Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০ , ২৬ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-১৫-২০২০

নানা জটিলতায় অনিশ্চিত ডিএনডি’র মেগা প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রীর ‘হাতের ছোঁয়া’ চান এলাকাবাসী

নানা জটিলতায় অনিশ্চিত ডিএনডি’র মেগা প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রীর ‘হাতের ছোঁয়া’ চান এলাকাবাসী

নারায়ণগঞ্জ, ১৬ ফেব্রুয়ারি - ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ নানা জটিলতায় অনিশ্চয়তার পথে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের প্রায় ৫৪ ভাগ শেষ হয়েছে। তবে নানা জটিলতার কারণে বাকি কাজ শেষ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আরডিপিপি (পুনঃপ্রকল্প প্রস্তাব) একনেকে পাস করানো নিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের এমপি শামীম ওসমান জানান, হাতিরঝিলের মতো এলাকাকে কীভাবে দেশের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন করা যায়, সেটি প্রধানমন্ত্রী দেখিয়েছেন। ডিএনডি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নেও প্রধানমন্ত্রীর হাতের ছোঁয়া চাইছেন এলাকাবাসী।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, প্রস্তাবিত আরডিপিপি’র ফাইলটি পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে যেতেই সময় লেগেছে প্রায় ১৪ মাস। ফলে ডিএনডি’র পুনঃউন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) দ্রুত একনেকে পাস না হলে ডিএনডিবাসীর স্বপ্নের এই প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে কয়েক যুগ দখলে থাকা ডিএনডি এলাকার প্রায় ৮৯ কিলোমিটার উদ্ধার হওয়া খাল এবং নতুন করে খনন করা খালগুলো আবারও বেদখল হয়ে যাবে।

ফলে গত ২ বছরে প্রকল্পে ব্যয় করা অর্থ ও পরিশ্রম দুটিই ভেস্তে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। অপরদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্পের আরডিপিপি পাস হলে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে ডিএনডি এলাকার মানুষ। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ডিএনডি’র প্রায় ৩০ লাখ বাসিন্দার দুই যুগের কৃত্রিম জলাবদ্ধতা আর অবর্ণনীয় দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান করতে সরকার একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে। ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট একনেকের সভায় ৫৫৮ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্প পাস হওয়ার খবরে সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা, ঢাকার ডেমরাসহ আশপাশের এলাকায় আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর তৎকালীন পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের উপস্থিতিতে বিশাল জনসভায় এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এই প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সেনাবাহিনী চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু করে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনস্থ ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন ব্যাটালিয়ন। এদিকে প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুনে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা।

জানা গেছে, ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনীর ত্বরিত গতির কাজ দৃশ্যমান হওয়ার পরপরই কৃত্রিম জলাবদ্ধা থেকে ধীরে ধীরে মুক্তি মিলতে শুরু করে ডিএনডিবাসীর। গত দুই বছরে সেনাবাহিনী পুরো ডিএনডি এলাকার ৯৩ দশমিক ৯৯ কিলোমিটার খালের মধ্যে ৮৮ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার উদ্ধার এবং ৬৩ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি ডিএনডির এই প্রজেক্টে থাকা নতুন ও আধুনিক পাম্পগুলোও ইতিমধ্যে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে আনা পাম্পগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক ডিভাইস, যাতে পাম্পগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পানি টানার কাজ করবে। এতে বাঁচবে বিশাল অঙ্কের বিদ্যুৎ খরচও। তবে সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতাধীন ডিএনডি’র নিজস্ব জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ২৭টি মসজিদ, ১১টি মাদ্রাসা, ১৩টি সরকারি-বেসরকারি স্কুল ও কলেজ, একটি মন্দির, ১টি পুলিশ চেকপোস্ট, ৪টি পেট্রল পাম্প ও ওয়াসার পাম্প হাউস, ৫টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা উচ্ছেদ করার ক্ষেত্রে বিশাল জটিলতা রয়েছে। ইতিমধেই প্রায় ২৮ অবৈধ দখলদার উচ্চ ও নিম্ন আদালতে রিট করায় উচ্ছেদ অভিযানে বাধা পেতে হচ্ছে সেনাবাহিনীকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পে যে ব্যয় ধরা হয়েছিল সেখান থেকে নানা কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে (প্রস্তাবিত) প্রায় সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পের ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে প্রস্তাবিত আরডিপিপিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৯ কোটি টাকার বেশি।

সূত্র : যুগান্তর
এন এইচ, ১৬ ফেব্রুয়ারি

নারায়নগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে