Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০ , ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.1/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১৫-২০২০

সবাই বাবার আদর পায়, আমি তো বাবা বলে ডাকতে পারি না

সবাই বাবার আদর পায়, আমি তো বাবা বলে ডাকতে পারি না

গাজীপুর, ১৫ মে- ‘রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বাবা আমাকে দেখে অন্যদিকে ফিরে থাকেন। কষ্টে আমার বুকটা ফেটে যায়। সবাই বাবার আদর পায়, আমি বাবার আদর পাই না। সবাই বাবাকে বাবা বলে ডাকে, কিন্তু আমি বাবাকে বাবা বলে ডাকতে পারছি না। আমার কি অপরাধ?’

এই বলে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিনের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের শেখ আজিজুর রহমান সুমনের কিশোরী কন্যা শিমলা আক্তার (১৫)।

শুক্রবার (১৫ মে) সকালে ব্রাহ্মণগাঁও শহীদ ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার কান্নায় উপস্থিত প্রায় শতাধিক মানুষের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়। সবাই নীরবে চোখ মোছেন। কিন্তু কেউই শিমলাকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসলেন না। কারণ গত ১৫ বছর এলাকাবাসী শিমলার বাবা ও তার পরিবারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তার বাবার পরিচয় বা আদর ফিরিয়ে দিতে পারেননি। এ ব্যাপারে কেউ এগিয়ে গেলে তার বাবার সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে তাদের নানা বিপদে ফাঁসিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন তার বাবা। তাই তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এখন আর কেউ শিমলাকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসেন না। কারণ এলাকাবাসী জানেন শিমলার বাবার পরিচয় ফিরিয়ে দিতে পারবেন না।

এলাকাবাসী জানায়, ২০০৪ সালে উপজেলার ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের শেখ মোহাম্মদ আলীর ছেলে শেখ আজিজুর রহমান সুমনের সঙ্গে একই গ্রামের ছবির মোল্লার মেয়ে সাথীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সূত্রে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। কয়েকদিন পর সাথী অন্তঃসত্ত্বা হন।

বিষয়টি টের পেয়ে কেটে পড়ার চেষ্টা করেন সুমন। কিন্তু এলাকাবাসীর তোপের মুখে তা সম্ভব হয়নি। তৎকালীন কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মো. আতাউর রহমান ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানের সালিশের মাধ্যমে তাদের বিয়ে দেয়া হয়। সাথীকে বাড়ি নিয়ে যান সুমন ও তার পরিবার।

বিয়ের তিন মাসের মধ্যেই ২০০৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় একটি হাসপাতালে জন্ম হয় শিমলার। ওই সময় সুমন হাসপাতালে তার স্ত্রী ও নবজাতককে রেখে পালিয়ে যান। কিন্তু সাথীর দরিদ্র পরিবারের পক্ষে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করা সম্ভব না হওয়া থানার ওসি তা পরিশোধ করেন। নগদ কিছু অর্থ ও শিশুখাদ্য দিয়ে তাদের বাড়িতে পাঠান ওসি। এরপর থেকে স্ত্রী-কন্যার খোঁজখবর নেননি সুমন।

শিমলার নানা ছবির মোল্লা ও নানি সালেহা বেগম জানান, ওই সময় অসুস্থ মেয়ে ও নবজাতককে নিয়ে তাদের বাড়িতে ফেরার পর সুমন তাদের বাড়ি না নেয়ায় স্থানীয়রা নানা ধরনের কথা বলেছে। লজ্জা ও ভয়ে বাড়িছাড়া হয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর গাজীপুরের টঙ্গীতে ছিলেন তারা। পরিবারের খরচ ও বাড়ি ভাড়া দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বিধায় এক বছর আগে নাতনিকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসেন।

কিন্তু পুনরায় শুরু হয়েছে সুমনের হুমকি। তারা স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসায় শিমলাকে লেখাপড়া কারাচ্ছেন। সেখান থেকে এবার জেডিসি পরীক্ষা দেবে শিমলা। ইতোমধ্যে শিমলার মা সাথীর অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেছে। কিন্তু শিমলার কি হবে? তারও তো ভবিষ্যৎ আছে।

এ ব্যাপারে শিমলার বাবা শেখ আজিজুর রহমান সুমন বলেন, মেয়েকে বাবার পরিচয় দেইনি কে বলেছে? জন্ম নিবন্ধনে তো বাবা হিসেবে আমার নামই লিখছে। শুধু জন্ম নিবন্ধনে বাবার নাম লিখলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি।

তৎকালীন ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান আকন্দ ফারুক বলেন, ওই সময় স্থানীয় একটি স্কুল মাঠে সালিশে তৎকালীন ওসির ও স্থানীয় প্রায় হাজার খানেক মানুষের উপস্থিতিতে সাথীকে বিয়ে করে সুমন। কিন্তু তৎকালীন বিএনপি করা সুমন দলের প্রভাব খাটিয়ে পরে তা অস্বীকার করে। বিষয়টি অমানবিক, মেয়েটি এখন খুব অসহায়।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/১৫ মে

গাজীপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে