Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ৩১ মে, ২০২০ , ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২২-২০২০

বন্ধ ঢাকা কলেজ নিয়ে শিক্ষকের আবেগঘন স্ট্যাটাস

বন্ধ ঢাকা কলেজ নিয়ে শিক্ষকের আবেগঘন স্ট্যাটাস

ঢাকা, ২২ মার্চ - করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ১৭ মার্চ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। সে নির্দেশনা অনুযায়ী এদিনই ঢাকা কলেজের সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় আবাসিক হলও বন্ধ করে দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা আবাসিক হল ত্যাগের পরে কোলাহলপূর্ণ ক্যাম্পাসে নেমে আসে সুনসান নিরবতা। আর এই নিরব-নিস্তব্ধ কলেজ প্রাঙ্গণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মঞ্জুরা মোস্তফা। যেখানে তিনি লিখেছেন শিক্ষার্থীদের কোলাহল, হৈ-হুল্লোড় একসময় তার রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটালেও ধীরে ধীরে এই কোলাহল হয়ে ওঠে তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়। ছুটির পরে ক্যাম্পাসে নেমে আসে অখণ্ড জমাট নিস্তব্ধতা। এখন এই নিস্তব্ধতাই ক্ষণে ক্ষণে বিঁধছে তাকে। স্ট্যাটাসটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পাঠকের উদ্দেশে স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো-

‘প্রায় বছর খানেক আগে ঢাকা কলেজ ছাত্রাবাস সংলগ্ন ফ্ল্যাটটিতে উঠি। এখানে ওঠার পর একটি নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই। ছাত্রাবাসের ছাত্রদের দুর্দান্ত রাত জাগরণ। প্রায় রাতেই ওরা দল বেঁধে ছাদে উঠে সারারাত গলা ছেড়ে গান করে। চলে আড্ডা, গল্প, হৈ-হুল্লোড়। কখনও মাঝরাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ছুটে আসে শ্লোগানের আওয়াজ। ঘন ঘন হোন্ডা (মোটরসাইকেল) আসা যাওয়ার শব্দ থাকে শেষ রাত অব্দি। এখানেই শেষ নয়, কখনও কখনও দু-পক্ষের সংঘর্ষে ধাওয়া-পল্টা ধাওয়াও চলতে থাকে রাতের নিস্তব্ধতা বিদীর্ণ করে। আমি মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত হয়ে শব্দ থেকে বাঁচার জন্য বেডরুম ছেড়ে অন্যরুমে চলে যাই। নিঃশব্দে নিরিবিলি শান্তিতে ঘুমাব বলে।

আজ ৬/৭ দিন হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ায় ছাত্ররা ক্যাম্পাস ছেড়েছে। ঢাকা কলেজ ছাত্রাবাস লকডাউন। ছাত্ররা কেউ কোথাও নেই। স্তূপীকৃত অখণ্ড জমাট নিস্তব্ধতা চারিদিক। গভীর রাতে গাছের পাতার ঝিরিঝিরি শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। আমি তো এমনটাই চেয়েছিলাম। এমন মোহনীয় স্তব্ধতায় শান্তির ঘুম।

তবে? তাহলে? আমার ঘুম আসে না কেন?

আসলে আমার অজান্তেই আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় প্রাণপণ প্রত্যাশা করছে রাত জাগানিয়া সেইসব উত্তাল শব্দ, গান ও হট্টগোল। ছাত্রাবাসের রুফটপে ছাত্রদের বেসুরো গানের সুরই হবে আমার ঘুমের একমাত্র টনিক। আমরা এখন নিরাপদ, আর ভয় নেই একত্রিত হওয়ার। ছোঁয়াছুঁয়িতে আর জীবননাশী জীবানুর ভয় নেই। ওদের দলগত উপস্থিতিই হবে, ‘কোয়ারান্টাইন, আইসোলেশন, ইমারজেন্সি, কার্ফু (কারফিউ)’ এই শব্দগুলো চিরবিদায়ের সংকেত। আতঙ্কহীন নিরাপদ স্বাভাবিক জীবনের বার্তা।’

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ২২ মার্চ

শিক্ষা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে