো চললেও বাংলাদেশে বোথওয়ে কার্গো চলে। এ কারণে বাংলাদেশ এই ব্যবসার জন্য খুবই সম্ভাবনাময় বাজার।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে মালপত্র পরিবহন করে এমিরেটস, কাতার, কুয়েত, ইতিহাদ, মালয়েশিয়া, সাউদিয়া, এয়ার অ্যারাবিয়া, থাইল্যান্ড, হংকং, চায়না, ওমান এয়ারলাইনসসহ আরো কয়েকটি বিমান সংস্থা। কিন্তু শাহজালালে এই সেবার মাসুল বেশি হওয়ায় বেনাপোল হয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে এবং চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে কলম্বো বিমানবন্দর চলে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএএফএফএ) পরিচালক (ইনচার্জ পোর্ট অ্যান্ড কাস্টমস, ঢাকা) সৈয়দ মো. বখতিয়ার বলেন, সাধারণত ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি ইউরোপে পণ্য রপ্তানিতে প্রতি কেজিতে ২ থেকে ২.২০ ডলার খরচ পড়ে। তার ওপর রপ্তানিকারকদের প্রতি কেজিতে বিমান বাংলাদেশের টার্মিনাল হ্যান্ডলিং চার্জ বাবদ ৮ সেন্ট এবং সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশকে (সিএএবি) বিভিন্ন সিকিউরিটি স্ক্যানিং চার্জ বাবদ ৬ সেন্ট দিতে হয়। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে খরচ হয় ১৮-২০ সেন্টের মতো, কলকাতা বা কলম্বোতে ১২ সেন্টে হয়ে যায়। এই চার্জ হার অনেক ব্যয়বহুল এবং সিঙ্গাপুরের চেয়েও বেশি। তাঁর মতে, কলকাতায় এ খরচ অনেক কম।

কার্গোর চার্জ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশের এমডি বলেন, ‘বাংলাদেশে কার্গোতে কিছু চার্জ আছে যা বেশি, কিন্তু ইন্ডিয়ায় কম। কিছু কার্গো পণ্য সমুদ্রপথে যাচ্ছে, কিছু সড়কপথে ভারতে চলে যাচ্ছে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি।’

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আগের চেয়ে কার্গো সেবায় ভোগান্তি কমলেও এখনো কিছু সমস্যা রয়েছে। চার্জ বেশি হওয়ায় এখান থেকে পণ্য কলকাতা বিমানবন্দরে নিয়ে রপ্তানির জন্য পাঠানো হয়। আমরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি জানিয়েছি। ব্যবসার ব্যয় কমাতে এসব সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, কার্গো, চট্টগ্রাম বন্দরের কাজ ব্যবসাকে ফ্যাসিলিটেট করা। কিন্তু তারা যখন-তখন চার্জ বাড়িয়ে দেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারণে ডুয়িং বিজনেস র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি ঘটছে না।

তা ছাড়া শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রপ্তানি কার্গো ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন হলেও আমদানি পণ্য ডেলিভারিতে কিছু সমস্যা এখনো আছে বলে জানালেন বিজিএমইএর এয়ারপোর্ট সেল কমিটির চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘পণ্য খালাসের দেরি কিছুটা কমে এসেছে। সঠিক সময়ে পণ্য খুঁজে পেতে আমরা নিজেদের উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের মেসেজ পাঠাচ্ছি। তবে পণ্য চুরির অভিযোগ পাই মাঝেমধ্যে।’

সূত্র : কালের কণ্ঠ
এন এইচ, ১৬ ফেব্রুয়ারি

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে