Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০ , ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-২৭-২০২০

হাইকোর্ট ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষিত

আবু সালেহ রনি


হাইকোর্ট ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষিত

ঢাকা, ২৮ মার্চ- ২০১০ সালে ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রস্তাবিত ১৭ দফা সুপারিশ ১০ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি থেকে এসব সুপারিশ করা হয়। পরে গত বছরের এই দিনে রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউর ২২ তলা ভবন এফ আর টাওয়ারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাণ হারান ২৬ জন।

বনানীর মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর হাইকোর্ট ২০১০ সালে নিমতলীর দুর্ঘটনায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কমিটির দেওয়া ১৭ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানতে চান। অধিকাংশ সুপারিশই বাস্তবায়ন না হওয়ায় হাইকোর্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে ১৫ দফা নির্দেশনা দেন। কিন্তু বছর গড়িয়ে এলেও হাইকোর্ট ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সুপারিশগুলো উপেক্ষিত রয়ে গেছে।

২০১০ সালে অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়াতে যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ কয়েক দফা নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের সভাপতি আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি বলেন, 'একটি দুর্ঘটনা বা যে কোনো সমস্যা হলে সবাই তখন দায়িত্বশীল হওয়ার চেষ্টা করি। অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন পর বাস্তবায়নের বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি হয় না। ফলে পুনরায় সমস্যাগুলো যখন আবার সামনে আসে, তখন আমাদের পক্ষে প্রাণহানি রোধ করা আর সম্ভব হয় না। এফ আর টাওয়ারের ঘটনাও এমন একটি উদাহরণ। তখন রাষ্ট্রসহ অনেকেই এ বিষয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন। অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বছর গড়িয়ে আসার পর দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়নি। এ ব্যাপারে সংশ্নিষ্টদের দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।'

২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলীর ৪৩/১ নবাবকাটরায় পাঁচতলা বাড়িতে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ১২৩ জন প্রাণ হারান। আহত হন কয়েকশ মানুষ। ঘটনার পর বেলাসহ কয়েকটি সংগঠন অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে হাইকোর্টে রিট করে। ওই রিটে হাইকোর্টের নির্দেশে পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যাযের কমিটি ১৭ দফা নির্দেশনা দেয়।

এ প্রসঙ্গে বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটলে কেউ এর দায় নেয় না। অথচ সরকারের সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ডিসিসি, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষেরই এগুলো দেখার কথা। তার মতে, বিভিন্ন মহল থেকে দোষী ব্যক্তির শাস্তির আশ্বাস দেওয়া হলেও একটি ঘটনায়ও যথাযথ শাস্তি দৃশ্যমান হয়নি।

হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটির ১৭ দফা নির্দেশনা : জরুরি ভিত্তিতে আবাসিক এলাকা থেকে গুদাম বা কারখানা সরিয়ে নেওয়া; অনুমোদনহীন কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া; অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন-২০০৩ ও ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করা; রাসায়নিক দ্রব্যের মজুদ, বাজারজাতকরণ এবং বিক্রির লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে তদারকি প্রক্রিয়া বাড়ানো; আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক বা বিস্ম্ফোরক দ্রব্যের মজুদ বা বিপণনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা; দ্রুত অগ্নিনির্বাপণের জন্য স্থানীয়ভাবে পৃথক পানির লাইনসহ হাইড্রেন্ট পয়েন্ট স্থাপন; আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক বা বিস্ম্ফোরক জাতীয় পদার্থ মজুদ বা বিপণন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা; বাড়িঘরে ব্যবহূত বৈদ্যুতিক তারের গুণগত মান নিশ্চিত করা; রাস্তায় স্থাপিত খোলা তারের ব্যাপারে সাবধানতা; সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে মাসে অন্তত একবার ট্রান্সফরমার পরীক্ষা করা; জাতীয় পর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন; রাসায়নিক ও রাসায়নিক জাতীয় দাহ্য বস্তুর সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়; চাহিদা অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের অবকাঠামো, জনবল, প্রশিক্ষণ ও সাজ সরঞ্জামের আধুনিকায়ন, সচেতনতা বাড়ানো; অগ্নিকাণ্ডের সময় যেন উদ্ধারকাজে বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো; পাঠ্যসূচিতে অগ্নিকাণ্ড, উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসার বিষয় বাধ্যতামূলক করা; ৬২ হাজার কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ডেকোরেটরের উপকরণের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা।

প্রধানমন্ত্রীর ১৫ দফা নির্দেশনা : বহুতল ভবন তৈরির সময় ফায়ার সার্ভিসের ক্লিয়ারেন্সের পাশাপাশি 'ভায়াবিলিটি'ও নিশ্চিত করা; অগ্নিনিরাপত্তার বিষয় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা, ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন প্রতি বছর নবায়নের ব্যবস্থা করা; বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা; এক থেকে তিন মাসের মধ্যে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া করা; অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনে ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি অবলম্বন; ফায়ার সার্ভিস যাতে পর্যাপ্ত পানি পায় সেজন্য যেখানে যেখানে সম্ভব জলাশয় বা জলাধার তৈরি করা; লেকগুলো সংরক্ষণ করা; ফায়ার সার্ভিসের ল্যাডারের সংখ্যা বাড়ানো; প্রকৌশলীরা যেন পরিবেশ ও বাস্তবতার নিরিখে অবকাঠামোর নকশা করেন, তা নিশ্চিত করা; প্রতিটি ভবনে ফায়ার এক্সিট নিশ্চিত করা; যেসব স্থানে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে দরজা নিয়ন্ত্রণ করা হয়, সেখানকার ফায়ার এক্সিট সব সময় ওপেন বা ম্যানুয়ালি খোলার ব্যবস্থা রাখা; জরুরি প্রয়োজনে বহুতল ভবন থেকে তারপুলিনের মাধ্যমে ঝুলে নামতে পারার পদ্ধতি চালু করা; প্রতিটি হাসপাতাল ও স্কুলে বারান্দাসহ খোলা জায়গা রাখা; ভবনে আগুন লাগলে লিফট ব্যবহার না করা এবং প্রতিটি ভবনে কমপক্ষে দুটি এক্সিটওয়ে রাখা।

সূত্র : সমকাল
এম এন  / ২৮ মার্চ

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে