Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০ , ২৫ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-২১-২০২০

নগদ সহায়তায় আরো সাহসী হতে হবে

আতিউর রহমান


নগদ সহায়তায় আরো সাহসী হতে হবে

করোনা মহামারিতে সারা বিশ্ব আজ পর্যুদস্ত। এই মহাদুর্যোগে কিভাবে নাগরিকদের জীবন রক্ষা করা যায়, যাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে কিভাবে তাদের টিকে থাকতে সহায়তা করা যায়, কিভাবে অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দেওয়া যায় ইত্যাদি নিয়ে ভাবছে ছোট-বড় সব দেশ। প্রতিদিনই এ জন্য নতুন নতুন কর্মসূচি নিচ্ছে দেশগুলো। তবে এমন দুর্যোগ কেউই আগে মোকাবেলা করেনি। আর এটা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং ক্ষয়ক্ষতি কতটা হবে, তা এখনো অনুমান করা যাচ্ছে না। তা ছাড়া আমাদের দেশটা ঘনবসতিপূর্ণ। নগর দারিদ্র্য প্রকট। গরিব মানুষ বস্তিতে গাদাগাদি করে থাকে। তাদের জীবন ও জীবিকা সত্যি চ্যালেঞ্জের মুখে। তাই এর প্রভাব কাটিয়ে উঠার জন্য কোন পথে এগোনো সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনো আসেনি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাহসী আর উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোই সবচেয়ে সফল হবে। বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়। অনিশ্চয়তার শেষ নেই। কোটি কোটি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জ অস্বীকার করার উপায় নেই।

এই স্বাস্থ্যগত দুর্যোগে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে গুরুত্বের দাবি রাখে দেশের স্বাস্থ্য খাত। আমরা বরাবর এ খাতে অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অবহেলা করে এসেছি। অস্বীকার করার উপায় নেই যে সেই ধারাবাহিক অবহেলার মাসুল এখন আমাদের দিতে হচ্ছে। একেবারে সামনের সারিতে থেকে যাঁরা লড়াই করছেন, সেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা আমরা সময়মতো করতে পারিনি। আর শুরুতেই ব্যাপক হারে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষাও করা সম্ভব হয়নি। আশার কথা যে প্রাথমিক সেই সংকটগুলো আমরা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছি। শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা বাড়ানো গেছে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। তবে গতি বাড়াতে হবে আরো অনেকখানি। এই দুর্যোগ মোকাবেলার অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। এবং শুধু স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, বরং পুরো খাতটিকেই ঢেলে সাজানোকে একটি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতকে দুর্বল রেখে এবং জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দিলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি যত বেগবানই করা হোক না কেন, তা টেকসই হবে না। সে জন্য স্বাস্থ্য খাত বিষয়ক অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের নিরন্তর সংলাপ চালিয়ে যেতে হবে।

স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার পর যে বিষয়টি স্বভাবতই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে তা হলো করোনার কারণে অর্থনীতিতে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠা বা অন্তত এর ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কম রাখা। করোনার প্রাদুর্ভাবের আগেই বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করছিলেন অনেক বিশেষজ্ঞ। মহামারির ফলে তাঁরা যতটা আশঙ্কা করছিলেন তার থেকে গভীরতর সংকটে পড়েছে ছোট-বড় সব অর্থনীতি। আইএমএফ বলেছে, এ বছর বিশ্বে এবং এশিয়ায় কোনো প্রবৃদ্ধিই হবে না। আমাদের সামনেও রয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রবৃদ্ধির ব্যাপক ইতিবাচক ধারায় থাকলেও বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান দুই উৎস—আরএমজি রপ্তানি এবং রেমিট্যান্সপ্রবাহ ব্যাপক মাত্রায় সংকুচিত হতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তবে কৃষি এবং এসএমই-কে সমর্থন ঠিকমতো দিতে পারলে আমাদের প্রবৃদ্ধি মোটামুটি সন্তোষজনক থাকবে।

তবে এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, আগে মানুষকে বাঁচাতে হবে। মানুষের জন্যই অর্থনীতি, উল্টোটা নয়। কাজেই মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদে শিল্প ও সেবা খাতকে রক্ষা করতে ঋণ প্রণোদনার পাশাপাশি এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা মানুষ, বিশেষত যারা দারিদ্র্যরেখার নিচে বসবাস করে এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের ওপর নির্ভরশীল—সেসব মানুষকে বাঁচানোকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্প ও সেবা খাতের পাশাপাশি কৃষি খাতের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিপুল আকারের ঋণ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এখানে ছোট-বড় সব উদ্যোক্তাকেই বিবেচনায় রাখা হয়েছে। যথাসময়ে এবং দক্ষতার সঙ্গে এই ঋণ প্রণোদনা প্যাকেজগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব বহুলাংশে কাটিয়ে উঠা যাবে। তবে মনে রাখতে হবে, এসবই সুফল দেবে করোনা-দুর্যোগ কাটিয়ে উঠার পরে। এগুলো প্রভাব ফেলবে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায়। চলমান অর্থনৈতিক স্থবিরতায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে বহু মানুষের। এ মুহূর্তে তারা যাতে খেয়ে-পরে বাঁচতে পারে সে ব্যবস্থা করাও খুবই জরুরি। আমাদের নীতিনির্ধারকরা এদিকটি বিবেচনা করেই ত্রাণ তৎপরতা বাড়িয়েছেন, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির পরিধি বৃদ্ধি করেছেন, বিপুলসংখ্যক পরিবারের জন্য রেশন কার্ড চালুর উদ্যোগও নিয়েছেন।

অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রভাব থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য অনেক উদ্যোগ নেওয়া হলেও এদিকে আরো মনোযোগী হওয়ার এবং আরো উদ্ভাবনী ও সাহসী কর্মসূচি গ্রহণের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করি। আমাদের মনে রাখতে হবে, গ্রামে ও শহরে ‘দিন এনে দিন খায়’ এমন পরিবারগুলোর এখন কোনো আয়-রোজগার নেই। এদের মধ্যে দিনমজুর থেকে শুরু করে ছোট দোকানদাররাও রয়েছেন। পিপিআরসি ও বিআইজিডির যৌথ গবেষণা জরিপে উঠে এসেছে, দারিদ্র্যরেখার নিচে যারা বাস করছে তাদের ৪০ শতাংশ এবং দারিদ্র্যরেখার ওপরে ঝুঁকির মধ্যে থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে ৩৫ শতাংশ পরিবার এরই মধ্যে চাহিদার তুলনায় কম খাদ্য গ্রহণ করতে শুরু করেছে। দারিদ্র্যরেখার সামান্য ওপরে থাকা পরিবারগুলোরও আবার দারিদ্র্যে পতিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ করোনা-দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর তাদের আয় কমেছে ৭১ শতাংশ। অমর্ত্য সেন, রঘুরাম রাজন ও অভিজিৎ ব্যানার্জির মতো বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাশের দেশ ভারতে আয় কমে যাওয়া এবং সঞ্চয় ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যে পতিত হবে। একই ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশের মানুষও। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নীতির মাধ্যমে আমরা দারিদ্র্য প্রায় ২০ শতাংশে এবং অতিদারিদ্র্য প্রায় ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে পেরেছি। করোনার প্রভাবে বিপদে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষকে রক্ষা করতে না পারলে এ অর্জন হারানোর সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। কাজেই আমার মনে হয়, ব্যবসা-বাণিজ্যের মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার প্রণোদনার চেয়েও দরিদ্র ও দারিদ্র্যে পতিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছানো এখন বেশি জরুরি।

নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যাপক তৎপরতা দৃশ্যমান। আগামী দিনে ত্রাণ কর্মসূচি আরো ব্যাপক হবে বলেই মনে হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষিসহ খুদে ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য যেসব প্রণোদনা এর মধ্যে ঘোষিত হয়েছে, সেগুলোর সুফলও নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরে পৌঁছবে উল্লেখযোগ্য মাত্রায়। তবে এসবের পাশাপাশি দারিদ্র্যরেখার নিচে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা দেওয়াও খুবই জরুরি। কারণ প্রণোদনার সুফল তাদের কাছে পৌঁছাতে আরো সময় লাগবে। আর সাম্প্রতিক জরিপের ফলাফল এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পরিবার গুরুতর অর্থাভাবে পড়তে যাচ্ছে চলতি মাসের (এপ্রিল ২০২০) শেষেই। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের কাছে নগদ অর্থ পৌঁছানো গেলে তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে পারবে। বিশেষ করে, কৃষকদের জন্য নগদ সহায়তা খুবই জরুরি। কারণ হাতে নগদ টাকা না থাকলে তারা মাঠে থাকা ফসল কাটার জন্য শ্রমিককে পারিশ্রমিক দিতে পারবে না, আবার পরবর্তী মৌসুমে চাষ করার জন্য সার, বীজ ইত্যাদি কিনতেও ব্যর্থ হবে। এতে শুধু কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো নয়, বরং পুরো দেশের খাদ্য নিরাপত্তাই হুমকির মুখে পড়বে। অন্যদিকে কম আয়ের পরিবারগুলোর কাছে টাকা পৌঁছানো গেলে কৃষিসহ পুরো অর্থনীতিই সচল থাকবে।

স্বভাবতই প্রশ্ন আসতে পারে, এই মুহূর্তে ব্যাপক হারে নগদ সহায়তা দেওয়ার মতো সক্ষমতা আমাদের রয়েছে কি না। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে উদ্ভাবনী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতি প্রকৃত অর্থেই একটা শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে। কয়েক অর্থবছর ধরে আমাদের বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের নিচে ধরে রাখা গেছে। ফলে সরকার চাইলেই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নগদ সহায়তা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়াতে পারে। এর মধ্যেই এ লক্ষ্যে ৭৬০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। আমি নিশ্চিত, প্রয়োজন অনুসারে এ সহায়তা আরো কয়েক গুণ বাড়ানো হবে। এ জন্য বাজারে টাকার সরবরাহ বাড়ানো যেতে পারে। টাকার সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতিও খুব বাড়বে বলে মনে হয় না। সম্প্রতি অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী অভিজিৎ ব্যানার্জিও এ প্রেক্ষাপট থেকেই ভারত সরকারকে প্রয়োজনবোধে টাকা ছাপিয়ে নগদ সহায়তা হিসেবে বিপদে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছেন। একই কথা বাংলাদেশের জন্যও প্রযোজ্য। তা ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের সিএসআর কর্মসূচি সমন্বয় করে এনজিও এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে নগরের দরিদ্র মানুষকে নগদ সহায়তা দিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। সর্বোপরি জাতীয় বাজেট পুনর্বিন্যাস করার মাধ্যমেও করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য অর্থ সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে সংসদ অধিবেশনে জানিয়েছেন যে প্রয়োজনবোধে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ সরিয়ে এনে করোনা মোকাবেলার তহবিল জোগান দেওয়া হবে।

নগদ সহায়তা দেওয়ার সময় দুটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল করতে হবে। প্রথমত, শুধু দারিদ্র্যরেখার নিচে থাকা মানুষকে বিবেচনায় না রেখে দারিদ্র্যরেখার সামান্য ওপরে থাকা মানুষের কাছেও সহায়তা পৌঁছাতে হবে। কারণ তারাও নতুন করে দারিদ্র্যে পতিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্বিতীয়ত, চর, হাওর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো যেসব এলাকা দুর্গম, সেখানে বসবাসরত পরিবারগুলোর কাছে সহায়তা পৌঁছানোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। গ্রামে বা শহরে সব জায়গায়ই বিপন্ন মানুষের কাছে নগদ সহায়তা পৌঁছানো এখন অনেক সহজ। এখন নির্ভরযোগ্যভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মানুষের কাছে টাকা পাঠানো সম্ভব।

আমি বিশ্বাস করি, যদি মহামারি আর খুব বেশি দীর্ঘায়িত না হয় এবং সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলো যথাযথভাবে দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তাহলে বিশ্ব অর্থনৈতিক স্থবিরতার মধ্যেও আমাদের অর্থনীতি তুলনামূলক গতিশীল রাখা যাবে। তবে ঋণ প্রণোদনা যেন ভুল উদ্যোক্তাদের কাছে না যায়, ত্রাণ ও নগদ সহায়তার যেন সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার হয়—এসব বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে। যদি প্রথম থেকেই মানুষ বাঁচানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া যায়, আর যদি সরকারের পাশাপাশি সব অংশীজনের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে এই ঘোর দুর্যোগও কাটিয়ে উঠা যাবে।

লেখক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক  এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর।

dratiur@gmail.com

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে