Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০ , ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.6/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১৮-২০২০

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে বরগুনায় বাড়ানো হচ্ছে সাইক্লোন শেল্টার

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে বরগুনায় বাড়ানো হচ্ছে সাইক্লোন শেল্টার

বরগুনা, ১৮ মে- করোনার মাঝে আঘাত হানতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফান সামলাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে উপকূলীয় জেলা বরগুনার জেলা প্রশাসনকে। বিশেষ করে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে জেলায় বাড়ানো হচ্ছে দেড় শতাধিক নতুন আশ্রয়কেন্দ্র। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ইতোমধ্যেই জেলার ছয় উপজেলায় ২৫ লাখ টাকা ও ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বরগুনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রোববার বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার একযোগে জেলার ছয়টি উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে জেলাজুড়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রচার প্রচারণা। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, রেডক্রিসেন্ট এবং সিপির সমন্বয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সতর্ক করতে জেলা জুড়ে চলছে মাইকিং।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন থেকে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা সেখানে দায়িত্ব পালন করবেন।

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টায় পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা পর্যায়ের সকল দফতরের প্রধানদের নিয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির। এরপর উপজেলার সকল জনপ্রতিনিধির ডেকে তাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন তিনি। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক উপজেলা জুড়ে শুরু হয় প্রচার-প্রচারণা।

এ বিষয় পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই আমাদের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। উপজেলার সমস্ত সাইক্লোন শেল্টারগুলোকে প্রস্তুত করেছি। উপকূলে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিয়ে আসা হবে। সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তাদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।

বরগুনার তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তালতলী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মোট ১১টি সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। কিন্তু এসব সাইক্লোন শেল্টারে সামাজিক দূরত্ব মেনে সব মানুষকে আশ্রয় দেয়া সম্ভব নয়। তাই আমরা ৪১টি স্কুলকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নিয়েছি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সাধারণ মানুষ সামাজিক দূরত্ব মেনে অবস্থান করতে পারবে। এজন্য আমরা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করেছি। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় একজন করে সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তদারকির জন্য। উপজেলায় একটি কন্ট্রোলরুম খোলার পাশাপাশি তিনটি জরুরি মোবাইল নম্বর চালু রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, তালতলীর দুর্গম এলাকাগুলোতে অবস্থানরত সাধারণ মানুষের জরুরি চলাচলের জন্য নৌযান ও যানবাহন রিকুইজিশন করা হচ্ছে। যাতে জরুরি প্রয়োজনসহ ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা যায়। এছাড়াও আমরা পর্যাপ্ত সোলার সিস্টেম সংগ্রহে রেখেছি যাতে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ না থাকলে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান বলেন, বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ইতোমধ্যে ২৫ লাখ টাকা ও ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। আমাদের পাঁচশ নয়টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে, যা এরই মধ্যে প্রস্তুত। তবে করোনভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য আমরা আরো অন্তত দেড় শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র বাড়ানোর চেষ্টা করছি।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) টিম লিডার মো. জাকির হোসেন মিরাজ বলেন, আমাদের ছয় হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী কর্মী ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন। তারা সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে করণীয় সম্পর্কে সচেতন করছেন।

সামগ্রিক প্রস্তুতির বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় আমাদের যথেষ্ঠ প্রস্তুতি রয়েছে।

কৃষকের ক্ষেতের ফসল যেন ঘরে তুলতে পারে সেজন্য তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। এছাড়াও বরগুনার সাতটি স্পটে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব বেড়িবাঁধ দ্রুত মেরামত করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জেলাজুড়ে ইতোমধ্যেই প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলায় বরগুনা জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক বলেও জানান তিনি।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/১৮ মে

বরগুনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে