Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ৯ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৩-২০২০

পাপিয়ার অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গী ওয়েস্টিনের অসাধু কর্মকর্তা

নিহাল হাসনাইন


পাপিয়ার অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গী ওয়েস্টিনের অসাধু কর্মকর্তা

ঢাকা, ২৩ মার্চ- মদের টেবিলে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করতেন পাপিয়া। আদায় করতেন মোটা অংকের অর্থ। এই প্রক্রিয়ায় চার মাসে ৫ কোটি টাকার অধিক অর্থ উপার্জন করেন তিনি। পাপিয়ার অবৈধ এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে গুলশানের দি ওয়েস্টিন হোটেলের অসাধু কিছু কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অনুসন্ধানে। গত শনিবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে হোটেলের এক কর্মকর্তাসহ ছয়জনকে আসামি করে মানি লন্ডারিং আইনে গুলশান থানায় মামলা করা হয়েছে। 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাল টাকা বহন ও অবৈধ টাকা পাচারের সময় পাপিয়াসহ চারজনকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করে র্যাব। বাকিরা হলেন পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন, সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবা। এরপর রাজধানীর ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডে ও নরসিংদীতে বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়িসহ তাদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থের সন্ধান পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে র্যাব। পরে পাপিয়ার বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানা ও বিমানবন্দর থানায় অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা করা হয়।

র্যাবের করা মামলাগুলো অনুসন্ধান করতে গিয়ে পাপিয়ার বিপুল সম্পদের সন্ধান পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে স্বামী ও চার সহযোগীসহ পাপিয়ার নামে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়। মামলায় আসামি করা হয়েছে পাপিয়া, তার স্বামী মফিজুর রহমান, শেখ তায়্যিবা, সাব্বির খন্দকার, যুবায়ের আলম এবং হোটেল ওয়েস্টিনের বার ম্যানেজার মো. বশিরকে।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে করা ওই মামলার অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, স্বামী ও সহযোগীদের নিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা সিকিউরিটি সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী টোকন মিয়াকে তার দুই সহকর্মীসহ নরসিংদী থেকে তুলে নেন পাপিয়া। পরে খারাপ প্রকৃতির মেয়েদের সঙ্গে ছবি তুলে টোকন মিয়ার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেন পাপিয়া। এর মধ্যে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাপিয়া তার বাবার সোনালী ব্যাংকের হিসাবে গ্রহণ করেন। বাকি ২০ হাজার নেন নগদে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু টোকন মিয়াকে নয়, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে জিম্মি করে মাত্র চার মাসে ৫ কোটি ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৬১ টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেন পাপিয়া। এই টাকার মধ্যে থেকে রাজধানীর এফডিসি গেট এলাকায় অবস্থিত কার এক্সচেঞ্জ শো-রুমে গাড়ির ব্যবসায়ী যুবায়ের আলমের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেন ১ কোটি টাকা। পাশাপাশি নরসিংদীর কেএমসি কার ওয়াশ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন পাপিয়া। এছাড়া চার মাসে হোটেল ওয়েস্টিনের ২৬টি কক্ষ ব্যবহার করেন পাপিয়া। সেখানে রুম ভাড়া এবং বার বিল বাবদ খরচ করেন ৩ কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৬১ টাকা। এর বাইরে রাজধানীর ইন্দিরা রোডের ফ্ল্যাটের ভাড়া প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা হারে এক বছরে ৬ লাখ টাকা খরচ করেন তিনি।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, ওয়েস্টিনের বার ম্যানেজার মো. বশির। তিনি দীর্ঘদিন থেকে পাপিয়ার অবৈধ কাজের সঙ্গী। পাপিয়া যখনই কোনো ক্লায়েন্টকে নিয়ে বারে আসতেন, তখনই বশির তাদের সার্বিক সহযোগিতা করতেন।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাপিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ উপার্জনের তথ্য মিলেছে, যার ভিত্তিতে তার ওয়েস্টিনের এক কর্মকর্তাসহ মোট ছয়জনকে আসামি করে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলা তদন্তের পর আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

সূত্র : বনিকবার্তা
এম এন  / ২৩ মার্চ

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে