Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১ জুন, ২০২০ , ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-০৯-২০২০

চাঁদা না দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা, ছেলেকে কুপিয়ে জখম

চাঁদা না দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা, ছেলেকে কুপিয়ে জখম

নোয়াখালী, ০৯ এপ্রিল- বাড়ি নির্মাণে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা ও বোমাবাজি করেছে সন্ত্রাসীরা। এমনকি কুপিয়ে জখম করেছে ওই মুক্তিযোদ্ধার ছেলেকে।

গত বুধবার (৮ এপ্রিল) এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা বাড়ির সামনে দুই ঘণ্টা অবরোধ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার আহত ছেলে সোলাইমান সুমনকে হাসপাতালে নিতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ আসার পর তাদের সহযোগিতায় সুমনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, শাকিল মাহমুদ ও লিটনের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জনের সন্ত্রাসী দল বন্দুক ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা চালায়।

সুমনের বড় ভাই আব্দুল্যাহ আল মামুন বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে নিজের ভিটায় চার রুমের একতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ শুরু করি। এরপর আমার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে শাকিল ও লিটনরা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় প্রথমে দোকান লুট করা হয়। এরপর বাড়িতে হামলা চালানো হয়। সেই সঙ্গে সুমনকে কোপানো হয়। পুলিশ আসার পর হামলাকারীরা চলে যায়। এ সময় তারা বলে গেছে, এক লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজি উল্যাহর দুই ছেলে এবং তিন মেয়ে। দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি ও তার স্ত্রী বাড়িতে থাকেন। বড় ছেলে মামুন মুদি দোকানদার, ছোট ছেলে সুমন স্বাস্থ্য বিভাগে কাজ করেন।

মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজি উল্যাহ বলেন, বুধবার বেলা ১১টার দিকে আমি বাড়ির সামনে রাস্তার পাশের ভিটায় কাজ করছিলাম। তখন বড় বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে শাকিল মাহমুদ এসে আমার খুব কাছে বোমা ফাটায়। কেন এরকম করলো জানতে চাইলে জবাব না দিয়ে চলে যায়। ১৫-২০ মিনিট পরে ফিরে আসে। এরপর একে একে আসতে থাকে তার সহযোগীরা। ততক্ষণে আমার ছোট ছেলে ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় আমার ছেলে সুমনকে কুপিয়ে জখম করে তারা। ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারিনি। ঘণ্টা দুয়েক তারা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। পরে পুলিশ এলে চলে যায় তারা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে রয়েছেন একই গ্রামের বড় বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে শাকিল মাহমুদ, মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে জয়নাল, সিরাজ উল্যাহর ছেলে আকবর হোসেন ওরফে কানপোড়া আকবর, ছমির উদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ির রাকিব ওরফে চোরা রাকিব, শাহরাইন্নার বাড়ির মো. মালেকের ছেলে লিটন, ছমির উদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ির খোকনের ছেলে রবিন ও মানিকের ছেলে মারুফ।

বেগমগঞ্জ থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবুল হোসেন বাঙ্গালি বলেন, ওয়াজি উল্যাহ একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার ও তার ছেলের ওপর এরকম হামলার নিন্দা জানাই। এ ঘটনার বিচার চাই আমরা।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বলেন, কেবল এই ঘটনা নয়; এমন আরও ঘটনা ঘটিয়েছে ওই সন্ত্রাসীরা। চার নম্বর আলাইয়ারপুর ইউনিয়নে কিছু প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা তাদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডারদের আওয়ামী লীগ বানিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নামে চাঁদাবাজি করছে।

বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি হারুন-উর-রশিদ চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করবে পুলিশ।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/৯ এপ্রিল

নোয়াখালী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে