Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০ , ২১ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১০-২০২০

ফুলবাড়িয়া গুচ্ছগ্রামের ৬০০ মানুষের দিন কাটছে অনাহারে

কবীর উদ্দিন সরকার হারুন


ফুলবাড়িয়া গুচ্ছগ্রামের ৬০০ মানুষের দিন কাটছে অনাহারে

ময়মনসিংহ, ১০ এপ্রিল- ছিন্নমুল মানুষের পরিবার পূর্নবাসন করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের মাধ্যমে। গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প সরকারের দারিদ্র বিমোচনে অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রকল্প হলেও ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় দুইটি ইউনিয়নের ৪টি গুচ্ছ গ্রামে অন্তত ১৫০টি পরিবারের প্রায় ৬০০ মানুষ করোনার প্রভাবে খাদ্য সংকটে এক বেলা খেয়ে না খেয়ে অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন।

সহায় সম্বলহীন এই হতদরিদ্র পরিবারগুলো করোনার প্রভাবে কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ায় খাদ্যের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। হতদরিদ্র পরিবারগুলোর অভিযোগ- সরকারের প্রশাসনের তরফ থেকে এই গুচ্ছ গ্রামগুলোতে বসবাস করা মানুষগুলোর করোনা আপদকালিন সময়ে খোঁজ-খবর নেয়ার কথা থাকলেও, প্রশাসনতো দূরের কথা স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য এবং ইউপি চেয়ারম্যানের তরফ থেকেও এখন পর্যন্ত কোন খোঁজ নেয়নি। যদিও কোন সময়েই তারা খোঁজ নেয় না বলে অভিযোগ হরিরামবাড়ি গুচ্ছগ্রামবাসীর।

উপজেলার এনায়েতপুর, কাহালগাও, সন্তোষপুর এবং হরিরামবাড়ি গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্পের আওতায় অন্তত ১৫০টি পরিবারে প্রায় ৬০০ হতদরিদ্র মানুষের বসবাস করেন। ফুলবাড়িয়া উপজেলার পাহাড়ি লাল মাটির এলাকা হওয়ায় এই গুচ্ছগ্রামের মানুষ স্থানীয় গেরস্তের জমিতে মৌসুমি সবজি হলুদ, কলা, আনারস ক্ষেতে দিনমজুরি করে তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। বর্তমানে সারাবিশ্বে করোনার প্রভাবে ব্যাপকভাবে দেখা দেওয়ায় যার বিরূপ প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশেও। যার ফলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মাঠে কাজ না থাকায় কিংবা জমির মালিকরা তাদের জমিতে কামলা না নেওয়ায় এই শত শত মানুষ এখন বেকার হয়ে বসে আছেন।

সরেজমিনে উপজেলার নাওগাও ইউনিয়নের হরিরামবাড়ি গুচ্ছগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ খাবারের জন্য বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বসে আছেন। তাদের সকলের বিশ্বাস যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্রয় দিয়েছেন সেহেতু সরকারি সংশ্লিষ্ট মহল থেকেই তাদের জন্য করোনার আপদকালিন সময়ে ত্রাণ সামগ্রি পৌঁছাবে। কিন্তু এতদিনেও সরকারের কোন মহল থেকেই এই অসহায় ক্ষুদার্ত মানুষগুলোর জন্য কোন সহায়তা আসেনি।

গুচ্ছগ্রামের এক নারী হাজেরা খাতুন বলেন, ‘ভাইগো জন্মের পরেই দেহি অভাব। বাপ-মায় অভাবের লাইগা বিয়া দিছে এক জুয়ারির লগে। কত কষ্ট যে জীবনে করছি তার শেষ নাই। কাম কইরা মায় আর পোলায় দুইডা ডাইল ভাত খায়া বাঁচতে পারতাম। অহন এই করোনার জন্য কাম করতে পারি না, ঘরে এক মুঠ চাইল নাই। এত অভাব কোন কালেই দেহি নাই। সরকারের কাছে আমগর দাবি আমগরে খাওয়ন দেন।’

এদিকে, হরিরামবাড়ি গুচ্ছ গ্রামের সভাপতি আব্দুর রশিদ ছাড়াও, সন্তোষপুর গুচ্ছগ্রামের আলমগির হোসেন, হাফিজ উদ্দিন, সুমরি বেগম,আকবর আলী এবং এনায়েতপুর ও কাহালগাও গুচ্ছ গ্রামের ওয়াজ আলী, সফর আলী, আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, করোনার কারণে আমাদের আশ্রয়দাতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের গরিব দুঃখীদের জন্যে ত্রাণের ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু আমরা ফুলবাড়িয়ার গুচ্ছ গ্রামের একজন মানুষও এখন পর্যন্ত সরকারি কোন ত্রাণ সহায়তা পেলাম না। স্থানীয় মেম্বার চেয়ারম্যান আমাদের কোন খোঁজ নেয় না। আমাদের গুচ্ছগ্রামের কোন পরিবারের এক কাঠা জমি নেই, আমরা কাজ করে ভাত খাই, আমাদের কাজ না থাকায় এখন আমরা অনাহারী অবস্থায় দিন পার করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাওগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরকারি যে ত্রাণ আমি ইউএনও স্যারের কাছ থেকে পেয়েছি তা চাহিদার তুলনায় কম। ত্রাণ ঘাটতি থাকার কারণে গুচ্ছ গ্রামের মানুষের কাছে তা পৌঁছাতে পারিনি।

এনায়েতপুর ইউনিয়ের ওয়ার্ড সদস্য সোহরাব আলী জানায়, আমার এখানে গুচ্ছ গ্রামে প্রায় ৪০টির অধিক পরিবার রয়েছে যাদের সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সামগ্রী এখনেও হতদরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে পৌঁছে দিতে পারিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল ছিদ্দিক বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে এখন অবহিত হলাম। দ্রুত চেয়ারম্যান মেম্বারদের মাধ্যমে এই গ্রামগুলোর মানুষের নামের তালিকা করে তাদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা করছি।’

সূত্র : সমকাল
এম এন  / ১০ এপ্রিল

ময়মনসিংহ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে