Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ৩১ মে, ২০২০ , ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-২৬-২০২০

এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

আলাউদ্দিন আরিফ


এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি- লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাংসদ কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত উপায়ে শতশত কোটি টাকা অর্জন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার কমিশনের সভায় এ অভিযোগ অনুসন্ধানের অনুমোদন দেওয়া হয়। দুদক পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল অনুসন্ধানের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণে বিশেষ তদন্ত অনুবিভাগের মহাপরিচালককে গতকালই চিঠি দিয়েছেন। দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, শিগগিরই অভিযোগের অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে।

সম্প্রতি কুয়েতের পুলিশ পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ তদন্ত শুরু করলে পালিয়ে দেশে চলে আসেন। পরে কুয়েতি গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মানব ও অর্থপাচারের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ফের কুয়েত চলে যান। তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য। তারা দুজনই স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুল কুয়েত থেকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক ও দেশি-বিদেশি নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। আমার প্রতিষ্ঠানে মারাফি কুয়েত গ্রুপে ৪ হাজার ভারতীয় ও ১০ হাজার বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ৩০ হাজার লোক কাজ করেন। আমার বিরুদ্ধে কারও কোনো অভিযোগ নেই। কারা কেন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে সেটা আমার বোধগম্য নয়।’

দুদকের নথি থেকে জানা গেছে, কমিশনে পাপুলের বিরুদ্ধে ১৭৪ পাতার অভিযোগ জমা হয়েছে। অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ হলে তার অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান করবেন। দুদকের চিঠিতে তার অভিযোগের সংক্ষিপ্ত শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুল সংসদ সদস্য (লক্ষ্মীপুর-২) ও পরিচালক এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক প্রধান কার্যালয়, ঢাকার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গ্রাহক লোন বরাদ্দ করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ মানি লন্ডারিং করে বিদেশে পাচার এবং শতশত কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন।’

দুদকে জমা হওয়া অভিযোগে বলা হয়, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এই পরিচালক বিদেশে ব্যবসার আড়ালে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করে বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন। এর মধ্যে তিনি ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ২৮০ কোটি টাকা হুন্ডি ও বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাচার করেছেন। এ টাকার মধ্যে তিনি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মতিঝিল শাখার একটি হিসাবের মাধ্যমে ১৩২ কোটি টাকা ও প্রাইম ব্যাংকের এক কর্মকর্তার মাধ্যমে ৪০ কোটি টাকা পাচার করেন। ইউসিবিএলের মাধ্যমে ১০ কোটি ও প্রাইম ব্যাংকে ঋণ সৃষ্টি করে ১০ কোটি টাকা পাচার করেন। বাকি টাকা পাপুল তার শ্যালিকা জেসমিন প্রধান এবং জেডডাব্লিউ লীলাবালি নামক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েকজন ব্যাংক মালিক অর্থ পাচারে পাপুলকে সহযোগিতা করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ৫০ কোটি টাকার শেয়ার ক্রয় করে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালক হয়েছেন পাপুল, স্ত্রীর নামে একই ব্যাংকের ৩০ কোটি টাকার শেয়ার কিনে অংশীদার হয়েছেন। গুলশান-১-এর ১৬ নম্বর সড়কে গাউসিয়া ডেভেলপমেন্টের প্রকল্পে মেয়ে ও স্ত্রীর নামে দুটি ফ্ল্যাট, গুলশান-২-এর পিংক সিটির পেছনে গাউসিয়া ইসলামিয়া প্রকল্পে স্ত্রীর নামে ৯০০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, স্ত্রী ও নিজের নামে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসহ বিভিন্ন স্থানে ৯১ কোটি টাকার সম্পদ আছে। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের ঢাকার ওয়েজ অনার্স শাখায় স্ত্রীর নামে ৫০ কোটি টাকার ওয়েজ ওনার্স বন্ড ও মেয়ের নামে ২০ কোটি টাকার বন্ড আছে। শ্যালিকার নামে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দুটি বিলাসবহুল গাড়ি কিনে নিজে ব্যবহার করছেন। এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে নিজ নামে ৪০ কোটি, মেয়ের নামে ১০ কোটি ও স্ত্রীর নামে ২০ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্ত্রীর নামে একটি ছয়তলা বাড়ি আছে। এছাড়া শ্যালিকার নাম ব্যবহার করে দিগন্ত মিডিয়ার বেনামে পরিচালক ছিলেন তিনি। যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা কাশেম আলীর সঙ্গে তার বিপুল পরিমাণ ব্যবসা ছিল। তিনি মীর কাশেম আলীর বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন বলেও অভিযোগে বলা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ব্যাংক পরিচালক হয়েও বেআইনিভাবে ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যু করে চার পরিচালক বোর্ডসভায় অনুমতি ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা ভোগ করছেন। এই ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে পাপুল রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে পাথর সরবরাহের ব্যবসা করছেন। তার সহযোগী হিসেবে অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের একটি উপজলোর চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের এক সদস্যের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দৈনিক আরব টাইমস, আরবি দৈনিক আল কাবাস, কুয়েতি টাইমসসহ কয়েকটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশি এক সাংসদের বিরুদ্ধে মানবপাচারে জড়িত থাকার তথ্য উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবপাচার চক্রটিতে সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তি রয়েছেন। একজন গ্রেপ্তার হলে বাকি দুজন কুয়েত থেকে দেশে চলে এসেছেন।

কুয়েত পুলিশের বরাত দিয়ে আর কাবাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, চক্রটি ২০ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে কুয়েতে নিয়েছিল। যাতে তাদের ৫ কোটিরও বেশি কুয়েতি দিনার আয় হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে পাপুলের দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়, তিনি নিয়মিতভাবে কুয়েত ও বাংলাদেশে যাতায়াত করেন। কখনো কুয়েতে ৪৮ ঘণ্টার বেশি থাকেন না। মানবপাচারের বিরুদ্ধে কুয়েত পুলিশের অভিযানের কথা জানতে পেরে ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এছাড়াও তার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিতে পাঁচ মাস ধরে কর্মীদের বেতন বকেয়া রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কুয়েতে জনশক্তি রপ্তানির জন্য সরকারি কার্যাদেশ পেতে ঘুষ হিসেবে সেখানকার সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাদের পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি দেওয়ার তথ্য সামনে আসে।

এদিকে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মানবপাচারের সঙ্গে এক সাংসদের সংশ্লিষ্টতাকে ‘ফেক নিউজ’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শুনেছি যে এটা ফেক নিউজ। আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। আমাদের মিশন ওখান থেকে কোনো খবর দেয়নি। আমরা এখনো কিছু জানি না। এটা বোধহয় কোনো একটি পত্রিকায় বের হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওই পত্রিকাই বলেছে এর সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ আছে। একইদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, সাংসদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ থাকলে সেটা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এরপরই গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অবৈধ পথে কুয়েতে লোক নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে এমপি পাপুলের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য চেয়ে কুয়েত দূতাবাসকে চিঠি দিয়েছে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো। দ্রুততম সময়ে একটি প্রতিবেদন পাঠাতে দূতাবাসকে অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ক্লিনিং এবং সিকিউরিটির কাজের নামে তিনি মানবপাচার করে থাকেন। পাপুল যে শুধু অবৈধ পথে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত তা নয়, তিনি যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন সব জায়গাতেই নিজের তথ্য গোপন রেখে ব্যবসা করেন। পাপুল এমপি হওয়ার পর স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও বিপুল অর্থ ব্যয় করে স্বতন্ত্র  প্রার্থী হিসেবে মহিলা সাংসদ করেন।

লক্ষ্মীপুর এলাকাবাসীর অভিযোগ, মানবপাচার করে কুয়েতের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন এমপি পাপুল। তার কোম্পানির মাধ্যমে শ্রমিকদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা করে নিয়ে তাদের কুয়েতে পাঠানো হয়েছে। অনেক শ্রমিক তাদের শ্রমের টাকা পাচ্ছেন না এমন অভিযোগের ভিডিও ছেড়েছেন অনেকে।

লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের রাজনীতিতে উল্কারমতো আবির্ভাব হন কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুল। তার গ্রামের বাড়ি রায়পুর উপজেলার করোয়া গ্রামের কাজীবাড়ি। তার বাবার নাম কাজী নূরুল ইসলাম এবং মায়ের নাম তহুরুন নেছা। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাস। তিনি আশির দশকে কুয়েত চলে যান। সেখানে আউটসোর্সিং ও কনস্ট্রাকশন কাজ করে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হন। ২০১৬ সালের শেষের দিকে কুয়েতপ্রবাসী পাপুল লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে যান। তিনি রায়পুর পৌর শহরের আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জামশেদ কবির বাকি বিল্লাহের হাত ধরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করাসহ মানবসেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করার ঘোষণা দেন। পরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনে স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে ব্যাপক আর্থিক অনুদান দেন। একপর্যায়ে তিনি নিজেকে সর্বমহলে দানবীর ও ধনকুবের হিসেবে পরিচিতি করাতে সক্ষম হন। তিনি বিভিন্ন সভায় নিজেকে ধনকুবের দাবি করে বলেন, ‘নিতে আসিনি, মানবকল্যাণে দিতে এসেছি।’ তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামও স্বামীর গুণের কথা তুলে ধরেন। এক সভায় সেলিনা বলেন, ‘সাগরের পানি শুকিয়ে গেলেও পাপুলের টাকা শেষ হবে না।’ এরপর একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চান পাপুল। মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। এ আসনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন পাওয়া জাতীয় পার্টির তৎকালীন এমপি মোহাম্মদ নোমান হঠাৎ আত্মগোপনে চলে যান। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থনে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে জয়লাভ করেন পাপুল। এর কিছুদিন পর তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম স্বতন্ত্র কোটায় সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ হন।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি পাপুলের প্রোফাইল এবং নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা থেকে জানা যায়, নির্বাচনী হলফনামায় তিনি পেশা ‘ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বা আন্তর্জাতিক ব্যবসা’ দেখিয়েছেন। তার ওপর নির্ভরশীলদের আমানতের পরিমাণ ১ কোটি ৪৫ লাখ ২৬ হাজার টাকা ও তার আমানত ৭৩ লাখ ৪১ হাজার। হাতে নগদ ৩ কোটি ৮৬ লাখ ৯৩ হাজার ও স্ত্রীর নামে ৪ কোটি টাকা। তার নিজের এফডিআর ৮ কোটি ৬২ লাখ ১৩ হাজার টাকা ও স্ত্রীর নামে ২০ কোটি ১০ লাখ টাকা, বন্ড ও সঞ্চয়পত্র নিজের ২২ কোটি ৯১ লাখ ও স্ত্রীর ১৬ কোটি ২০ লাখ, ল্যান্ড ক্রুসার গাড়ির দাম ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। কৃষিজমি ২৬৩২ শতাংশ যার দাম দেখানো হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা, অকৃষি জমি নিজের নামে ৫ কাঠা ও স্ত্রীর নামে ২৫ কাঠা। যার দাম প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। মেয়ের নামে থাকা ফ্ল্যাটের দাম ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। তার কোনো ঋণ নেই। এছাড়া তার নামে হলফনামায় কোনো মামলার তথ্য নেই। তার ব্যক্তিগত প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী তিনি কুয়েত ছাড়াও জর্ডান এবং ওমানে জনশক্তি সরবরাহকারী।

কুয়েতের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম আল-কাবাস ১৮ ফেব্রুয়ারি মানবপাচার নিয়ে এক প্রতিবেদনে বলেন, তিনি কুয়েতে একজন আমেরিকার নাগরিকের সঙ্গে আর্থিক অংশীদারিত্বে ব্যবসা গড়ে তোলেন। কুয়েতে আয় করা বেশিরভাগ অর্থই তিনি আমেরিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদুল ইসলাম পাপুল তার মোবাইল ফোনে (কুয়েত থেকে) বলেন, ‘বাংলাদেশে আমার কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি বা এ ধরনের কোনো ব্যবসা নেই। মানবপাচারের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এটা একটি দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য যখন বাংলাদেশে যাই তখন কুয়েতে আমাকে বলা হয় আমি পালিয়ে গেছি। পরে ১৪ ফেব্রুয়ারি আবার কুয়েত চলে আসি। আমার কোম্পানি “মারাফি কুয়েতি গ্রুপ” ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত। এটি একটি জেনারেল ও কন্ট্রাক্টিং বিগ কোম্পানি। এতে ৩০ হাজার লোক কাজ করে। এখানে ৪ হাজার ভারতীয়, ২ হাজার নেপালি, ৪০০ কুয়েতি নাগরিক, আমেরিকান, অস্ট্রেলিয়ানসহ বহু দেশের মানুষ কাজ করে। বিশ্বের সেরা পাঁচটি কোম্পানির একটি এই প্রতিষ্ঠান অডিট করে। আমাদের প্রতিষ্ঠানটির সুনাম বিশ্বব্যাপী। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ বলেই আমি মনে করি। আমি আপনাদের ও বাংলাদেশের গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাই। আমি চাই সবাই সত্য তুলে ধরুক। কুয়েতে কোনো রিক্রুটিং লাইসেন্স ও ম্যান পাওয়ার কোম্পানি হয় না। এটা রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। আমি ও আমার স্ত্রী দুজনই সাংসদ হওয়ার কারণে এটা হয়েছে।’

সূত্র : দেশ রূপান্তর
এন কে / ২৭ ফেব্রুয়ারি

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে