Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১ জুন, ২০২০ , ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০৯-২০২০

সাবেক স্বামীকে ফাঁসাতে স্ত্রীর ভয়ংকর পরিকল্পনা, পরিণতিও ভয়াবহ

সাবেক স্বামীকে ফাঁসাতে স্ত্রীর ভয়ংকর পরিকল্পনা, পরিণতিও ভয়াবহ

সাতক্ষীরা, ০৯ মার্চ- সাতক্ষীরার তালায় পেট্রল ঢেলে আগুনে জ্বালিয়ে গৃহবধূ ফারহানা আক্তার রত্নাকে (২৬) হত্যা করা হয়নি, বরং দুর্ভাগ্যবশত সাজানো পরিকল্পনাটি হত্যাকাণ্ডে রুপ নিয়েছে। সাবেক স্বামীকে ফাঁসাতে নারকীয় এ পরিকল্পনা করেন রত্না ও তার বর্তমান স্বামী হাসিবুর রহমান সবুজ। দুজনের পরিকল্পনা মতে তালা বাজার থেকে ক্রয় করা হয় চার লিটার পেট্রল। এরপর তালা সদরের মোবারকপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটানো হয়।

সোমবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

নিহত ফারহানা আক্তার রত্না পাইকগাছা থানার মালোত গ্রামের রোকনউদ্দীনের মেয়ে। তার বর্তমান স্বামী হাসিবুর রহমান সবুজ (২৭) কুষ্টিয়া দৌলতপুর থানার খাসমথুরাপুর গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তারা উভয়ে তালার মোবারকপুর গ্রামের বাবু সাধুর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

ঘটনার বিবরণ ও পরিকল্পনার বিষয়ে পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তালা থানায় পেট্রল জ্বালিয়ে মেয়ে রত্নাকে হত্যা চেষ্টার মামলা করেন বাবা রোকনউদ্দীন সরদার। এ মামলায় আসামি করা হয় রত্নার দ্বিতীয় স্বামী, শ্বশুর, ভগ্নিপতিসহ চারজনকে। মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা একত্রিত হয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি রাত দেড়টার দিকে রত্নার ঘরে ও গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে রত্নাকে হত্যা চেষ্টা করেছে। রত্নাকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখান থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেয়া হয়।

পুলিশ সুপার জানান, মামলার পরই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ। তদন্তকালে গত ৭ মার্চ তালার ভাড়া বাসা থেকে আটক করা হয় রত্নার বর্তমান স্বামী হাসিবুর রহমান সবুজকে। জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ ঘটনা খুলে বলতে শুরু করে। রত্নার তিনটি বিয়ে করেছে। দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে। ১০-১২ বছর সেখানে সংসারও করেছে। সেই ঘরে ৮ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মনোমালিন্য হওয়ায় তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তাদের মধ্যে পারিবারিক ৩-৪টি মামলাও রয়েছে। পরবর্তীতে পাইকগাছায় থাকাকালীন রত্নার সঙ্গে সবুজের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, দ্বিতীয় স্বামীকে ফাঁসাতে বর্তমান স্বামী সবুজ ও রত্না গায়ে আগুন দেয়ার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তালা বাজার থেকে চার লিটার পেট্রল কেনেন তার স্বামী। সেই পেট্রল বাড়িতে রাখা হয়। এরপর রাতে ঘরে ও গায়ে পেট্রল লাগান রত্না। তারপর গায়ে আগুন দেন স্বামী সবুজ। এরপর সবুজ বাইরে এসে চিৎকার করে স্থানীয়দের জড়ো করেন। তবে আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রত্না বার বার তার দ্বিতীয় স্বামীসহ চারজনকে চিনতে পেরেছেন বলে জানালেও সেটি আদৌ সঠিক নয়। পর্যাপ্ত আলামতসহ পর্যালোচনা করে ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত ও সাজানো বলেই প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।

দুর্ভাগ্যবশত রত্না মারা গেছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, রত্না ও তার স্বামী ভেবেছিল আহত হয়ে পরে আবার সুস্থ হয়ে যাবে। তবে রত্না গত ৪ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় বর্তমান স্বামী সবুজ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/০৯ মার্চ

সাতক্ষীরা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে