Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ২৫ মে, ২০২০ , ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.1/5 (24 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০৭-২০২০

এক লাখ ছেলে-মেয়েকে বিশ্ব ভ্রমণের গল্প শোনাতে চান আসমা

এক লাখ ছেলে-মেয়েকে বিশ্ব ভ্রমণের গল্প শোনাতে চান আসমা

কাজী আসমা আজমেরি। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাভেলার্সদের মধ্যে অন্যতম এক নাম। দশ বছর ধরে তিনি বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, প্রকৃতি, দেশের মানুষ সম্পর্কে জানাচ্ছেন। ১১৫তম দেশ গ্রিসে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে কয়েক দিন আগে দেশে ফিরেছেন তিনি। এই নারী বিশ্বপর্যটকের লক্ষ্য চলতি বছরের ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এক লাখ ছেলে-মেয়েকে তার গল্প শোনাবেন।

কাজী আসমা আজমেরি ছোটবেলা থেকেই খুব দুরন্ত ছিলেন। ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন ছিল তার। ছোটবেলা তার স্কুল জীবন কেটেছে খুলনায়। এর পর ঢাকার নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ করেছেন। সেসময় থেকেই তার বেড়ানো শুরু হয়। তিনি ২০০৭ সালে প্রথম দেশ হিসেবে থাইল্যান্ড যাত্রা করেন। আর ২০১৮ সালে তুর্কমেনিস্তানের মাটিতে পা দিয়ে শততম দেশ সফরের আশা পূরণ করে রেকর্ড সৃষ্টি করেন তিনি।

কাজী আসমা আজমেরি জানান, আমি বাংলাদেশের ট্যুরিস্ট স্পট ফোকাস দিচ্ছি, বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করাটাই আমার সবচেয়ে বেশি কাজ, আমার মনে হচ্ছে তারা ঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। তারা গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থা, মাদকদ্রব্য, ফেসবুকের অপব্যবহার কিংবা তাদের শক্তি মেধা অপব্যবহার করছে। তাদের সময়টাকে তারা অপচয় করছে, এবং আমাদের বাংলাদেশ ৭০ বছর পিছিয়ে রয়েছে পৃথিবী থেকে। আমি চেষ্টা করছি সেটাকে এগিয়ে নিয়ে আসার এবং মানুষের চিন্তাভাবনাকে পরিবর্তন করার।


তিনি বলেন, আমার মনে হয় একজন মানুষ ইচ্ছা করলেই সব কিছু করতে পারে, যেটা আমি পেরেছি। আমি তিনটি ক্ষেত্রে দুর্বল ছিলাম সামাজিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে এবং ভিসা জটিলতা নিয়ে। এসবের সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে ১১৫ টি দেশ ভ্রমণ করেছি। আমি ইচ্ছা করলেই নিউজিল্যান্ডের কিংবা ইউএসএ পাসপোর্ট নিতে পারতাম কিন্তু কখনই নেয়নি। আর বাংলাদেশি পাসপোর্টে ভ্রমণ করে আমি যেই সংগ্রামটা করছি সেটা একটি যুদ্ধ করা একটি অনুন্নত দেশের পাসপোর্টকে প্রতিষ্ঠা করা যা বিশ্বের দরবারে অদূর ভবিষ্যৎ বাংলাদেশি পাসপোর্টে স্বাধীনভাবে চলতে পারে। আমি কোন আধুনিক দেশের বাসিন্দা নয় ইচ্ছা করলেই যা খুশি আমি করতে পারতাম, আমাকে আমার ভালো লাগে না অনেক কষ্ট, কিন্তু সংগ্রাম না করলে কোন কিছু আসে না। সেগুলো আমি চাই আমাদের বাংলাদেশের সাধারণ শিশুরা তরুণ-তরুণীরা যাতে আমাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে পারে সেজন্য আমার ভ্রমণের মাধ্যমে আমি তাদেরকে কিছু গল্প শোনাতে চাই।

আসমা বলেন, আমার লক্ষ্য ২৫ ডিসেম্বর ২০২০ এর ভেতর এক লাখ ছেলে-মেয়েকে আমার গল্প শোনাবো এবং আমার গল্পের মাধ্যমে তাদের জীবনকে পরিবর্তন এবং মোটিভেটেড করার চেষ্টা করবো। এখানে আমার প্রধান শ্লোগান হচ্ছে, ট্রাভেলিং ইজ ফান ওয়ে টু লার্ন, ট্রাভেলিং ম্যাক ইউ মোর ওয়াইজার এন্ড এক্সপেক্টেবল এভরিথিং। ভ্রমণের মাধ্যমে পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখে যে কোনো মানুষের মন বিশাল আকাশের মত বড় হয় এবং মানুষকে অনেক উদার করে। হিংসার মত সংকীর্ণতা দূর করবে। ভ্রমণকারী পারে পৃথিবীতে পরিবর্তন আনতে।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে তাদের নতুন চিন্তা ভাবনা দিয়ে পরিবর্তন আনতে পারবে। আর তাদেরকে সুষ্ঠু শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। আমি অনেক রিচার্জ করে দেখেছি যে বাংলাদেশে এখন যারা শিক্ষকতা করে তারা অধিকাংশই পেটের দায়ে করে। ভালোবেসে, শ্রদ্ধা করে কেউ করেন না, এজন্য বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান অনেকটাই নোটের বইয়ের ভেতর আটকে গিয়েছে। সরকারের একার পক্ষে সম্ভব না পরিবর্তন করা যদি না আমি-আপনি পরিবর্তন না করি।


বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিশ্বভ্রমণের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে আসমা আজমেরি জানান, তিনি ২০১০ সালে ভিয়েতনাম গিয়েছিলেন, ইচ্ছে ছিল সেখান থেকে কম্বোডিয়া যাবেন। কিন্তু ইমিগ্রেশনের লোকেরা তার রিটার্ন টিকেট নেই এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখে তাকে সে অনুমতি দেয়নি। সেদেশের ইমিগ্রেশন তাকে ২৩ ঘণ্টা জেলে বন্দি করে রাখে। সেদিন আমি খুব কান্নাকাটি করেছিলাম। ওই ২৩ ঘণ্টা জেলে থাকার সময়ই আমি চিন্তা করলাম, আমাকে এমন কিছু করতে হবে যাতে বাইরের মানুষ বাংলাদেশের পাসপোর্টকে সম্মানের চোখে দেখবে, তাদের হয়রানি করবে না। সেই চিন্তা থেকেই বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিশ্বভ্রমণের চিন্তা মাথায় আসে। ২০০৭ সালে প্রথম দেশ হিসেবে থাইল্যান্ড যাত্রা করি আর ২০১৮ সালে তুর্কমেনিস্তানের মাটিতে পা দিয়ে শততম দেশ সফরের আশা পূরণ করে রেকর্ড সৃষ্টি করি।

আসমা আজমেরি বলেন, প্রথম দিকে ভ্রমণটা ছিলো শখের তবে এখন অনুভব করি ভ্রমণের মাধ্যমে নিজ দেশকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরতে পারবো। এখানেই আমার আনন্দ।

কাজী আজমেরি বলেন, আমার ইচ্ছে ছিল বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে ১০০টি দেশ ভ্রমণ করবো, সেই ১০০টি দেশ ভ্রমণ করার পর আবার মনে হলো আমার মানুষের জন্য কিছু করা উচিত। যেটা সবসময়ই আমার ছোটবেলা থেকে একটি তাগিদ অনুভব করতাম। সেখান থেকে আবার ইচ্ছে হলো একটি সমাজ পরিবর্তন করার জন্য। ১০ থেকে ১৯ বছরের শিশুদের নিয়ে কাজ করছি।

সূত্র: পূর্বপশ্চিমবিডি

আর/০৮:১৪/০৭ মার্চ

পর্যটন

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে