Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০ , ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-০৮-২০২০

আতঙ্কের নাম শেরপুর জেলা হাসপাতাল

আতঙ্কের নাম শেরপুর জেলা হাসপাতাল

শেরপুর, ০৮ এপ্রিল- ‌সারাবিশ্বে এখন করোনা ভাইরাস এক আতংকের নাম। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের মরণ থাবায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মৃত্যু বরন করেছে। এর আগ্রাসী থাবা থেকে বাঁচতে ও প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে ওষুধ বিজ্ঞানীরা জোড় গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আক্রমনের পর বাংলাদেশেও চলছে নানা রকমের প্রতিরোধমুলক প্রস্তুতি। এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার (৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শেরপুর জেলার শ্রীবরর্দী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী ও শেরপুর সদর উপজেলার লছমনপুরের এক গৃহবধূর শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। এই করোনা আক্রান্ত দুই নারীর সরকারী আইসোলেশন নিয়ে বিপাকে পড়ে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। কোথায় রাখা হবে, এ নিয়ে জেলা তিন আসনের সরকারী দলের তিন এমপির মধ্যে মত পার্থক্য দেখা দেয়।

করোনা রোগী থাকলে অন্যান্য রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসবে না বলে স্বস্ব উপজেলায় সরকার ঘোষিত আইসোলেশনে কেউ রোগী রাখতে দেয়নি। এমপিদের প্রচন্ড বিরোধীতার মধ্যে রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর আসনের এমপি ও জেলা স্বাস্থ্য কমিটির সভাপতি হুইপ আতিউর রহমান আতিক ওই দুই করোনা আক্রান্ত নারীকে জেলা সদর (২৫০শ শয্যা বিশিষ্ট) হাসপাতালের ডাইরিয়া ওয়ার্ডের দ্বিতীয় তলার কুষ্ঠ ওয়ার্ডে আইসোলেশনে রাখার নির্দেশ দেন।

ওই দিন রাত ১২টার দিকে করোনা আক্রান্ত দুই জনকে আনা হয় শেরপুর সদর হাসাপাতালে। এই খবর প্রচারের সাথে সাথে হাসপাতাল থেকে বেশ কজন রোগী পালিয়ে চলে যায়। দুই দিনে অনেকে ভর্তি হতে আসলেও করোনা রোগী ভর্তির কথা শুনেই চলে গেছেন। বর্হিঃবিভাগে রোগী ডাক্তার ছাড়া চলছে সুনশান নিরবতায়। হাসাপাতালের আশে পাশে বিশাল এলাকা জুড়ে থাকা মানুষজন ও হাসাপাতালের কম্পাউন্ডে সরকারী আবাসিক এলাকায় অবস্থান করা কর্মকর্তা কর্মচারীরাও কথিত আতংকে আছে। ডাক্তার নেই- সেবিকারা হাজিরা দিয়েই খালাস। শুধু মাত্র অফিস কক্ষ ছাড়া সব সেবা বন্ধ। বেশ কটি পরিবার হাসপাতাল কম্পাউন্ড ছেড়ে গ্রামের বাড়ীতে চলে গেছে। একে তো করোনা আতংক তার উপর করোনা রোগী ভর্তি করায় জেলার একমাত্র বড় এই চিকিৎসা কেন্দ্রটি এখন অচল হতে বসেছে। কেউ আসতে চাচ্ছে না চিকিৎসা নিতে। আয়া সুইপার আসে না। সব মিলিয়ে শেরপুরের এই প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি এখন আতংকের নাম। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক হাসাপাতালের ডাক্তার ও কর্মচারীরা বলেছেন অন্য আরও ভাল নির্জন জায়গা থাকতে রোগীর বিশাল চাপ সম্পন্ন এই হাসপাতালে কোন ক্রমেই করোনা রোগী রাখা ঠিক হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, শেরপুর জেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশনের জন্য ১৫০টি শয্যা প্রস্তুত আছে। যার মধ্যে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০, নকলা উপজেলায় উরফা ইউনিয়নে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০, নালিতাবাড়ী উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০, শ্রীবরর্দী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ এবং জেলা সদর হাসাপাতালে ১০টি শয্যা। স্বাস্থ্য বিভাগের মতে সদ্য ওই দুইজন রোগীকে যেখানে রোগী এবং লোকের ভীড় নেই সেখানে (আইসোলেশন অধিভূক্ত) রাখার চিন্তা করা করা হয়। সেমতে নালিতাবাড়ীর রাজনগর ইউনিয়নে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেকে নির্বাচিত করা হয়। এ দুটি হাসাপাতাল ক’দিন যাবতই রোগী শুণ্য। এমন প্রস্তাব আসতেই বেঁকে বসেন ওই দুই এলাকার স্থানীয় এমপিরা। সেখানে যেন রোগীকে রাখা না সেজন্য প্রচন্ড চাপ দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। রোগীর ভীড় পূর্ণ জেলা সদর হাসপাতালে প্রথমে হুইপ আতিউর রহমান আতিক রাজী না হলেও পরে মানবিক কারনে শেরপুর জেলা সদর হাসাপাতালে রোগীদ্বয়কে রাখতে বাধ্য হন বলে সূত্র জানিয়েছেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সিভিল সার্জন ডাঃ একেএম আনওয়ারুল রউফ চাপের ব্যাপারে কোন মন্তব্য না করে বলেন, করোনা আক্রান্তদের জেলা হাসপাতালে না রেখে রাজনগর অথবা ঝিনাইগাতীতেই রাখলে ভাল হতো। তবে চেষ্টা করেও পারা যায়নি। শেরপুর জেলা হাসপাতালটিতে এখন মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছে না এটি স্বীকার করে হুইপ আতিউর রহমান আতিক সাংবাদিকদের বলেন, নালিতাবাড়ী উপজেলার রাজনগরে ওই দুই রোগীকে রাখতে চাইলে কর্মকর্তাদের প্রচন্ড চাপ প্রয়োগ করেন ওই আসনের এমপি ও আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য। ঝিনাইগাতীতে রাখা যায়নি ওই আসনের এমপির বিরোধীতায়। হুইপ আতিক আরোও বলেন, আর কোন অবস্থাতেই আর কোন করোনা রোগীকে এই হাসপাতালে রাখা হবে না। করোনা রোগী রাখলে এই হাসপাতালের অন্য ভর্তি রোগী ও বর্হিঃ বিভাগের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দিতে হবে।

সূত্র : বিডি২৪লাইভ
এম এন  / ০৮ এপ্রিল

শেরপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে