Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ৩১ মে, ২০২০ , ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৭-২০২০

লাশ ঝুলিয়ে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ায় আশিক

লাশ ঝুলিয়ে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ায় আশিক

ময়মনসিংহ, ২৮ মার্চ -ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পাড়াভরট গ্রামের আব্দুল মতিনের কিশোরী কন্যা তাকমীনের প্রেম ছিল পার্শ্ববর্তী মসজিদের মুয়াজ্জিন আশিকুল হকের সঙ্গে। বিয়ের জন্য চাপ দিলে প্রেমিকাকে হত্যার পরিকল্পনা করে আশিক। সে অনুযায়ী পালিয়ে গিয়ে বিয়ের কথা বলে শেষরাতে মোবাইলে তাকমীনকে ডেকে নেয়। আসার পর মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। পরে একই মাদ্রাসায় পড়–য়া দুই বন্ধুর সহায়তায় হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখে জামগাছের ডালে। কিছুক্ষণ পর ফজরের আজান দেয় আশিকুল। মুসল্লিরা মসজিদে এলে ইমামতিও করে। এ সময় বন্ধু মাহফুজ ও আরিফও নামাজ পড়ে।

ঘটনার তিন দিনের মধ্যে মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে এ খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মুঠোফোনের কলের সূত্র ধরে মাহফুজকে (১৮) গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে আলোচিত এ লোমহর্ষক হত্যাকারে রহস্য উন্মোচিত হয়। মাহফুজ শুক্রবার বিকালে ময়মনসিংহ জেলা আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইমাম হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গফরগাঁও থানার উপসহকারী পরিচালক (এসআই) হাবিব এসব তথ্য জানান।

মাহফুজের জবানবন্দি, নিহতের পরিবার ও থানা সূত্রে জানা গেছে, আঠারদানা জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আশিকুল হক (১৬) নান্দাইল উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আইনাল হকের ছেলে। পাড়াভরট গ্রামের জামিয়া আরাবিয়া কাসেমুল উলুম কওমি মাদ্রাসার কিতাব বিভাগের ছাত্র। বেশ কিছুদিন ধরে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল তাকমীন। এ অবস্থায় সোমবার রাত তিনটার দিকে আশিকুল মোবাইল করে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে আঠারদানা মসজিদের কাছে তাকমীনকে ডেকে নেয়। এ সময় সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল তার বন্ধু মাহফুজ ও আরিফ (১৮)। সেখানে যাওয়ার পর আশিকুল তাকমীনকে ধর্ষণ করে। পরে মাহফুজ তাকমীনের পা ও আরিফ তাকমীনের হাত ও মুখ চেপে ধরে আর আশিকুল বুকের ওপর উঠে পা দিয়ে চেপে ধরে তার মাথার পাগড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তিন বন্ধু মিলে লাশ টেনেহিঁচড়ে মসজিদের পাশে একটি জামগাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখে।

ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর তাকমীনের লাশ একটি জামগাছের ডালের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায়। মঙ্গলবার বিকালে তাকমীনের বাবা আব্দুল মতিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে গফরগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মোবাইল ফোনের কল লিস্ট ধরে বৃহস্পতিবার সকালে গফরগাঁও থানা পুলিশ মাহফুজকে গ্রেপ্তার করে।

তাকমীনের ছোট বোন সুমাইয়া (১৩) জানায়, তার বোন রাতে তার সঙ্গেই ঘুমিয়ে ছিল। সে গোপনে মোবাইল ব্যবহার করত। মোবাইল ফোনটি হয়তো আশিকুলের দেওয়া।

গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অনুকূল সরকার বলেন, এ হত্যাকা-ের রহস্য উদ্ঘাটন করতে আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। বাকি জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র : আমাদের সময়
এন এইচ, ২৮ মার্চ

ময়মনসিংহ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে