Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০ , ২১ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.6/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১৬-২০২০

তিস্তায় বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে সলেডি স্প্যার বাঁধ

তিস্তায় বালু উত্তোলন, ঝুঁকিতে সলেডি স্প্যার বাঁধ

লালমনিরহাট, ১৬ মে - তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে বোমা মেশিনে বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সলেডি স্প্যার বাঁধ।

অসংখ্য বোমা মেশিন ধ্বংস ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানা করেও বালু দস্যুদের কাছ থেকে কিছুতেই রক্ষা হচ্ছে না তিস্তা নদী ও নদীর তীর বাঁধসহ সলেডি স্প্যার। যার কারণে বর্ষা শুরুর আগেই ভাঙনের কবলে পড়ে গৃহহীন হচ্ছেন তিস্তা পাড়ের হাজারো মানুষ। প্রভাবশালী বালু দস্যুদের কাছে অনেকটাই নিরুপায় স্থানীয় প্রশাসন।

জানা গেছে, তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙন ও বন্যায় ফসল রক্ষায় নদীর বাম তীরে বিগত বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে লালমনিরহাটে কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি সলেডি স্প্যার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। যার ফলে ভাঙন ও বন্যা থেকে রক্ষা পায় সদর ও আদিতমারী উপজেলার নদী তীরবর্তী মানুষ। তিস্তা নদী থেকে শুষ্ক মৌসুমে ট্রাকে ও বর্ষায় বোমা মেশিনে বালু উত্তোলন করায় এসব বাঁধ ঝুঁকিতে পড়ে। যার ফলে প্রতি বছর সরকারিভাবে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধগুলো সংস্কার করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

এরপরেও থেমে নেই বালু দস্যুদের তাণ্ডব। প্রতি মাসেই ভ্রাম্যমাণ আদালতে এসব মেশিন ধ্বংসসহ মালিকদের জেল-জরিমানা করেও তাদের আগ্রাসন থেকে তিস্তা নদীকে রক্ষা করতে পারছে না জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। ফলে বাঁধসহ নদী ভাঙনের প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলছে। বর্ষা আসার আগেই ভাঙন শুরু হয়েছে তিস্তার তীরে। গত সপ্তাহে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের চন্ডিমারী গ্রামের আমিনুর ও মমিনুর রহমানের বাড়িসহ ৫/৬টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে শত শত বসতভিটা ও ফসলি জমি। ফসল ও জীবন বাঁচাতে নিজেদের উদ্যোগেও বালুর বাঁধ নির্মাণ করেছেন গোবর্দ্ধন গ্রামের হাজারো মানুষ।

চন্ডিমারী গ্রামে নির্মিত সলেডি স্প্যার বাঁধ-১ এর প্রায় একশ গজ ভাটিতে বোমা মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী মহল। যাকে উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার সতর্ক করলেও বন্ধ হয়নি বোমা মেশিনে বালু উত্তোলন। ফলে সলেডি স্প্যার বাঁধ আসন্ন বর্ষায় তিস্তায় বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় শঙ্কিত স্থানীয়রা। বোমা মেশিন বন্ধে স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেও কোনো সুফল পায়নি বলে অভিযোগ তিস্তা পাড়ের মানুষের।

ভাঙনের মুখে পড়া চন্ডিমারী গ্রামের বেলাল, মোজাম্মেল, খতিজার, আজিজুল জানান, তিস্তার ভাঙনে ২০/২৫ বার করে বসতভিটা বিলীন হয়েছে। আবারো ভাঙনের মুখে পড়েছি। করোনা ভাইরাসে কর্মহীন হওয়ায় অর্থ সংকটের মধ্যে ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা অন্যত্র বাড়ি করার জন্য বালু উত্তোলন করলে প্রশাসন এসে মেশিনে আগুন দিয়ে জেল- জরিমানা করেন। অথচ প্রভাবশালীরা বীরদর্পে মাসের পর মাস স্প্যার বাঁধের নিচ থেকে বোমা মেশিনে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। যা স্থানীয় প্রশাসনকে মোবাইলে জানিয়েও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। আইন যেন শুধু গরিবের ওপরই প্রয়োগ হয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

এমন চিত্র শুধু চন্ডিমারী সলেডি স্প্যার বাঁধে নয়। বাকি দুইটি স্প্যার বাঁধও বালু উত্তোলনের কারণে দিন তিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সময় প্রশাসন করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে ব্যস্ত থাকার সুযোগে বালু দস্যুরা লাঘামহীনভাবে চালাচ্ছেন বোমা মেশিন। তিস্তা পাড়ে বাড়ছে ভাঙন আতঙ্ক। এ থেকে রক্ষা পেতে ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, গত সপ্তাহে সলেডি স্প্যার বাঁধ-১ এর পাশে একটি মেশিন ধ্বংস করা হয়েছে। দুইটি মেশিনকে সতর্ক করা হয়েছে। সতর্ক করার পরেও চালু হওয়া মেশিনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। উপজেলার কোথাও বোমা মেশিনে বালু উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে না।

জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, এ ব্যাপারে আমি অবগত ছিলাম না। নদী ও বাঁধ রক্ষায় কোনো আপস নেই। খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র : বাংলানিউজ
এন এইচ, ১৬ মে

লালমনিরহাট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে