Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ৩ জুন, ২০২০ , ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৪-২০২০

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে প্রয়োজন সচেতনতা

আহবাব চৌধুরী খোকন


করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে প্রয়োজন সচেতনতা

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস থমকে দিয়েছে নিউইয়র্কের জনজীবন । শুধু নিউইয়র্ক কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের বললে ভুল হবে এই ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে  প্রায় পুরো বিশ্বে। দেশে দেশে সরকার মানুষের জীবন বাঁচাতে ঘরের বাহিরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে । কিছু এলাকায় লক ডাউন,জরুরী আইন ,এমনকি পুশিশ এবং সেনাবাহিনী নামিয়ে জনগনকে ঘরে আবদ্ধ রাখতে বাধ্য করা হচ্ছে।স্কুল কলেজ , কাজ-কর্ম ,ব্যবসা-বানিজ্য বন্ধ এবং স্থবির। এই ভাইরাস পুরো বিশ্বের অর্থনীতিতে যে দীর্ঘ স্থায়ী প্রভাব ফেলবে তাতে সন্ধেহ নেই। গত পাঁচ দিন যাবৎ বঊ বাচ্চা নিয়ে আমি নিজেও ঘরের চার দেয়ালে অনেকটা বন্দি জীবন কাঠাচ্ছি। নামাজ,রোজা পড়াশুনা, লেখালেখি এবং টেলিফোনে আত্নীয় স্বজন ,বন্ধুবান্ধব ও  পরিচিত জনদের খোঁজ খবর নিয়েই কাঠাচ্ছি  দিনকাল। ২০ বছরের প্রবাস জীবনে অনেকটা নিয়মের মধ্যে অভ্যস্থ। প্রতিদিন ১৭ /১৮ ঘন্টা কাজ করে সময় কাঠতো। সকাল ৭ ঠায় ঘুম থেকে উটে বেরিয়ে পড়তাম কাজে আর কাজ থেকে ঘরে ফিরতে ফিরতে রাত ৮ঠা। শনি,রবি বন্ধের দিনে ঘরে ফিরতে ভোর রাত ২ঠাও হয়ে যেতো। এই অবস্থায় দীর্ঘ দিনের অভ্যাস ছেড়ে ঘরে বসে থাকতে অসুবিধা হচ্ছে। মনে পড়ছে ছোট বেলার কথা। যখন ছোট ছিলাম তখন চৈত্র মাসের প্রচন্ড গরমে রমজান মাসের রোজা রাখার দিন গুলোর কথা মনে হচ্ছে। গরমের দিনে আব্বা আমাদেরকে ঘরে আটকিয়ে রাখার চেষ্টা করতেন ।প্রচন্ড এই গরমে প্রয়োজন ছাড়া তিনি নিজে বাহিরে যেতেন না আমাদেরকেও যেতে নিষেধ করতেন। আব্বার ছিল বাজারে ঔষধের ব্যবসা ।কিন্তু চৈত্রের সেই রোজা মাস এলে দেখতাম তিনি ব্যবসা বানিজ্য কমিয়ে ফেলতেন। দিনে সীমিত সময়ের  জন্য ব্যবসা খুলতেন। আর সারা দিন আমাদেরকে নিয়ে ঘরে আবদ্ধ থেকে চৈত্রের এই খরতাপ থেকে রক্ষা পেতেন।করোনা ভাইরাসে স্ত্রী,কন্যা পুত্র সহ ঘরের মধ্যে আটকা পড়ে পুরনো সেই দিন গুলোর কথা মনে পড়ছে।

এই ভাইরাসটি দীর্ঘস্থায়ী হলে কয়েক মিলিয়ন লোক মৃত্যু বরণ করতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা আশংকা করছেন।করোনাভাইরাস মূলত একটি  ছোয়াছে রোগ ।আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশির ফলে বাতাসে বাসমান স্লেসাকণার মাধ্যমে অপর ব্যক্তির মাঝে এই রোগটি ছড়ায়। ব্যাধিটির সাধারণ লক্ষন হচ্ছে জ্বর,কাশি ও শ্বাসকষ্ট। এই রোগ জটিল আকার ধারণ করলে ফুসফুসে প্রদাহ ও তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। এই ব্যাধির কোন প্রতিশোধক টীকা কিংবা কোন ঔষধ এখন পর্যন্ত আবিস্কৃত হয়নি। ব্যাধিটি প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হচ্ছে অন্য ব্যক্তির সাথে দুরত্ব বজায় রাখা, ভালো করে হাত মুখ ধোযা ,হাঁচি ও কাশি দেওয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আত্ন পৃথকীকরণের পরামর্শ দেওয়া।২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীনের হুপাই প্রদেশের উহান নগরীতে এই রোগের প্রথম প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ২০২০ সালের ১১ই মার্চ তারিখে বিশ্ব স্বাস্থ্য  সংস্থা এই ব্যাধিটিকে বিশ্ব মহামারী হিসাবে ঘোষনা করেছে। এ  পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী এখম পর্যন্ত বিশ্বের ১৮০টি দেশে তিন লক্ষ এক হাজার লোক এই রোগে আক্রান্ত  হয়েছে এর মধ্য্যে  মৃত্যুর পরিমান ১৫ হাজার এবং পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন ৯৪ হাজার মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৪০০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন এর মধ্যে মৃত্যু বরণ করেছে ৫৬৮জন এবং পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উটেছেন ১৭৮জন রোগি। এই রোগে  সবচেয়ে বেশী মানুষ মারা গেছে ইটালীতে ।ইটালীতে এ পর্যন্ত মৃত্যু বরণ করেছে সাত হাজারেরও অধিক মানুষ। আক্রান্তের পরিমান হচ্ছে ৬৫ হাজারের মত। চীনের মৃত্যুর পরিমান হচ্ছে ৩২৪৫ জন এবং আক্রান্ত হয়েছিল ৮১০৫৪ জন। তাছাড়া সম্প্রতি আমাদের দেশে ও এই রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত তিনজন লোক এই ব্যাধিতে মৃত্যু বরণ করার খবর পাওয়া গেছে এবং আক্রান্তের পরিমান হচ্ছে ৩৩ জন। বাংলাদেশের মত ঘনবসতি পূর্ণ দেশে এখনই প্রতিরোধ করা না গেলে অবস্থা ভযাবহ হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশংকা প্রকাশ করেছেন।

করোনাভাইরাস যার পোশাকি নাম হচ্ছে কোডিভ -১৯। এই ভাইরাসের অনেক প্রজাতি রয়েছে এবং এর মধ্যে ছয়টি প্রজাতি মানুষের দেহে সক্রামিত হতে পারে। সাধারণ শুস্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমে শুরু হয় এর উপস্বর্গ এবং এক পর্যায়ে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুসারে এই রোগ একজন মানুষের শরীরে ১৪দিন স্থায়ী হতে পারে আবার কিছু কিছু গবেষকদের মতে এই রোগের স্থায়ীত্ব একজন মানুষের শরীরে ২৪ দিন পর্যন্ত হতে পারে। ৬৫ হাজার আক্রান্ত রোগীর উপর জরিপ চালিয়ে বিশ্ব স্থাস্থ্য সংস্থা যে ফলাফল পেয়েছে তা হচ্ছে নিম্নরুপ:

১। এ্ই রোগ শতকরা ৬ ভাগ মানুষের ফুসফুস বিকল করে ফেলে।ফলে দেখা দেয়  মৃত্যু ঝুকি।

২। ১৪ ভাগ রোগীর শ্বাস প্রশ্বাসে মারাত্নক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৩।  ৮০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে হালকা সর্দ্দি , কাঁশি, জ্বর এবং নিউমোনিয়ার উপস্বর্গ দেখা দিতে পারে।

ফলে এই রোগে আক্রান্ত বয়স্ক ব্যক্তি যারা বিভিন্ন ধরণের রোগে ভূগছেন যেমন আ্যজমা, ডায়বেটিক,হৃদরোগ ও উচ্চ রক্ত চাপ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে মৃত্যু ঝুঁকি বেশী থাকে ।

এই ভাইরাস জনমনে যতটা আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে এক শ্রেণীর মানুষ গুজব ছড়িয়ে  এই আতংককে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন হয়তো এই সময় খাদ্য দ্রব্যের সংকট দেখা দিতে পারে। ফলে অনেকের মধ্যে দেখা গেছে  খাদ্য দ্রব্য মওজুদ করার প্রবতনা। আর এই সুযোগে  কিছু বাংলাদেশী ব্যবসায়ী নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য বৃদ্ধি করে  অতিরিক্ত মোনাফা করার পথ বেঁচে নিয়েছেন। মানুষের বিপদের দিনে এই রকম ধান্দাকে ব্যাবসা বলা যায় না। এটা হচ্ছে এক ধরণের পকেট কাঠা। এখানকার সকল সুপার মার্কেট এবং হোল সেইল প্রতিষ্টান গুলো যদি পূর্বের মূল্যে জিনিষ পত্র বিক্রি করতে পারে তাহলে আমাদের বাঙ্গালী মালিকানাধিন প্রতিষ্টান গুলো কেন উপযুক্ত মূল্যে দ্রব্যসামগ্রী বিক্রি করতে পারে না এটা বোধগম্য নয়। মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে শুধু আমাদের বাংলাদেশী প্রতিষ্টান সমুহে। এই দিন পার্কচেষ্টারে জনপ্রিয় একটি ফার্মেসী থেকে হ্যান্ড সেনিটাইজেশন কিন গিয়ে দেখলাম ৯৯ সেন্টের পণ্যের জন্য  দাম রাখা হচ্ছে ৩ ডলার। একই অভিযোগ বাংলাদেশী সকল গ্রোসারী শপ গুলোর বিরুদ্ধে। শুনেছি  নিউইয়র্কে বাংলাদেশী মালিকানাধিন অনেক  প্রতিষ্টান সমুহকে ক্রেতাসাধারণের নিকট থেকে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করার  অপরাধে অধিনস্থ কৃর্তৃপক্ষ জরিমানা আরোপ করেছে ।এই থেকে অসাধু ব্যবসায়ীরা যদি একটু শিক্ষা পায় তাহলেই হলো। কারনোভাইরাসের জন্য আতংকিত না হয়ে সাহস ও সচেতনতার সাথে মোকাবেলা করতে হবে। এই মুহুর্তে সবার সেল্ফ কোয়ারান্টাইনে থাকাই হচ্ছে উত্তম ব্যবস্থা। স্ব স্ব দেশের আইন মেনে চলা, স্বাস্থ্য বিধি অনুস্মরন করা এবং এক জনের থেকে অপর জনের নিরাপদ দুরত্ব রক্ষা করাই হচ্ছে এই রোগ থেকে বেঁচে থাকার একমাত্র পথ। আমরা সবাই যদি কিছু দিন নিজ ঘরে আবদ্ধ থাকি তাহলে এই রোগ সক্রামনের পরিমাণ বহুলাংশে কমে আসবে বলে আমার দৃঢ বিশ্বাস ।চীনের উহান নগরী থেকে একদিন যে ভাইরাসটির জন্ম হয়েছিল আজ সেই উহান নগরী খোঁজলে নাকি  এক জন করোনা রোগী  ও পাওয়া যাচ্ছ না। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে সেখানকার মানুষদের সচেতনতা। কেবলমাত্র গনসচেতনতা পারবে আমাদেরকে এই মহা বিপদ থেকে উদ্ধার করতে। আসুন আমরা সবাই আতংকিত না হয়ে সচেতন হই। করোনা ভাইরাসের ব্যাপার আমরা স্ব স্ব দেশের আচরন বিধি এবং সেই সাথে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলি। মহান সৃষ্টি কর্তা আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন এই প্রার্থনা আমার অন্তর আত্নার ।

লেখক - সংগঠক ও কলামলেখক, নিউইয়র্ক।

এম এন  / ২৪ মার্চ

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে